কসম, কিসাস ও দিয়াত
অধ্যায়ে ফিরুন
১৬৪ হাদিস
০১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭০৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا قَطَنٌ أَبُو الْهَيْثَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَوَّلُ قَسَامَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ اسْتَأْجَرَ رَجُلاً مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ فَخِذِ أَحَدِهِمْ - قَالَ - فَانْطَلَقَ مَعَهُ فِي إِبِلِهِ فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةُ جُوَالِقِهِ فَقَالَ أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي لاَ تَنْفِرُ الإِبِلُ فَأَعْطَاهُ عِقَالاً يَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِهِ فَلَمَّا نَزَلُوا وَعُقِلَتِ الإِبِلُ إِلاَّ بَعِيرًا وَاحِدًا فَقَالَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ مَا شَأْنُ هَذَا الْبَعِيرِ لَمْ يُعْقَلْ مِنْ بَيْنِ الإِبِلِ قَالَ لَيْسَ لَهُ عِقَالٌ ‏.‏ قَالَ فَأَيْنَ عِقَالُهُ قَالَ مَرَّ بِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةَ جُوَالِقِهِ فَاسْتَغَاثَنِي فَقَالَ أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي لاَ تَنْفِرُ الإِبِلُ ‏.‏ فَأَعْطَيْتُهُ عِقَالاً فَحَذَفَهُ بِعَصًا كَانَ فِيهَا أَجَلُهُ فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ أَتَشْهَدُ الْمَوْسِمَ قَالَ مَا أَشْهَدُ وَرُبَّمَا شَهِدْتُ ‏.‏ قَالَ هَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي رِسَالَةً مَرَّةً مِنَ الدَّهْرِ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ إِذَا شَهِدْتَ الْمَوْسِمَ فَنَادِ يَا آلَ قُرَيْشٍ فَإِذَا أَجَابُوكَ فَنَادِ يَا آلَ هَاشِمٍ فَإِذَا أَجَابُوكَ فَسَلْ عَنْ أَبِي طَالِبٍ فَأَخْبِرْهُ أَنَّ فُلاَنًا قَتَلَنِي فِي عِقَالٍ وَمَاتَ الْمُسْتَأْجَرُ فَلَمَّا قَدِمَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ أَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ مَا فَعَلَ صَاحِبُنَا قَالَ مَرِضَ فَأَحْسَنْتُ الْقِيَامَ عَلَيْهِ ثُمَّ مَاتَ فَنَزَلْتُ فَدَفَنْتُهُ ‏.‏ فَقَالَ كَانَ ذَا أَهْلَ ذَاكَ مِنْكَ ‏.‏ فَمَكُثَ حِينًا ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ الْيَمَانِيَّ الَّذِي كَانَ أَوْصَى إِلَيْهِ أَنْ يُبَلِّغَ عَنْهُ وَافَى الْمَوْسِمَ قَالَ يَا آلَ قُرَيْشٍ ‏.‏ قَالُوا هَذِهِ قُرَيْشٌ ‏.‏ قَالَ يَا آلَ بَنِي هَاشِمٍ ‏.‏ قَالُوا هَذِهِ بَنُو هَاشِمٍ ‏.‏ قَالَ أَيْنَ أَبُو طَالِبٍ قَالَ هَذَا أَبُو طَالِبٍ ‏.‏ قَالَ أَمَرَنِي فُلاَنٌ أَنْ أُبَلِّغَكَ رِسَالَةً أَنَّ فُلاَنًا قَتَلَهُ فِي عِقَالٍ ‏.‏ فَأَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ اخْتَرْ مِنَّا إِحْدَى ثَلاَثٍ إِنْ شِئْتَ أَنْ تُؤَدِّيَ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ فَإِنَّكَ قَتَلْتَ صَاحِبَنَا خَطَأً وَإِنْ شِئْتَ يَحْلِفُ خَمْسُونَ مِنْ قَوْمِكَ أَنَّكَ لَمْ تَقْتُلْهُ فَإِنْ أَبَيْتَ قَتَلْنَاكَ بِهِ ‏.‏ فَأَتَى قَوْمَهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُمْ فَقَالُوا نَحْلِفُ ‏.‏ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ قَدْ وَلَدَتْ لَهُ فَقَالَتْ يَا أَبَا طَالِبٍ أُحِبُّ أَنْ تُجِيزَ ابْنِي هَذَا بِرَجُلٍ مِنَ الْخَمْسِينَ وَلاَ تُصْبِرْ يَمِينَهُ ‏.‏ فَفَعَلَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَالَ يَا أَبَا طَالِبٍ أَرَدْتَ خَمْسِينَ رَجُلاً أَنْ يَحْلِفُوا مَكَانَ مِائَةٍ مِنَ الإِبِلِ يُصِيبُ كُلُّ رَجُلٍ بَعِيرَانِ فَهَذَانِ بَعِيرَانِ فَاقْبَلْهُمَا عَنِّي وَلاَ تُصْبِرْ يَمِينِي حَيْثُ تُصْبَرُ الأَيْمَانُ ‏.‏ فَقَبِلَهُمَا وَجَاءَ ثَمَانِيَةٌ وَأَرْبَعُونَ رَجُلاً حَلَفُوا ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا حَالَ الْحَوْلُ وَمِنَ الثَّمَانِيَةِ وَالأَرْبَعِينَ عَيْنٌ تَطْرِفُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম জাহিলী যুগে যে কাসামাহ (শপথ গ্রহণ)-এর ঘটনা ঘটে, তা ছিল এইরূপ যে, কুরায়শের এক শাখা গোত্রের এক ব্যক্তি হাশিম গোত্রের এক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করার জন্য রেখেছিল। সে তার সাথে তার উটের স্থানে গেল। সেখানে অন্য এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়, সেও বনূ হাশিমেরই লোক ছিল। সেই ব্যক্তির থলির রশি ছিড়ে গিয়েছিল। সেই লোক বলল, একটি রশি দ্বারা আমার সাহায্য করুন, যেন আমি আমার থলিটি বাঁধতে পারি। এমন না হয় যে, থলির মালামাল পড়ে যায় আর সে কারণে উট ছছাটাছুটি শুরু করে দেয়। হাশিম গোত্রীয় মজুর তাকে একখানা রশি দিয়ে দিল যাতে তার থলি বাঁধতে পারে। যখন তারা অবতরণ করল সকল উট তো বাঁধা হলো কিন্তু একটি উট থেকে গেল, তা বাঁধা গেল না। যে ব্যক্তি তাকে কাজে রেখেছিল, সে জিজ্ঞাসা করলোঃ এই উটের কী হলো? একে বাঁধলে না কেন? চাকর বললোঃ এর বাঁধার রশি নেই। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ রশি কোথায় গেল? চাকর বললোঃ বনী হাশিমের এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তার থলি বাঁধার রশি ছিড়ে গিয়েছিল, সে আমাকে বললোঃ একটি রশি দিয়ে আমার সাহায্য করুন, যা দ্বারা আমি আমার থলির মুখ বন্ধ করতে পারি যাতে আমার উট পালিয়ে না যায়। আমি তাকে বাঁধার জন্য রশি দিয়ে দেই। একথা শুনেই মালিক মজুরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ফলে মজুরটি মারা যায়। সে যখন মুমূর্ষ, তখন ইয়ামনী জনৈক ব্যক্তি তার নিকট দিয়া যাচ্ছিল। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ আপনি হজ্জে যাবেন? সে বললঃ গিয়েছিলাম এবার যাব না। সে বললোঃ আপনি যখনই যাবেন, আমার একটি সংবাদ তখন পৌছাতে পারবেন কি? লোকটি বললোঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ আপনি হজ্জ মৌসুমে গেলে সেখানে হে কুরায়শ গোত্রের লোক! বলে ডাক দিবেন, তারা জবাব দিলে আবার ডাকবেন, হে হাশিম গোত্রের লোক! তারা জবাব দিলে আপনি আবু তালিব সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। তাঁকে বলবেনঃ ‘আমাকে অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে হত্যা করেছে। এই বলেই সে মৃত্যুবরণ করলো। মালিক ব্যক্তি মক্কায় আসলে আবু তালিব তাকে জিজ্ঞাসা করলঃ আমাদের লোক কোথায়? সে বললোঃ তার অসুখ হয়েছিল, আমি তার উত্তমরূপে সেবা করি, কিন্তু সে মারা যায়। আমি অবতরণ করে তাকে দাফন করি। আবু তালিব বললেনঃ তোমার থেকে সে এরূপ ব্যবহার পাওয়ারই উপযুক্ত ছিল। কিছু দিন পর ইয়ামন হতে ঐ ব্যক্তি আগমন করল, যাকে ঐ মজুর ব্যক্তি তার সংবাদ দেওয়ার ওসীয়ত করেছিল। সে বললোঃ হে কুরায়শ গোত্র! তারা বললোঃ এই যে আমরা। সে বললো, হে বনী হাশিম! তারা বললোঃ এই যে বনু হাশিমের লোক। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ আবু তালিব কোথায়? তারা বললোঃ এই যে আবু তালিব। সে বললোঃ আমাকে অমুক ব্যক্তি ওসীয়ত করেছিল, আপনাকে এই সংবাদ দেওয়ার জন্য যে, অমুক ব্যক্তি একটি রশির জন্য তাকে লাঠির আঘাতে হত্যা করেছে। আবূ তালিব সে ব্যক্তির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি আমার গোত্রের লোককে হত্যা করেছ। এখন তিনটি প্রস্তাবের একটা গ্রহণ কর। যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে দিয়াতের একশত উট দিয়ে দাও। কেননা তুমি আমাদের লোককে ভুলবশত হত্যা করেছ। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর, তা হলে তোমার গোত্রের পঞ্চাশজন লোক কসম খেয়ে বলবে যে, তুমি তাকে হত্যা করনি। যদি তুমি এর কোন শর্ত গ্রহণ না কর, তবে আমরা তোমাকে ঐ ব্যক্তির পরিবর্তে হত্যা করবো। সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট গিয়ে একথা বললো। তখন তারা বললোঃ আমরা শপথ করবো। এরপর বনূ হাশিম গোত্রের এক নারী যার সেই গোত্রে বিয়ে হয়েছিল, পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিল, আবু তালিবের নিকট এসে বললোঃ হে আবু তালিব! আমার ইচ্ছা আপনি পঞ্চাশজন লোকের একজন হিসেবে আমার এই ছেলেকে শপথ হতে নিষ্কৃতি দেবেন। আবু তালিব তা মঞ্জুর করলেন। এরপর তাদের আর এক ব্যক্তি এসে বললোঃ হে আবু তালিব! আপনি একশত উটের পরিবর্তে ৫০ লোকের শপথ নিতে চান, তাতে একজনের জন্য দুই উট পড়ে। অতএব এই দুই উট গ্রহণ করে আমাকে শপথ হতে রেহাই দিন। আবু তালিব এটাও গ্রহণ করলেন। পরে আটচল্লিশজন লোক এসে কসম করলো। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এক বছর শেষ না হতেই ঐ আটচল্লিশজন লোকের সবাই মারা গেল।
০২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭০৭
আবু সালামাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، - قَالَ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَرَّ الْقَسَامَةَ عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ‏.‏
আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক আনসারী সাহাবী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাসামাহ জাহিলী যুগে যেভাবে প্রচলিত ছিল সেভাবেই বহাল রাখেন।
০৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭০৮
it was narrated from Abu Salamah and Sulaiman bin Yasar, from some of the Companions of the Messenger of Allah, that
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْقَسَامَةَ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَقَرَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَقَضَى بِهَا بَيْنَ أُنَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ فِي قَتِيلٍ ادَّعَوْهُ عَلَى يَهُودِ خَيْبَرَ ‏.‏ خَالَفَهُمَا مَعْمَرٌ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন হাশিম (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী হতে বর্ণিত। কাসামাহ জাহিলী যুগে প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে বহাল রাখেন। তিনি আনসারদের মোকদ্দমায় কাসামাহ-এর আদেশ দেন, যখন তারা খায়বরের ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যার দাবি উত্থাপন করেছিল।
০৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭০৯
ইবনুল মুসায়্যাব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ كَانَتِ الْقَسَامَةُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ أَقَرَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَنْصَارِيِّ الَّذِي وُجِدَ مَقْتُولاً فِي جُبِّ الْيَهُودِ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ الْيَهُودُ قَتَلُوا صَاحِبَنَا ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কাসামাহ প্রচলিত ছিল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সেই আনসারীর ক্ষেত্রে আরোপ করেন, যার লাশ ইয়াহূদীদের কূপে পাওয়া গিয়েছিল, কেননা আনসার দাবি করে যে, ইয়াহূদীরা আমাদের লোককে হত্যা করেছে।
০৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১০
সাহল বিন আবি হাথমা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمَا فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ ‏.‏ فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ ثُمَّ أَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَحُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَخُوهُ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَبِّرْ كَبِّرْ ‏"‏ ‏.‏ وَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذَنُوا بِحَرْبٍ ‏"‏ ‏.‏ فَكَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏"‏ تَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لَيْسُوا مُسْلِمِينَ ‏.‏ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ بِمِائَةِ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ ‏.‏
আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... সাহল ইবন আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা তাঁদের অর্থ-কষ্টের দরুন খায়বরের দিকে রওয়ানা হন। পরে মুহায়্যিসার নিকট এক ব্যক্তি এসে বলেঃ আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল নিহত হয়েছে। আর তাকে এক অতি অন্ধকার কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। একথা শুনে মুহায়্যিসা ইয়াহুদীদের নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আল্লাহর শপথ! তোমরা তাকে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি। মুহায়্যিসা সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর মুহায়্যিসা, তার বড় ভাই হুয়ায়্যিসা এবং আবদুল্লাহ ইবন সাহল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। মুহায়্যিসা, যিনি খায়বারে ছিলেন। আগে কথা বলতে চাইলে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বড়কে আগে কথা বলতে দাও। এরপর হুয়ারিসা কথা বললেন, তারপর বললেন, মুহায়্যিসা। সব শুনে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইয়াহূদীদের উচিত তোমার ভাইয়ের দিয়াত আদায় করা, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে। তারপর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এ ব্যাপারে লিখলে তারা উত্তর দিল, আল্লাহর শপথ! আমরা হত্যা করিনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুয়ায়্যিসা, মুহায়্যিসা এবং আবদুর রহমানকে বললেনঃ আচ্ছা, এখন তোমরা শপথ করে তোমাদের ভাইয়ের হত্যার প্রমাণ দাও। তখন তাঁরা বললেনঃ না, আমরা শপথ করবো না। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ইয়াহূদীরা কসম করে বলবে যে, আমরা হত্যা করিনি, তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইয়াহূদীরা তোমরা মুসলিম নয় (তারা মিথ্যা কসম করবে)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদেরকে দিয়াত স্বরূপ একশত উট দিয়ে দেন। তারা উট নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সাহল, (রাঃ) বলেনঃ এর একটি লাল উটনী আমাকে পদাঘাত করেছিল।
০৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১১
It was narrated from Abu Laila bin 'Abdullah bin 'Abdur-Rahman bin Sahl, from Sahl bin Abi Hathmah, that
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ وَرِجَالٌ، مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ أَنَّ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ فَأَتَى يَهُودَ وَقَالَ أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ قَالُوا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ فَأَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَذَكَرَ لَهُمْ ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمُحَيِّصَةَ ‏"‏ كَبِّرْ كَبِّرْ ‏"‏ ‏.‏ يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذَنُوا بِحَرْبٍ ‏"‏ ‏.‏ فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ ‏.‏ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ بِمِائَةِ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা (রাঃ) তাদের অভাবের দরুন খায়বরে যান। এরপর মুহায়্যিসা-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে হত্যা করা হয়েছে এবং একটি অন্ধকার কূপে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। একথা শুনে মুহায়্যিসা ইয়াহুদীদের নিকট গিয়ে বললেনঃ আল্লাহ কসম! তোমরা তাকে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি। মুহায়্যিসা সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে সকল ঘটনা তাঁকে অবহিত করেন। এরপর মুহায়্যিসা, তার বড় ভাই হুওয়ায়্যিসাহ এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল মিলিত হয়ে আসেন। মুহায়্যিসা (রাঃ) খায়বরে প্রথম গমন করেন বিধায় তিনি প্রথমে কথা বলতে চাইলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বড় ভাইকে সম্মান কর। পরে হুয়ায়্যিসা সকল ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত দিয়ে দেওয়া ইয়াহুদীদের কর্তব্য, অন্যথায় তাদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হবে। এরপর (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদেরকে লিখলে তারা জবাব দেয় যে, আল্লাহর কসম! আমরা তাকে হত্যা করি নাই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুয়ায়্যিসা, মুহায়্যিসা এবং আবদুর রহমানকে বললেনঃ এখন তোমরা শপথ করে তোমাদের ভাইয়ের হত্যা প্রমাণিত কর। তাঁরা বললেনঃ আমরা শপথ করতে পারি না (কারণ আমরা চাক্ষুষ দেখিনি)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তোমাদের বিপক্ষে শপথ করবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা তো মুসলিম নয়। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিয়াত নিজেই আদায় করেন এবং একশত উট তাদের নিকট পাঠিয়ে দেন। যা নিয়ে তারা তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। সাহল বলেনঃ এর একটি লাল উটনী আমাকে পদাঘাত করেছিল।
০৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১২
It was narrated from Yahya, from Bushair bin Yasa, from Sahl bin Abi Hathmah who said - and I think he said
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ وَحَسِبْتُ قَالَ وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّهُمَا قَالاَ خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلِ بْنِ زَيْدٍ وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ حَتَّى إِذَا كَانَا بِخَيْبَرَ تَفَرَّقَا فِي بَعْضِ مَا هُنَالِكَ ثُمَّ إِذَا بِمُحَيِّصَةَ يَجِدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَتِيلاً فَدَفَنَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ وَحُوَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ - وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ - فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ قَبْلَ صَاحِبَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَبِّرِ الْكُبْرَ فِي السِّنِّ ‏"‏ ‏.‏ فَصَمَتَ وَتَكَلَّمَ صَاحِبَاهُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مَعَهُمَا فَذَكَرُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْتَلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ فَقَالَ لَهُمْ ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ صَاحِبَكُمْ أَوْ قَاتِلَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ قَالَ ‏"‏ فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَكَيْفَ نَقْبَلُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهُ عَقْلَهُ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবন আবু হাসমা এবং রাফি ইন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ একত্রে বের হন। খায়বরে পৌছলে কোন এক স্থানে তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে দেখলেন যে, তিনি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি তাকে দাফন করলেন। পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। তিনি নিজে, হুওয়ায়্যিসা ইবন মাসউদ এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল। আবদুর রহমান সকলের মধ্যে বয়সে ছােট ছিলেন। তিনি প্রথমে কথা বলতে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা বয়সে বড় তাদের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখ। তখন তিনি চুপ হয়ে যান। তখন তার সাথীদ্বয় কথা বলতে থাকেন এবং তিনিও তাদের সাথে কথা বলছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঐ স্থানের কথা বললেনঃ যেখানে আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা পঞ্চাশ ব্যক্তি কি শপথ করতে পারবে যা দ্বারা তোমরা তোমাদের অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা বললেন, তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে? তারা বললেনঃ যখন আমরা দেখিনি এবং আমরা উপস্থিতও ছিলাম না, তখন আমরা কী করে শপথ করতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশ ব্যক্তি শপথ করে তোমাদের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাক? তারা বললেনঃ আমরা কাফিরদের কসম কিরূপে বিশ্বাস করবো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থা দেখে নিজে দিয়াত আদায় করে দেন।
০৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৩
সাহল ইবনে আব হাতমাহ এবং রাফি ইবনে খাদিজ (রা.)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ أَنَّ مُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ أَتَيَا خَيْبَرَ فِي حَاجَةٍ لَهُمَا فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ أَخُوهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا عَمِّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فِي أَمْرِ أَخِيهِ - وَهُوَ أَصْغَرُ مِنْهُمْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْكُبْرَ لِيَبْدَأَ الأَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ فَتَكَلَّمَا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا ‏"‏ يُقْسِمُ خَمْسُونَ مِنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْرٌ لَمْ نَشْهَدْهُ كَيْفَ نَحْلِفُ قَالَ ‏"‏ فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ ‏.‏ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قِبَلِهِ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ فَدَخَلْتُ مِرْبَدًا لَهُمْ فَرَكَضَتْنِي نَاقَةٌ مِنْ تِلْكَ الإِبِلِ ‏.‏
আহমদ ইবন আবদা (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবন আবু হাসমা এবং রাফি' ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেনঃ মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ এবং আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল তাদের কোন প্রয়োজনে খায়বর গমন করেন। সেখানে তারা খেজুর বাগানে পৃথক হয়ে যান। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। সুতরাং তার ভাই আবদুর রহমান ইবন সাহল এবং তার দুই চাচাতো ভাই হুওয়ায়্যিসা ও মুহায়্যিসা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান তার ভাই সম্পর্কে কথা বলা শুরু করেন। আর তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে বয়সে ছােট। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যারা বয়সে বড় তাদেরপ্ রতি সম্মান প্রদর্শন কর। পরে তারা দুইজন তাদের সাথীর ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কথা বললেন, যার অর্থ হল, তোমাদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন লোক কসম করবে। তখন তারা বললেনঃ আমরা যা প্রত্যক্ষ করিনি তার উপর আমরা কিরূপ শপথ করবো? তিনি বলেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশজন শপথ করে তোমাদের দাবি হতে রেহাই পেয়ে যাবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তোমরা কাফির। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে দিয়াত আদায় করে দেন। সাহল (রাঃ) বলেন, আমি উট রাখার স্থানে গেলে যে উট আমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল তার একটি আমাকে পদাঘাত করেছিল।
০৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৪
সহী বিন আবি হাথমা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُفَضَّلِ - قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا خَيْبَرَ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ صُلْحٌ فَتَفَرَّقَا لِحَوَائِجِهِمَا فَأَتَى مُحَيِّصَةُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ وَهُوَ يَتَشَحَّطُ فِي دَمِهِ قَتِيلاً فَدَفَنَهُ ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ - وَهُوَ أَحْدَثُ الْقَوْمِ سِنًّا - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَبِّرِ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ فَسَكَتَ فَتَكَلَّمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ بِخَمْسِينَ يَمِينًا مِنْكُمْ فَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَرَ قَالَ ‏"‏ تُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَأْخُذُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ فَعَقَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ ‏.‏
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ ইবন যায়দ খায়বর গেলেন। এটা সেই সময়, যখন সেখানে সন্ধি স্থাপিত হয়ে গিয়েছিল। তারা তাদের কাজে সেখানে পরস্পর পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা আবদুল্লাহ ইবন সাহলের নিকট গিয়ে দেখতে পান যে, তিনি নিহত হয়েছেন এবং তার দেহ রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তিনি তাকে সেখানে দাফন করে মদীনায় ফিরে আসলেন। তারপর আবদুর রাহমান ইবন সাহল হুওয়ায়্যিসা ও মুহায়্যিসা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান ছিলেন সকলের ছােট। তিনি প্রথমে কথা বলতে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে বয়সে বড় তাকে সম্মান কর। সুতরাং তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তারপর অন্য দু’জন কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন কি শপথ করতে পারবে যে, যা দ্বারা তোমরা তোমাদের অভিযুক্ত ব্যক্তির কিংবা বললেন, তোমাদের লোকের হত্যাকারীকে হত্যা করার অধিকার লাভ করবে? তারা বললেনঃ আমরা সেখানে ছিলাম না এবং আমরা যখন দেখিনি, তখন আমরা কিভাবে তা করতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ইয়াহূদীদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন শপথ করবে। তারা বললেনঃ কাফিরদের শপথ আমরা কিরূপে মেনে নিতে পারি? এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
১০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৫
It was narratd that Sahl bin Abi Hatmah said
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ انْطَلَقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ إِلَى خَيْبَرَ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ صُلْحٌ فَتَفَرَّقَا فِي حَوَائِجِهِمَا فَأَتَى مُحَيِّصَةُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ وَهُوَ يَتَشَحَّطُ فِي دَمِهِ قَتِيلاً فَدَفَنَهُ ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَبِّرِ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ وَهُوَ أَحْدَثُ الْقَوْمِ فَسَكَتَ فَتَكَلَّمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ بِخَمْسِينَ يَمِينًا مِنْكُمْ وَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ أَوْ صَاحِبَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَرَ فَقَالَ ‏"‏ أَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَأْخُذُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ فَعَقَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ ইবন যায়দ খায়বর গমন করেন। খায়বরে তখন সন্ধি স্থাপিত হয়ে গেছে। সেখানে যাওয়ার পর তারা কাজে পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা আবদুল্লাহর নিকট যান। গিয়ে দেখেন তিনি নিহত অবস্থায় রক্তের মধ্যে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। তিনি তাকে দাফন করে মদীনায় ফিরে আসেন। এরপর আবদুর রহমান ইবন সাহল, হুওয়ায়্যিসা মুহায়্যিসা এবং ইবন মাসউদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। প্রথমে আবদুর রহমান কথা বলতে শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে বয়সে বড়, তাকে সম্মান কর। তিনি ছিলেন বয়সে ছােট। তিনি চুপ করলেন। এরপর তারা দু'জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বললেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশজন কি শপথ করবে যা দ্বারা তোমরা তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার করার অধিকার লাভ করবে। তারা বললেনঃ আমরা যখন দেখিনি, তখন আমরা কি করে শপথ করবো? তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশজন কসম করে তোমাদের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাফিরদের শপথ আমরা কী করে বিশ্বাস করবো? তখন তিনি নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
১১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৬
সাহল বিন আবি হাথমা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ الأَنْصَارِيَّ، وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ، خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي حَاجَتِهِمَا فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ الأَنْصَارِيُّ فَجَاءَ مُحَيِّصَةُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ أَخُو الْمَقْتُولِ وَحُوَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ حَتَّى أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْكُبْرَ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ فَتَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ وَحُوَيِّصَةُ فَذَكَرُوا شَأْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا فَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَحْضُرْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَقْبَلُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ قَالَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ بُشَيْرٌ قَالَ لِي سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ لَقَدْ رَكَضَتْنِي فَرِيضَةٌ مِنْ تِلْكَ الْفَرَائِضِ فِي مِرْبَدٍ لَنَا ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ খায়বার গমন করেন। পরে তারা উভয়ে তাদের কাজে পৃথক হয়ে যান এবং আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী নিহত হন। এরপর মুহায়্যিসা ও আবদুর রহমান, নিহত ব্যক্তির ভাই এবং হুওয়ায়্যিসা ইবন মাসউদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। আবদুর রহমান কথা বলতে উদ্যত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ বয়সে যে বড় তার সম্মান কর। তখন মুহায়িসা এবং হুওয়ায়্যিসা আবদুল্লাহ ইবন সালের ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশ ব্যক্তি শপথ কর এবং তোমাদের লোকের ঘাতকের বিচার লাভের অধিকার প্রমাণ কর। তারা বলেনঃ আমরা যখন দেখিনি এবং উপস্থিতও ছিলাম না, তখন আমরা কী করে শপথ করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তো তারা পঞ্চাশজন শপথ করে তোমাদের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তখন তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কাফিরদের শপথ আমরা কিভাবে মেনে নিতে পারি? রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দিয়াত আদায় করে দেন। সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) বলেনঃ ঐ সকল উটের একটি আমাকে আমাদের উট রাখার স্থানে পদাঘাত করেছিল।
১২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৭
সাহল বিন আবি হাথমা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ وُجِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ قَتِيلاً فَجَاءَ أَخُوهُ وَعَمَّاهُ حُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ وَهُمَا عَمَّا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْكُبْرَ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ قَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا وَجَدْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَتِيلاً فِي قَلِيبٍ مِنْ بَعْضِ قُلُبِ خَيْبَرَ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ تَتَّهِمُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَتَّهِمُ الْيَهُودَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَفَتُقْسِمُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا أَنَّ الْيَهُودَ قَتَلَتْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَكَيْفَ نُقْسِمُ عَلَى مَا لَمْ نَرَ قَالَ ‏"‏ فَتُبَرِّئُكُمُ الْيَهُودُ بِخَمْسِينَ أَنَّهُمْ لَمْ يَقْتُلُوهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَكَيْفَ نَرْضَى بِأَيْمَانِهِمْ وَهُمْ مُشْرِكُونَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ ‏.‏ أَرْسَلَهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে মৃতাবস্থায় পাওয়া গেল, তখন তার ভাই এবং দুই চাচা হুওয়ায়্যিসা এবং মুহায়্যিসা, যারা আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর চাচা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান প্রথমে কথা বলতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়সে যে বড় তাকে সম্মান কর। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা আবদুল্লাহ্ ইবন সালকে মৃতাবস্থায় পেয়েছি। আর তাকে হত্যা করে ইয়াহুদীদের এক কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কাকে সন্দেহ কর? তারা বললেনঃ ইয়াহুদীদের উপরই আমাদের সন্দেহ হয়। তিনি বললেনঃ তোমরা কি কসম করে বলতে পার যে, ইয়াহূদীরা তাকে হত্যা করেছে? তারা বললেনঃ আমরা যখন চোখে দেখিনি তখন আমরা কিরূপে কসম করতে পারি? তিনি বলেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশজন শপথ করে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। তখন তারা বললেনঃ আমরা তাদের শপথ কিরূপে বিশ্বাস করবো? কেননা তারা তো মুশরিক। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
১৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৮
বুশাইর বিন ইয়াসার (রাঃ)
قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ الأَنْصَارِيَّ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي حَوَائِجِهِمَا فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَقَدِمَ مُحَيِّصَةُ فَأَتَى هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لِيَتَكَلَّمَ لِمَكَانِهِ مِنْ أَخِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَبِّرْ كَبِّرْ ‏"‏ ‏.‏ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ فَذَكَرُوا شَأْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ قَالَ يَحْيَى فَزَعَمَ بُشَيْرٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَاهُ مِنْ عِنْدِهِ ‏.‏ خَالَفَهُمْ سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ ‏.‏
হারিস ইন মিসকীন (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ খায়বর গমন করার পর নিজ নিজ কাজের জন্য পৃথক হয়ে যান। তারপর আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। মুহায়্যিসা সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর তিনি, তাঁর ভাই হুওয়ায়্যিসা এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। আবদুর রহমান তাঁর ভাই হিসাবে প্রথমে কথা শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়সে যে বড়, তাকে সম্মান কর। তখন হুওয়ায়্যিসা এবং মুহায়্যিসা কথা বলতে শুরু করেন। তারা আবদুল্লাহ ইবন সাহলের অবস্থা বর্ণনা করলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশজন শপথ করে কি তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার লাভের অধিকার সাব্যস্ত করতে পারবে? ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া বলেছেনঃ বুশায়র মনে করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দিয়াত আদায় করে দেন।
১৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭১৯
It was narrated from Sa'eed bin 'Ubaid At-Ta'l from Bushair bin Yasar who said
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، زَعَمَ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ نَفَرًا مِنْ قَوْمِهِ انْطَلَقُوا إِلَى خَيْبَرَ فَتَفَرَّقُوا فِيهَا فَوَجَدُوا أَحَدَهُمْ قَتِيلاً فَقَالُوا لِلَّذِينَ وَجَدُوهُ عِنْدَهُمْ قَتَلْتُمْ صَاحِبَنَا قَالُوا مَا قَتَلْنَاهُ وَلاَ عَلِمْنَا قَاتِلاً ‏.‏ فَانْطَلَقُوا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ انْطَلَقْنَا إِلَى خَيْبَرَ فَوَجَدْنَا أَحَدَنَا قَتِيلاً ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْكُبْرَ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُمْ ‏"‏ تَأْتُونَ بِالْبَيِّنَةِ عَلَى مَنْ قَتَلَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا مَا لَنَا بَيِّنَةٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَيَحْلِفُونَ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ نَرْضَى بِأَيْمَانِ الْيَهُودِ ‏.‏ وَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبْطُلَ دَمُهُ فَوَدَاهُ مِائَةً مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ ‏.‏ خَالَفَهُمْ عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ ‏.‏
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সাহল ইবন আবু হাসমা নামক এক আনসারী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার গোত্রের কয়েকজন খায়বরে গমন করেন। সেখানে তারা পৃথক হয়ে যান পরে তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেলেন। তারা যে স্থানে নিহত ব্যক্তিকে পেলেন, সেখানকার লোকজনকে বললেন, তোমরা আমাদের লোককে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং হত্যাকারীকে আমরা চিনিও না। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা খায়বার গিয়েছিলাম, সেখানে আমরা আমাদের এক ব্যক্তিকে নিহত পেয়েছি। তিনি বললেনঃ বয়সে বড় ব্যক্তির সম্মান কর। তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাক্ষী উপস্থিত করতে পারবে যে, কে হত্যা করেছে? তারা বললেনঃ আমাদের কোন সাক্ষী নেই। তিনি বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তোমাদের সামনে শপথ করবে। তারা বললেন, আমরা ইয়াহূদীর শপথ বিশ্বাস করি না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঐ ব্যক্তির রক্ত বৃথা যাওয়া পছন্দ হলো না। কাজেই তিনি সাদকার উট থেকে একশত উট দিয়াত স্বরূপ তাদের দিয়ে দেন।
১৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২০
আমর ইবনু শুআইব
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ ابْنَ مُحَيِّصَةَ الأَصْغَرَ، أَصْبَحَ قَتِيلاً عَلَى أَبْوَابِ خَيْبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَقِمْ شَاهِدَيْنِ عَلَى مَنْ قَتَلَهُ أَدْفَعْهُ إِلَيْكُمْ بِرُمَّتِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمِنْ أَيْنَ أُصِيبُ شَاهِدَيْنِ وَإِنَّمَا أَصْبَحَ قَتِيلاً عَلَى أَبْوَابِهِمْ قَالَ ‏"‏ فَتَحْلِفُ خَمْسِينَ قَسَامَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ أَحْلِفُ عَلَى مَا لاَ أَعْلَمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَنَسْتَحْلِفُ مِنْهُمْ خَمْسِينَ قَسَامَةً ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَسْتَحْلِفُهُمْ وَهُمُ الْيَهُودُ فَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَتَهُ عَلَيْهِمْ وَأَعَانَهُمْ بِنِصْفِهَا ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহায়্যিসার ছােট ছেলে খায়বারের লোকালয়ের সামনে নিহত হন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি হত্যাকারী সম্পর্কে দুইজন সাক্ষী পেশ কর; আমি তাকে তার রশিসহ তোমাদের নিকট সোপর্দ করবো। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি দুইজন সাক্ষী কোথা হতে আনবো? এতো তাদের দুয়ারে মৃতাবস্থায় পতিত ছিল। তিনি বললেনঃ তবে তুমি পঞ্চাশবার শপথ করবে। তিনি বললেনঃ আমি যা জানি না, তার কসম আমি কি করে করবো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন থেকে আমরা শপথ নিই? তিনি বললেনঃ আমরা তাদের থেকে শপথ নেব, যখন তারা ইয়াহুদী? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিয়াত তাদের মধ্যে ভাগ করে দেন; আর অর্ধেক দিয়াত নিজের পক্ষ হতে দিয়ে তাদের সাহায্য করেন।
১৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২১
আব্দুল্লাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالتَّارِكُ دِينَهُ الْمُفَارِقُ ‏"‏ ‏.‏
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, তিনটি কারণ ব্যতীতঃ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, যে ব্যক্তি বিবাহের পরও ব্যভিচার করে এবং ঐ ব্যক্তি যে দীন ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিম সমষ্টি হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
১৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لأَحْمَدَ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قُتِلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُفِعَ الْقَاتِلُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِوَلِيِّ الْمَقْتُولِ ‏
"‏ أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا ثُمَّ قَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ ‏"‏ ‏.‏ فَخَلَّى سَبِيلَهُ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ فَسُمِّيَ ذَا النِّسْعَةِ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আলা ও আহমাদ ইবন হারব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক ব্যক্তি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, হত্যাকারীকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হয়। তিনি তাকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসের নিকট দিয়ে দেন। তখন হত্যাকারী বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি তাকে হত্যা করার ইচ্ছা করিনি। তিনি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে বললেনঃ যদি এই ব্যক্তি সত্যবাদী হয়, অতঃপর তুমি তাকে হত্যা কর, তবে তুমি জাহান্নামী হবে। তখন সেই ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিল। ঐ ব্যক্তি রশিতে বাঁধা ছিল, সে তার রশি টানতে টানতে চলে গেল। সেদিন হতে তাকে রশিওয়ালা ব্যক্তি বলা হতো।
১৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৩
আলকামাহ বিনওয়াইল আল-হাদরামি (রহঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، عَنْ عَوْفٍ الأَعْرَابِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جِيءَ بِالْقَاتِلِ الَّذِي قَتَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ بِهِ وَلِيُّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ قَالَ ‏"‏ أَتَقْتُلُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا ذَهَبَ دَعَاهُ قَالَ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَقْتُلُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا ذَهَبَ قَالَ ‏"‏ أَمَا إِنَّكَ إِنْ عَفَوْتَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَبُوءُ بِإِثْمِكَ وَإِثْمِ صَاحِبِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَعَفَا عَنْهُ فَأَرْسَلَهُ - قَالَ - فَرَأَيْتُهُ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... ওয়ায়ল হাযরামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ঘাতক কাউকে হত্যা করেছিল, তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হল। নিহত ব্যক্তির অভিভাবকই তাকে উপস্থিত করলো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দেবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তাকে হত্যা করবে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যাও, তাকে হত্যা কর। সে রওয়ানা হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যদি তুমি তাকে ক্ষমা কর, তবে সে তোমার গুনাহ এবং তোমার বন্ধুর গুনাহ বহন করবে। তখন সে তাকে ক্ষমা করলো এবং তাকে ছেড়ে দিল। সে ব্যক্তি তার রশি টানতে টানতে চলে গেল।
১৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৪
ওয়াইল (রা)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ أَبِي جَمِيلَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي حَمْزَةُ أَبُو عَمْرٍو الْعَائِذِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، عَنْ وَائِلٍ، قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جِيءَ بِالْقَاتِلِ يَقُودُهُ وَلِيُّ الْمَقْتُولِ فِي نِسْعَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِوَلِيِّ الْمَقْتُولِ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَقْتُلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا ذَهَبَ بِهِ فَوَلَّى مِنْ عِنْدِهِ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَقْتُلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ ‏"‏ أَمَا إِنَّكَ إِنْ عَفَوْتَ عَنْهُ يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِ صَاحِبِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَعَفَا عَنْهُ وَتَرَكَهُ فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... হামযা আবু আমর ‘আইযী (রহঃ) আলকামা ইবন ওয়ায়ল হতে এবং তিনি তার পিতা ওয়ায়ল হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস এক হতাকারীকে রশিতে বেঁধে টেনে আনে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দেবে? সে বললোঃ না। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ দিয়াত নেবে? সে বললোঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে তাকে নিয়ে যাও। যখন সে তাকে নিয়ে চললো তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি তাকে ক্ষমা করে দেবে। সে বললোঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ দিয়াত নেবে? সে বললোঃ না। আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাকে নিয়ে যাও। পরে তিনি বললেনঃ যদি তুমি তাকে ক্ষমা কর, তবে সে তোমার পাপ এবং নিহত ব্যক্তির পাপ বহন করবে। তখন সে তাকে ক্ষমা করে ছেড়ে দিল। (রাবী বলেন) আমি দেখলাম, সেরশি টানতে টানতে যাচ্ছে।
২০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৫
একটি অনুরূপ প্রতিবেদন ছিল (RA)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ مَطَرٍ الْحَبَطِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى وَهُوَ أَحْسَنُ مِنْهُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... জামি' ইবন মাতার হাবাতী আলকামা ইবন ওয়ায়ল (রাঃ) থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
২১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৬
আলকামাহ বিন ওয়াইল (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، - وَهُوَ الْحَوْضِيُّ - قَالَ حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ مَطَرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ رَجُلٌ فِي عُنُقِهِ نِسْعَةٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا وَأَخِي كَانَا فِي جُبٍّ يَحْفِرَانِهَا فَرَفَعَ الْمِنْقَارَ فَضَرَبَ بِهِ رَأْسَ صَاحِبِهِ فَقَتَلَهُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اعْفُ عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى وَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ هَذَا وَأَخِي كَانَا فِي جُبٍّ يَحْفِرَانِهَا فَرَفَعَ الْمِنْقَارَ فَضَرَبَ بِهِ رَأْسَ صَاحِبِهِ فَقَتَلَهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ اعْفُ عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى ثُمَّ قَامَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا وَأَخِي كَانَا فِي جُبٍّ يَحْفِرَانِهَا فَرَفَعَ الْمِنْقَارَ - أُرَاهُ قَالَ - فَضَرَبَ رَأْسَ صَاحِبِهِ فَقَتَلَهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ اعْفُ عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ إِنْ قَتَلْتَهُ كُنْتَ مِثْلَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَخَرَجَ بِهِ حَتَّى جَاوَزَ فَنَادَيْنَاهُ أَمَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَجَعَ فَقَالَ إِنْ قَتَلْتُهُ كُنْتُ مِثْلَهُ قَالَ ‏"‏ نَعَمِ اعْفُ ‏"‏ ‏.‏ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ حَتَّى خَفِيَ عَلَيْنَا ‏.‏
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... জামি' ইবন মাতার (রহঃ) ‘আলকামা ইবন ওয়ায়ল থেকে এবং ওয়ায়ল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি অন্য একজনকে নিয়ে আসে। সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই উভয়ে কুয়ায় কাজ করতো, হঠাৎ সে কোদাল উঠিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং তাকে হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দাও। সে ব্যক্তি অস্বীকার করলো এবং বলল, হে আল্লাহর নবী! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই কুয়া খনন করছিল। হঠাৎ সে কোদাল তুলে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং হত্যা করল। তিনি বললেন, তাকে ক্ষমা কর, কিন্তু সে অস্বীকার করল, তারপর দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই কুয়া খনন করছিল। হঠাৎ সে কোদাল তুলে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং তাকে হত্যা করল। তিনি বললেন, তাকে ক্ষমা কর। কিন্তু সে অস্বীকার করল। শেষে তিনি বললেনঃ যাও, যদি তুমি তাকে হত্যা কর, তবে তুমিও তার মত হবে। সে তাকে নিয়ে দূরে যাওয়ার পর আমরা চিৎকার করে বললামঃ তুমি কি শুনছ না রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলছেন? সে ফিরে এসে বললোঃ যদি আমি তাকে হত্যা করি তবে কি আমিও ঐরূপ হবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাকে ক্ষমা কর। এরপর সে রশি টানতে টানতে বের হল এবং আমাদের দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।
২২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৭
আলকামাহ বিন ওয়াইল (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، عَنْ سِمَاكٍ، ذَكَرَ أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ وَائِلٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ قَاعِدًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ يَقُودُ آخَرَ بِنِسْعَةٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَتَلَ هَذَا أَخِي ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَقَتَلْتَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ لَمْ يَعْتَرِفْ أَقَمْتُ عَلَيْهِ الْبَيِّنَةَ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ قَتَلْتُهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ قَتَلْتَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ نَحْتَطِبُ مِنْ شَجَرَةٍ فَسَبَّنِي فَأَغْضَبَنِي فَضَرَبْتُ بِالْفَأْسِ عَلَى قَرْنِهِ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَلْ لَكَ مِنْ مَالٍ تُؤَدِّيهِ عَنْ نَفْسِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَالِي إِلاَّ فَأْسِي وَكِسَائِي ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتُرَى قَوْمَكَ يَشْتَرُونَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنَا أَهْوَنُ عَلَى قَوْمِي مِنْ ذَاكَ ‏.‏ فَرَمَى بِالنِّسْعَةِ إِلَى الرَّجُلِ فَقَالَ ‏"‏ دُونَكَ صَاحِبَكَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا وَلَّى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنْ قَتَلَهُ فَهُوَ مِثْلُهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَدْرَكُوا الرَّجُلَ فَقَالُوا وَيْلَكَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنْ قَتَلَهُ فَهُوَ مِثْلُهُ ‏"‏ ‏.‏ فَرَجَعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حُدِّثْتُ أَنَّكَ قُلْتَ ‏"‏ إِنْ قَتَلَهُ فَهُوَ مِثْلُهُ ‏"‏ ‏.‏ وَهَلْ أَخَذْتُهُ إِلاَّ بِأَمْرِكَ فَقَالَ ‏"‏ مَا تُرِيدُ أَنْ يَبُوءَ بِإِثْمِكَ وَإِثْمِ صَاحِبِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنْ ذَاكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ذَلِكَ كَذَلِكَ ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) বলেন, আলকামা ইবন ওয়ায়ল তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে রশিতে বেঁধে টেনে নিয়ে আসল এবং বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? বাদী বললো, যদি সে স্বীকার না করে তা হলে আমি সাক্ষী আনবো। তখন সে ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিভাবে হত্যা করেছ? সে বললো, আমি এবং তার ভাই এক গাছের লাকড়ি কুড়াচ্ছিলাম। তখন সে আমাকে গালি দিল এবং আমাকে রাগিয়ে দিল। ফলে আমি তার মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট কি অর্থ-সম্পদ আছে, যা তুমি তোমার প্রাণের বিনিময়ে দিতে পার? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট একটা কম্বল এবং কুড়াল ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর, তোমার লোক তোমাকে দিয়াতের টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেবে? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার গোত্রের নিকট আমার এত মর্যাদা নেই যে, তারা আমাকে মালের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেবে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ারিসের দিকে রশি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, তাকে নিয়ে যাও। যখন সে যেতে লাগলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি সে তাকে হত্যা করে, তবে সেও তার মত হবে। লোক গিয়ে তাকে বললোঃ তোমার সর্বনাশ হোক, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সেও এইরূপ হবে। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে আসল এবং বললোঃ লোক বলছে, আপনি নাকি বলেছেন, আমি তাকে হত্যা করলে আমিও তার মত হবো? আমি তো তাকে আপনার আদেশেই নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি কি চাও যে, সে তোমার এবং তোমার এই পাপ নিজের উপর নিয়ে যাক? সে বললোঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ তাই হবে। সে বললোঃ তবে তাই হোক।
২৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৮
সিমাক বিন হারব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ وَائِلٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ قَالَ إِنِّي لَقَاعِدٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ يَقُودُ آخَرَ نَحْوَهُ ‏.‏
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... সিমাক ইবন হারব বলেন, ‘আলকামা ইবন ওয়ায়ল তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে টেনে আনে ....... অতঃপর তিনি পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭২৯
আলকামাহ বিন ওয়াইল (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ قَتَلَ رَجُلاً فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ يَقْتُلُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِجُلَسَائِهِ ‏
"‏ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ فَلَمَّا أَخْبَرَهُ تَرَكَهُ ‏.‏ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ حِينَ تَرَكَهُ يَذْهَبُ ‏.‏ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِحَبِيبٍ فَقَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَشْوَعَ قَالَ وَذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ الرَّجُلَ بِالْعَفْوِ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মামার (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন সালিম আলকামা ইবন ওয়ায়ল থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে অন্য এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসের কাছে সোপর্দ করে দিলেন যাতে সে তাকে হত্যা করে। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেনঃ নিহত ব্যক্তি এবং হত্যাকারী উভয়ে জাহান্নামে যাবে। এক ব্যক্তি ওয়ারিসকে এই সংবাদ দিল। যখন তাকে এ সংবাদ দেওয়া হলো, সে হত্যাকারীকে ছেড়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম, তাকে ছেড়ে দেয়ার পর সে রশি টানতে টানতে প্রস্থান করল। রাবী ইসমাঈল বলেন, আমি হাবীবের নিকট এই হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার নিকট সাঈদ ইবন আশওয়া বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন।
২৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩০
আনস বিন মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى بِقَاتِلِ وَلِيِّهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اعْفُ عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى فَقَالَ ‏"‏ خُذِ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَذَهَبَ فَلُحِقَ الرَّجُلُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ اقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَمَرَّ بِيَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ‏.‏
ঈসা ইবন ইউনুস (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার এক ঘনিষ্ঠজনের হত্যাকারীকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দাও। সে ব্যক্তি তা অস্বীকার করল। তিনি বললেনঃ যাও তাকে হত্যা কর, আর তুমিও তার মত হবে। সে চলে গেল। এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হয়ে বললোঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তুমি তাকে হত্যা কর তবে তুমিও তার মত হবে। একথা শুনে ঐ ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দিল। তখন সে আমার সামনে দিয়ে রশি টেনে নিয়ে চলে গেল।
২৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩১
আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ, পিতা (রহঃ) থেকে
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ قَتَلَ أَخِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ كَمَا قَتَلَ أَخَاكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ اتَّقِ اللَّهَ وَاعْفُ عَنِّي فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأَجْرِكَ وَخَيْرٌ لَكَ وَلأَخِيكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏.‏ قَالَ فَخَلَّى عَنْهُ قَالَ فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ لَهُ قَالَ فَأَعْنَفَهُ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُ كَانَ خَيْرًا مِمَّا هُوَ صَانِعٌ بِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ يَا رَبِّ سَلْ هَذَا فِيمَ قَتَلَنِي ‏"‏ ‏.‏
হাসান ইবন ইসহাক মারওয়াযী (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও, তুমিও তাকে হত্যা কর, যেমন সে তোমার ভাইকে হত্যা করেছে। সেই ব্যক্তি বললোঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে ক্ষমা করে দাও, তোমার অনেক সওয়াব হবে, আর কিয়ামতের দিন তোমার এবং তোমার ভাই-এর জন্য উত্তম হবে। একথা শুনে সে হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা জানতে পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে, সে যা করেছিল, তা বর্ণনা করলো। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হত্যাকারীকে) তিরস্কার করে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সে অর্থাৎ নিহত ব্যক্তি তোমার সাথে যা করবে, তার চেয়ে এটাই (অর্থাৎ শাস্তি গ্রহণই) তোমার পক্ষে শ্রেয় ছিল। সে বলবে, হে আল্লাহ! তাকে জিজ্ঞাসা করুন, সে আমাকে কেন হত্যা করেছিল?
২৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩২
সিমাক, 'ইক্রিমাহ (রা) থেকে
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ صَالِحٍ - عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ قُرَيْظَةُ وَالنَّضِيرُ وَكَانَ النَّضِيرُ أَشْرَفَ مِنْ قُرَيْظَةَ وَكَانَ إِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْظَةَ رَجُلاً مِنَ النَّضِيرِ قُتِلَ بِهِ وَإِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ أَدَّى مِائَةَ وَسْقٍ مِنْ تَمْرٍ فَلَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ فَقَالُوا ادْفَعُوهُ إِلَيْنَا نَقْتُلْهُ ‏.‏ فَقَالُوا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَأَتَوْهُ فَنَزَلَتْ ‏{‏ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ ‏}‏ وَالْقِسْطُ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ ثُمَّ نَزَلَتْ ‏{‏ أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ‏}‏ ‏.‏
কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) ইকরিমা (রহঃ) হতে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, কুরায়যা ও নয়ীর ইয়াহুদীদের দুটি গোত্র। এদের মধ্যে বনূ নযীর গোত্র বনু কুরায়য়া গোত্র থেকে মর্যাদাশালী ছিল। বনূ কুরায়যার কোন ব্যক্তি বনূ নযীরের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হতো। কিন্তু বনূ নযীরের কোন ব্যক্তি বনূ কুরায়যার কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে রক্তপণ স্বরূপ সে একশত ওসাক খেজুর আদায় করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়তের পর বনূ নযীরের এক ব্যক্তি কুরায়যার এক ব্যক্তিকে হত্যা করল। তখন বনু কুরায়যার লোকেরা বললঃ হত্যাকারীকে আমাদের হাওলা কর, আমরা তাকে হত্যা করবো। বনূ নযীরের লোকেরা বললোঃ তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। তারা তাঁর নিকট আসলে, তখন আয়াত নাযিল হলোঃ “যদি আপনি কাফিরদের মধ্যে মীমাংসা করেন, তবে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করবেন,” আর ইনসাফ হলো প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ নেয়া। এরপর নাযিল হলোঃ “তারা কি অজ্ঞতার যুগের রেওয়াজ পছন্দ করছে?”
২৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৩
দাউদ হিন আল-হুসাইন, ইকরিমা থেকে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الآيَاتِ الَّتِي، فِي الْمَائِدَةِ الَّتِي قَالَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ‏}‏ إِلَى ‏{‏ الْمُقْسِطِينَ ‏}‏ إِنَّمَا نَزَلَتْ فِي الدِّيَةِ بَيْنَ النَّضِيرِ وَبَيْنَ قُرَيْظَةَ وَذَلِكَ أَنَّ قَتْلَى النَّضِيرِ كَانَ لَهُمْ شَرَفٌ يُودَوْنَ الدِّيَةَ كَامِلَةً وَأَنَّ بَنِي قُرَيْظَةَ كَانُوا يُودَوْنَ نِصْفَ الدِّيَةِ فَتَحَاكَمُوا فِي ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ذَلِكَ فِيهِمْ فَحَمَلَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْحَقِّ فِي ذَلِكَ فَجَعَلَ الدِّيَةَ سَوَاءً ‏.‏
উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ (রহঃ) ... দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার আয়াতঃ “তারা যদি তোমার কাছে আসে, তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো, অথবা তাদেরকে উপেক্ষা করো। তুমি যদি তাদেরকে উপেক্ষা কর, তবে তারা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি বিচার-নিষ্পত্তি কর তবে ন্যায়বিচার করো। আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।” (৫ : ৪২) বনূ নযীর এবং বনু কুরায়যার রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। যেহেতু বনী নযীর গোত্র ছিল মর্যাদাশালী, তাই তাদের কোন ব্যক্তি নিহত হলে তারা পূর্ণ রক্তপণ আদায় করত, আর যদি কুরায়যার কোন ব্যক্তি নিহত হতো তবে তারা অর্ধ রক্তপণ পেত। এরপর তারা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মীমাংসা প্রার্থী হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং দিয়াত সমান করে দেন।
২৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৪
কাইস বিন উবাদ (রাঃ)
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَالأَشْتَرُ، إِلَى عَلِيٍّ رضى الله عنه فَقُلْنَا هَلْ عَهِدَ إِلَيْكَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً قَالَ لاَ إِلاَّ مَا كَانَ فِي كِتَابِي هَذَا ‏.‏ فَأَخْرَجَ كِتَابًا مِنْ قِرَابِ سَيْفِهِ فَإِذَا فِيهِ ‏
"‏ الْمُؤْمِنُونَ تَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ أَلاَ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ بِعَهْدِهِ مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا فَعَلَى نَفْسِهِ أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... কায়স ইবন উবাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আশতার (রহঃ) আলী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে, জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমন কিছু আপনাকে বলেছেন, যা সাধারণভাবে কাউকে বলেন নি? তিনি বললেনঃ না, আমার এই কাগজে যা লিখিত আছে, তা ব্যতীত আর কিছুই তিনি বলেন নি। একথা বলে তিনি তাঁর তলোয়ারের খাপ হতে লিখিত এক টুকরা কাগজ বের করেন। তাতে লেখা ছিলঃ মুসলিমের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, আর তারা অমুসলিমদের ব্যাপারে একটি হাতের মত। মুসলিমদের পক্ষ হতে একজন সাধারণ লোকও কাউকে আশ্রয় দান করতে পারে যা সকলের জন্য রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। জেনে রাখ, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাকে তার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় হত্যা করা যাবে না। যে ব্যক্তি ধর্মে কোন প্রকার বিদ'আত প্রতিষ্ঠা করবে, এর পাপ তার উপর বর্তাবে। যদি কোন ব্যক্তি কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতা এবং সকল লোকের অভিসম্পাত।
৩০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৫
আলী, আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন (রাঃ)
أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ الْمُؤْمِنُونَ تَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ ‏"‏ ‏.‏
আবু বকর ইবন আলী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, অমুসলিমদের ব্যাপারে তারা একটি হাতের ন্যায়। তাদের পক্ষ হতে একজন সাধারণ মুসলিমও কাউকে আশ্রয়দানের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে (যা রক্ষা করা) সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। জেনে রাখ, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর মুসিলম রাষ্ট্রের সাথে যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাকেও তার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় হত্যা করা যাবে না।
৩১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৬
সামুরাহ (রা)
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، - هُوَ الْمَرْوَزِيُّ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَهُ جَدَعْنَاهُ وَمَنْ أَخْصَاهُ أَخْصَيْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏
মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করলে আমরা তাকে হত্যা করবো। আর যদি কোন ব্যক্তি তার দাসের নাক-কান কেটে দেয়, আমরা তার নাক-কান কেটে দেব। যদি কোন ব্যক্তি তার দাসকে খাসি করে দেয়, তবে আমরা তাকে খাসি করে দেব।
৩২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৭
সামুরাহ (রা)
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏
নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করলে আমরা তাকে হত্যা করবো। আর যদি দাসের নাক-কান কাটে, আমরা তার নাক-কান কেটে দেব।
৩৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৮
সামুরাহ (রা)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ তার দাসকে হত্যা করলে, আমরা তাকে হত্যা করব, আর কেউ তার দাসের নাক কান কাটলে, আমরা তার নাক কান কেটে দেব।
৩৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৩৯
আমর বিন দিনার (রাঃ)
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، رضى الله عنه أَنَّهُ نَشَدَ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَامَ حَمَلُ بْنُ مَالِكٍ فَقَالَ كُنْتُ بَيْنَ حُجْرَتَىِ امْرَأَتَيْنِ فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِمِسْطَحٍ فَقَتَلَتْهَا وَجَنِينَهَا فَقَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي جَنِينِهَا بِغُرَّةٍ وَأَنْ تُقْتَلَ بِهَا ‏.‏
ইউসুফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মীমাংসা কী ছিল, তিনি তা জানতে চাইলেন। তখন হামল ইবন মালিক দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি দুই নারীর বাসস্থানের মধ্যস্থলে ছিলাম। এমন সময় একজন নারী অন্যজনকে তার তাবুর লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল এবং তার পেটের সন্তানকেও হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের বদলে এক দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ করেন এবং নারীর পরিবর্তে ঐ নারীকে হত্যা করার আদেশ দেন।
৩৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪০
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدَةُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه أَنَّ يَهُودِيًّا، قَتَلَ جَارِيَةً عَلَى أَوْضَاحٍ لَهَا فَأَقَادَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَا ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী একটি বালিকাকে তার রূপার অলঙ্কারের জন্য হত্যা করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বালিকার কিসাস স্বরূপ সেই ইয়াহূদীকে হত্যার আদেশ দেন।
৩৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪১
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ يَهُودِيًّا، أَخَذَ أَوْضَاحًا مِنْ جَارِيَةٍ ثُمَّ رَضَخَ رَأْسَهَا بَيْنَ حَجَرَيْنِ فَأَدْرَكُوهَا وَبِهَا رَمَقٌ فَجَعَلُوا يَتَّبِعُونَ بِهَا النَّاسَ هُوَ هَذَا هُوَ هَذَا قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারাক (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী এক বালিকার রূপার অলঙ্কার কেড়ে নিল এবং পরে তাকে দুইটি পাথরের মাঝে রেখে তার মাথা চূর্ণ করলো। লোকজন এসে দেখলো, তার নিঃশ্বাস তখনও অবশিষ্ট রয়েছে। লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলোঃ তোমাকে কি ঐ ব্যক্তি মেরেছে? ঐ ব্যক্তি মেরেছে? অবশেষে ঐ ইয়াহূদীর নাম আসতেই সে বললোঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে চূর্ণ করে দেওয়া হয়।
৩৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجَتْ جَارِيَةٌ عَلَيْهَا أَوْضَاحٌ فَأَخَذَهَا يَهُودِيٌّ فَرَضَخَ رَأْسَهَا وَأَخَذَ مَا عَلَيْهَا مِنَ الْحُلِيِّ فَأُدْرِكَتْ وَبِهَا رَمَقٌ فَأُتِيَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ مَنْ قَتَلَكِ فُلاَنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ بِرَأْسِهَا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فُلاَنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حَتَّى سَمَّى الْيَهُودِيَّ قَالَتْ بِرَأْسِهَا نَعَمْ فَأُخِذَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ ‏.‏
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বালিকা রূপার অলঙ্কার পরিহিত অবস্থায় বের হলে এক ইয়াহুদী তাকে ধরল। তারপর তার মাথা দুটি পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল এবং তার শরীরের অলঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে গেল। লোকজন এসে তাকে এমন অবস্থায় পেল যে, তখনও তার নিঃশ্বাস অবশিষ্ট আছে। তারা তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলে তিনি বললেনঃ তোমাকে কে আঘাত করেছে? অমুক ব্যক্তি। সে মাথার ইশারায় বললোঃ না, আল্লাহর কসম! তিনি বললেনঃ অমুক ব্যক্তি? শেষ পর্যন্ত তিনি আঘাতকারী ইয়াহুদীর নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে তার মাথার ইশারায় বললোঃ হ্যাঁ। ঐ লোকটি ধৃত হলে তা সে স্বীকার করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে দুই প্রস্তরের মধ্যে রেখে তার মাথা চূর্ণ করা হয়।
৩৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৩
মুমিনদের মাতা আয়েশা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏
"‏ لاَ يَحِلُّ قَتْلُ مُسْلِمٍ إِلاَّ فِي إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ زَانٍ مُحْصَنٍ فَيُرْجَمُ وَرَجُلٌ يَقْتُلُ مُسْلِمًا مُتَعَمِّدًا وَرَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ الإِسْلاَمِ فَيُحَارِبُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولَهُ فَيُقْتَلُ أَوْ يُصَلَّبُ أَوْ يُنْفَى مِنَ الأَرْضِ ‏"‏ ‏.‏
আহমদ ইবন হাফস ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিন অবস্থার কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়। প্রথমত বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যদি সে ব্যভিচার করে, তখন তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা হবে; দ্বিতীয়ত ঐ ব্যক্তি, যে কোন মুসলিমকে স্বেচ্ছায় হত্যা করে; তৃতীয়ত ঐ ব্যক্তি যে ইসলাম হতে বের হয়ে যায় এবং পরে আল্লাহ্ তা'আলা এবং আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাকে হত্যা করা হবে বা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা দেশান্তর করা হবে।
৩৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৪
আল-শা'বি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، يَقُولُ سَأَلْنَا عَلِيًّا فَقُلْنَا هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَىْءٌ سِوَى الْقُرْآنِ فَقَالَ لاَ وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِلاَّ أَنْ يُعْطِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدًا فَهْمًا فِي كِتَابِهِ أَوْ مَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ ‏.‏ قُلْتُ وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ قَالَ فِيهَا ‏
"‏ الْعَقْلُ وَفِكَاكُ الأَسِيرِ وَأَنْ لاَ يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আমরা আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার নিকট কি কুরআন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন অন্য বাণী রয়েছে। তিনি বললেনঃ না, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! যিনি বীজ বিদীর্ণ করে অঙ্কুর বের করে থাকেন এবং জীবন দান করেন। তবে হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা'আলা কোন বান্দাকে তাঁর কিতাবের যে বুঝ-সমঝ দান করেন অথবা যা এ সহীফায় রয়েছে সেটা ভিন্ন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ঐ সহীফায় কী রয়েছে। তিনি বললেনঃ তাতে রয়েছে দিয়াতের আহকাম, দাসমুক্ত করার বর্ণনা এবং আরো রয়েছে, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না।
৪০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৫
আবি হাসান (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ دُونَ النَّاسِ إِلاَّ فِي صَحِيفَةٍ فِي قِرَابِ سَيْفِي ‏.‏ فَلَمْ يَزَالُوا بِهِ حَتَّى أَخْرَجَ الصَّحِيفَةَ فَإِذَا فِيهَا ‏
"‏ الْمُؤْمِنُونَ تَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইব্ন বাশশার (রহঃ) ... আবু হাসসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কিছু বলেন নি যা তিনি অন্যান্য লোকের নিকট বলেন নি; তবে আমার তলোয়ারের খাপে যে লিখা রয়েছে, তা ব্যতীত। জনগণ তার পিছু ছাড়লেন না। পরে তিনি সেই লিখা বের করলেন। দেখা গেল, তাতে লিখিত রয়েছে যে, মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও কাউকে আশ্রয় দিতে পারে, মুসলিমগণ অমুসলিমদের ব্যাপারে এক হাতের ন্যায়, আর কোন মুসলিমকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর নিজের ওয়াদার উপর স্থির কোন যিম্মীকে হত্যা করা যাবে না।
৪১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৬
It was narrataed from Al-Ashtar that he said to 'Ali
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ الأَعْرَجِ، عَنِ الأَشْتَرِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَلِيٍّ إِنَّ النَّاسَ قَدْ تَفَشَّغَ بِهِمْ مَا يَسْمَعُونَ فَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهِدَ إِلَيْكَ عَهْدًا فَحَدِّثْنَا بِهِ ‏.‏ قَالَ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهْدًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ غَيْرَ أَنَّ فِي قِرَابِ سَيْفِي صَحِيفَةً فَإِذَا فِيهَا ‏
"‏ الْمُؤْمِنُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ ‏"‏ ‏.‏ مُخْتَصَرٌ ‏.‏
আহমদ ইবন হাফ (রহঃ) ... মালিক আশতার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ মানুষ (আপনার কাছ থেকে জ্ঞান-প্রজ্ঞার) বিপুল কথা শুনে থাকে। যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে খাস কিছু বলে থাকেন, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তখন আলী (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কিছু বলেন নি, যা তিনি অন্যান্য লোককে বলেন নি। তবে আমার তলোয়ারের খাপে যা রয়েছে তা ব্যতীত। দেখা গেল, তাতে রয়েছেঃ মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, একজন সাধারণ মুসলিম একজন কাফিরকে আশ্রয় দিতে পারে, আর কোন মুসলিমকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর না ঐ যিম্মীকে হত্যা করা যাবে যে তার ওয়াদার উপর স্থির রয়েছে।
৪২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৭
আবু বাকরাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عُيَيْنَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، قَالَ أَبُو بَكْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।
৪৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৮
আবু বাকরাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ الأَعْرَجِ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ ثُرْمُلَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا مُعَاهِدَةً بِغَيْرِ حِلِّهَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ أَنْ يَشُمَّ رِيحَهَا ‏"‏ ‏.‏
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের সুবাস গ্রহণও হারাম করে দেবেন।
৪৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৪৯
It was narrated from Al-Qasim bin Al-Mukhaimirah, from a man among the Companions of the Prophet, that the Prophet said
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ لَمْ يَجِدْ رِيحَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ سَبْعِينَ عَامًا ‏"‏ ‏.‏
মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... কাসিম ইবন মুখায়মারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী থেকে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ সত্তর বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
৪৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫০
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دُحَيْمٌ قَالَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمْرٍو - عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ لَمْ يَجِدْ رِيحَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا ‏"‏ ‏.‏
আবদুর রহমান ইবন ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
৪৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫১
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ غُلاَمًا، لأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلاَمٍ لأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ شَيْئًا ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন গরীব লোকের একটি গোলাম ছিল, সে ধনীদের এক দাসের কান কেটে ফেলে। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি তার জন্য কিছুই সাব্যস্ত করেন নি।
৪৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو خَالِدٍ، سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْقِصَاصِ فِي السِّنِّ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ ‏"‏ ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতের ব্যাপারে কিসাসের আদেশ দেন। তিনি বলেনঃ কিসাস হচ্ছে আল্লাহর বিধান।
৪৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫৩
সামুরাহ (রা)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার দাসকে হত্যা করবে, আমরা তাকে হত্যা করবো ; আর যে ব্যক্তি তার দাসের অঙ্গ কাটবে, আমরা তার অঙ্গ কাটবো।
৪৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫৪
সামুরাহ (রা)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ خَصَى عَبْدَهُ خَصَيْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّفْظُ لاِبْنِ بَشَّارٍ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে খাসি করবে, আমরা তাকে খাসি করে দেব এবং যে ব্যক্তি তার দাসের কোন অঙ্গ কাটবে, আমরা তার অঙ্গ কাটবো।
৫০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৫/৪৭৫৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُخْتَ الرُّبَيِّعِ أُمَّ حَارِثَةَ، جَرَحَتْ إِنْسَانًا فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْقِصَاصَ الْقِصَاصَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ الرُّبَيِّعِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُقْتَصُّ مِنْ فُلاَنَةَ لاَ وَاللَّهِ لاَ يُقْتَصُّ مِنْهَا أَبَدًا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ سُبْحَانَ اللَّهِ يَا أُمَّ الرُّبَيِّعِ الْقِصَاصُ كِتَابُ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ وَاللَّهِ لاَ يُقْتَصُّ مِنْهَا أَبَدًا ‏.‏ فَمَا زَالَتْ حَتَّى قَبِلُوا الدِّيَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ‏"‏ ‏.‏
আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রুবায়্যি এর বোন উম্মে হারিসা এক ব্যক্তিকে যখম করে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। তিনি বলেনঃ কিসাস নেয়া হবে। তখন রুবায়্যির মা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার থেকে কী বদলা নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তার থেকে কখনও বদলা নেয়া যাবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! রুবায়্যি-এর মা! কিসাস নেয়া তো আল্লাহর বিধান। সে বললোঃ আল্লাহর শপথ! তার নিকট হতে কখনও কিসাস নেয়া যাবে না; এরূপ বলতে থাকলো। এমনকি তারা দিয়াত কবূল করে নিল। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কিছু বান্দা এমনও রয়েছে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা করে কোন শপথ করে বসে, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তা শপথ সত্যে পরিণত করে দেন।