বিচারকের আদব
অধ্যায়ে ফিরুন
৪৯ হাদিস
০১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৭৯
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রা.)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَلَى يَمِينِ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا ‏"‏‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ فِي حَدِيثِهِ ‏"‏ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ ‏"‏‏.‏
কুতায়বা ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুবিচারক লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাঁর ডান হাতের দিকে নূরের মিম্বরের উপর উপবিষ্ট থাকবে। যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবারে ও দায়িত্বভুক্ত বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করে। রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) তাঁর হাদীসে বলেনঃ আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাত।
০২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ فِي خَلاَءٍ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ وَرَجُلٌ كَانَ قَلْبُهُ مُعَلَّقًا فِي الْمَسْجِدِ وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ إِلَى نَفْسِهَا فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا صَنَعَتْ يَمِينُهُ ‏"‏‏.‏
সুওয়ায়দ ইবন নসর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন সাত ব্যক্তিকে তাঁর ছায়ায় স্থান দান করবেন, যে দিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। সুবিচারক শাসক; ঐ যুবক যে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতে বর্ধিত হয়েছে; ঐ ব্যক্তি যে নিভৃতে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু বিসর্জন করে; ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে; ঐ দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর জন্য একে অন্যকে ভালবাসে; ঐ ব্যক্তি, যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকে আর সে বলে, আমি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করি; আর ঐ ব্যক্তি, যে সাদকা করে এমন গোপনে যে, তার বাম হাত জানে না, তার ডান হাত কী করেছে।
০৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ، ‏{‏بْنِ‏}‏ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا اجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ ‏"‏‏.‏
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন শাসক তার আদেশ জারি করে আর তাতে সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছার চেষ্টা করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হয়, তার জন্য দুইটি পুণ্য রয়েছে। আর যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করার পরও তার ভুল হয়ে যায়, তবুও তার জন্য একটি পুণ্য রয়েছে।
০৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮২
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَتَانِي نَاسٌ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ فَقَالُوا اذْهَبْ مَعَنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ لَنَا حَاجَةً‏.‏ فَذَهَبْتُ مَعَهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَعِنْ بِنَا فِي عَمَلِكَ‏.‏ قَالَ أَبُو مُوسَى فَاعْتَذَرْتُ مِمَّا قَالُوا وَأَخْبَرْتُ أَنِّي لاَ أَدْرِي مَا حَاجَتُهُمْ فَصَدَّقَنِي وَعَذَرَنِي‏.‏ فَقَالَ ‏
"‏ إِنَّا لاَ نَسْتَعِينُ فِي عَمَلِنَا بِمَنْ سَأَلَنَا ‏"‏‏.‏
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আশআর গোত্রের কিছু লোক এসে বললো, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে চল, আমাদের প্রয়োজন রয়েছে। আমি তাদের সাথে গেলাম। তারা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কোন কাজে আমাদের সাহায্য গ্রহণ করুন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাদের এই আবদার শুনে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি জানি না তারা আপনার নিকট এই উদ্দেশ্যে আগমন করেছে। তা হলে আমি তাদের সাথে আসতাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি সত্যই বলেছেন, আর তিনি আমার ওযর গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন পদের প্রার্থী হয়, আমরা তাকে কাজে নিযুক্ত করি না।
০৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৩
উসাইদ বিন হুদাইর (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يُحَدِّثُ عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلاَ تَسْتَعْمِلْنِي كَمَا اسْتَعْمَلْتَ فُلاَنًا قَالَ ‏
"‏ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ ‏"‏‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক আনসার ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আপনি আমাকে কোন কাজে নিযুক্ত করেন না, অথচ আপনি অমুক ব্যক্তিকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার পরে তোমরা দেখতে পাবে যে, তোমাদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, যতক্ষণ না তোমরা আমার সাথে হাওযে কাওসারে মিলিত হবে।
০৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৪
আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، ح وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا ‏"‏‏.‏
মুজাহিদ ইবন মূসা ও আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নেতৃত্ব প্রার্থনা করবে না। কেননা যদি তুমি তা চেয়ে নাও, তবে তোমাকে তার উপর ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি তা তোমাকে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাকে সাহায্য করা হবে।
০৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإِمَارَةِ وَإِنَّهَا سَتَكُونُ نَدَامَةً وَحَسْرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَنِعْمَتِ الْمُرْضِعَةُ وَبِئْسَتِ الْفَاطِمَةُ ‏"‏‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমরা শাসক হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করে থাক। অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জা এবং আফসোসের কারণ হবে। এটা উত্তম স্তন্যদায়িনী কিন্তু সেই সংগে নির্মম দুধ বন্ধকারিণী।
০৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৬
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَدِمَ رَكْبٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَمِّرِ الْقَعْقَاعَ بْنَ مَعْبَدٍ‏.‏ وَقَالَ عُمَرُ رضى الله عنه بَلْ أَمِّرِ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ‏.‏ فَتَمَارَيَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَنَزَلَتْ فِي ذَلِكَ ‏{‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَىِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ‏}‏ حَتَّى انْقَضَتِ الآيَةُ ‏{‏وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ‏}‏‏.‏
হাসান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তামীম গোত্রের একদল আরোহী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কা'কা' ইবন মা'বাদকে শাসক নিযুক্ত করুন; উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আকরা ইবন হাবিসকে নিযুক্ত করুন। পরে তাঁরা বাদানুবাদে লিপ্ত হলে তাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। তখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না। ..... যদি তারা আপনার বের হওয়া পর্যন্ত সবর করতো, তবে তাদের জন্য উত্তম হতো। (হুজুরাতঃ ১–৫)।
০৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৭
শুরাইহ বিন হানি' (রাঃ)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، وَهُوَ ابْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ ‏{‏عَنْ أَبِيهِ،‏}‏ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِيهِ، هَانِئٍ أَنَّهُ لَمَّا وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَهُ وَهُمْ يَكْنُونَ هَانِئًا أَبَا الْحَكَمِ فَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ فَلِمَ تُكَنَّى أَبَا الْحَكَمِ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَىْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ فَرَضِيَ كِلاَ الْفَرِيقَيْنِ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا فَمَا لَكَ مِنَ الْوُلْدِ ‏"‏‏.‏ قَالَ لِي شُرَيْحٌ وَعَبْدُ اللَّهِ وَمُسْلِمٌ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ شُرَيْحٌ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ ‏"‏‏.‏ فَدَعَا لَهُ وَلِوَلَدِهِ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... শুরায়হ্ ইবন হানী (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি শুনতে পেলেন, লোকে হানীকে আবুল হাকাম বলে ডাকছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা হাকাম অর্থাৎ বিচারক, ফয়সালা দান তারই এখতিয়ারে। কিন্তু লোক তোমাকে আবুল হাকাম বলে কেন? তিনি বললেনঃ আমার গোত্রের লোক যখন কোন ব্যাপারে কলহ করে, তখন তারা আমার নিকট বিচারপ্রার্থী হয়; আর আমি যে রায় দেই, তারা তা মেনে নেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরচেয়ে ভাল কাজ আর হতে পারে? আচ্ছা তোমার কয়টি সন্তান? তিনি বললেনঃ আমার ছেলে-শুরায়হ, আবদুল্লাহ এবং মুসলিম। তিনি বললেনঃ এদের মধ্যে বড় কে? হানী বললেনঃ শুরায়হ্! তিনি বললেনঃ তবে তুমি আবূ শুরায়হ্! পরে তিনি তাঁর জন্য এবং তাঁর ছেলেদের জন্য দু'আ করলেন।
১০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৮
আবু বাকরাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ عَصَمَنِي اللَّهُ بِشَىْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا هَلَكَ كِسْرَى قَالَ ‏"‏ مَنِ اسْتَخْلَفُوا ‏"‏‏.‏ قَالُوا بِنْتَهُ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمُ امْرَأَةً ‏"‏‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে এমন এক কথার দ্বারা রক্ষা করেছেন, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছি। ইরানের বাদশাহ কিসরার মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ এখন তারা কাকে শাসক নিযুক্ত করেছে? তারা বললোঃ তার কন্যাকে। তিনি বললেনঃ যে জাতি নিজেদের শাসক একজন নারীকে সাব্যস্ত করে নেয়, তারা কখনো সফল হয় না।
১১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৮৯
আল-ফদল বিন আল-আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَاشِمٍ، عَنِ الْوَلِيدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ النَّحْرِ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمٍ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَرْكَبَ إِلاَّ مُعْتَرِضًا أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ ‏
"‏ نَعَمْ حُجِّي عَنْهُ فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ قَضَيْتِيهِ ‏"‏‏.‏
মুহাম্মদ ইবন হাশিম (রহঃ) ... ওয়ালীদ থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি যুহরী থেকে তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রহঃ) থেকে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। তিনি কুরবানীর দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। এ সময় খাসআম গোত্রের এক নারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর, তাঁর বার্ধক্যে আরোপিত হয়েছে। অথচ তিনি শায়িত অবস্থা ব্যতীত সওয়ারও হতে পারেন না; এমতাবস্থায় আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাঁর পক্ষ হতে তুমি হজ্জ কর। কেননা তার কোন দেনা থাকলে তা তো তুমিই আদায় করতে।
১২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯০
সুলাইমান বিন ইয়াসার (রাঃ)
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، ح وَأَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمٍ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْفَضْلُ رَدِيفُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يُجْزِئُ قَالَ مَحْمُودٌ فَهَلْ يَقْضِي - أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ فَقَالَ لَهَا ‏
"‏ نَعَمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ فَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مَا ذَكَرَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ‏.‏
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... ওয়ালীদ হতে, তিনি আওযাঈ হতে, তিনি ইবন শিহাব হতে, অন্য সনদে মাহমূদ ইবন খালিদ উমর হতে, তিনি আওযাঈ হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। খাস'আম গোত্রের এক নারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, আর তখন ফযল তাঁর পিছনে সহযাত্রী ছিল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর আরোপিত হয়েছে, অথচ তিনি এত বৃদ্ধ যে, শায়িত অবস্থা ব্যতীত সওয়ার হতে পারেন না। আমি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ করলে, তা আদায় হবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
১৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯১
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمٍ تَسْتَفْتِيهِ فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ وَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَثْبُتَ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ ‏
"‏ نَعَمْ ‏"‏‏.‏ وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ‏.‏
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আরোহী ছিলেন, এমন সময় খাসআম গোত্রের এক নারী মাসআলা জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। তখন ফযল (রাঃ) ঐ নারীর প্রতি দৃষ্টি দিলেন, আর ঐ নারীও তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন ঐ নারী বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ পাকের নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর ঐ সময় ফরয হলো যখন আমার পিতা বৃদ্ধ, এমনকি তিনি উঠে বসতেও পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আর এটি বিদায় হজ্জের ঘটনা।
১৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯২
ইবনে শিহাব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمٍ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَوِي عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يَقْضِي عَنْهُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ نَعَمْ ‏"‏‏.‏ فَأَخَذَ الْفَضْلُ يَلْتَفِتُ إِلَيْهَا - وَكَانَتِ امْرَأَةً حَسْنَاءَ - وَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْفَضْلَ فَحَوَّلَ وَجْهَهُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ‏.‏
আবূ দাউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খাস'আম গোত্রের এক মহিলা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, তিনি উটের ওপর ঠিক হয়ে বসতেও পারেন না, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর আল্লাহর ফরয হজ্জ আরোপিত হয়েছে, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যাঁ। ফযল ঐ মহিলার দিকে তাকাতে লাগালেন আর সে ছিল এক সুন্দরী মহিলা। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলকে ধরে তার চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন।
১৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبِي أَدْرَكَهُ الْحَجُّ وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ لاَ يَثْبُتُ عَلَى رَاحِلَتِهِ فَإِنْ شَدَدْتُهُ خَشِيتُ أَنْ يَمُوتَ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ ‏"‏ أَفَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ أَكَانَ مُجْزِئًا ‏"‏‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَحُجَّ عَنْ أَبِيكَ ‏"‏‏.‏
মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... হুশায়ম ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ আমার পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে কিন্তু তিনি বার্ধক্যে উপনীত, এমনকি উটে বসতেও পারেন না, যদি আমি তাকে বেঁধে দেই তবে ভয় হয়, হয়তো তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হবেন। আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ করবো? তিনি বললেনঃ দেখ, যদি তার উপর ঋণ থাকতো আর তুমি তা আদায় করে দিতে, তবে তা আদায় হতো কিনা? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় কর (কেননা এটাও আল্লাহর ঋণ)।
১৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৪
আল-ফদল বিন আল-আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي عَجُوزٌ كَبِيرَةٌ إِنْ حَمَلْتُهَا لَمْ تَسْتَمْسِكْ وَإِنْ رَبَطْتُهَا خَشِيتُ أَنْ أَقْتُلَهَا‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَحُجَّ عَنْ أُمِّكَ ‏"‏‏.‏
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সওয়ার ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা নিতান্ত বৃদ্ধা। তাকে উটে বসালেও তিনি বসতে পারবেন না আর যদি তাঁকে বেঁধে দেই, তবে ভয় হয় আমি না তাকে মেরে ফেলি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ, যদি তোমার মাতার উপর ঋণ থাকলে, তবে কি তুমি তা আদায় করতে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ অতএব তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ কর।
১৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৫
সুলাইমান বিন ইয়াসার, হু (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، يُحَدِّثُهُ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ وَإِنْ حَمَلْتُهُ لَمْ يَسْتَمْسِكْ أَفَأَحُجَّ عَنْهُ قَالَ ‏
"‏ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ سُلَيْمَانُ لَمْ يَسْمَعْ مِنَ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ‏.‏
আবু দাউদ (রহঃ) ... শুবা ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। এক ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা অত্যধিক বৃদ্ধ, তিনি হজ্জ করতে অক্ষম। আমি যদি তাকে বাহনের উপর বসিয়ে দেই, তবে তিনি ঠিকভাবে বসতে পারবেন না। আমি কি তার পক্ষে হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষে হজ্জ করতে পার।
১৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ ‏
"‏ نَعَمْ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ أَكَانَ يُجْزِئُ عَنْهُ ‏"‏‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমার পিতা অধিক বৃদ্ধ ব্যক্তি, অতএব আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, বল তো, যদি তার উপর ঋণ থাকতো এবং তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা কি তার পক্ষ হতে আদায় হতো না?
১৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৭
আব্দুর রহমান বিন ইয়াযিদ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، هُوَ ابْنُ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ أَكْثَرُوا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَلَسْنَا نَقْضِي وَلَسْنَا هُنَالِكَ ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدَّرَ عَلَيْنَا أَنْ بَلَغْنَا مَا تَرَوْنَ فَمَنْ عَرَضَ لَهُ مِنْكُمْ قَضَاءٌ بَعْدَ الْيَوْمِ فَلْيَقْضِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ جَاءَ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ جَاءَ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلاَ قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ فَإِنْ جَاءَ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلاَ قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم وَلاَ قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ فَلْيَجْتَهِدْ رَأْيَهُ وَلاَ يَقُولُ إِنِّي أَخَافُ وَإِنِّي أَخَافُ فَإِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا الْحَدِيثُ جَيِّدٌ جَيِّدٌ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবদুল্লাহ্ (ইবন মাসউদ) (রাঃ)-এর নিকট অনেক লোক আসলো। তখন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ আমাদের উপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমরা কোন বিচার করতাম না, আর ভাগ্যে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রেখেছেন যে, আমরা এই পর্যায়ে পৌছাব যেমন তোমরা প্রত্যক্ষ করছে। এখন হতে তোমাদের কারো যদি কখনও কোন মীমাংসা করার প্রয়োজন হয়, তখন সে আল্লাহ্ পাকের কিতাবানুসারে মীমাংসা করবে। যদি এমন কোন ব্যাপারে মীমাংসা করতে হয়, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তখন সে তার নবী এ ব্যাপারে যে মীমাংসা করেছেন, তা দ্বারা মীমাংসা করবে। আর যদি তার নিকট এমন কোন ব্যাপারে উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই এবং এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালাও নেই, তখন সে যেন নেককারদের মীমাংসানুযায়ী মীমাংসা করে। যদি তার নিকট এমন কোন ব্যাপারে উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, তার নবী যা মীমাংসা দিয়েছেন তাতেও নেই এবং নোরদের মীমাংসায়ও এর দৃষ্টান্ত নেই, তখন সে ব্যাপারে স্বীয় জ্ঞানের দ্বারা মীমাংসা করবে এবং সে যেন এ কথা না বলে যে, নিশ্চয়ই আমি ভয় করি, আমি ভয় করি। কেননা হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মধ্যে কোন কোন বিষয় আছে, যা সন্দেহযুক্ত। অতএব এমন কাজ পরিত্যাগ কর, যা সন্দেহযুক্ত এবং ঐ কাজ কর, যাতে সন্দেহ নেই।
২০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৮
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ ظُهَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ أَتَى عَلَيْنَا حِينٌ وَلَسْنَا نَقْضِي وَلَسْنَا هُنَالِكَ وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدَّرَ أَنْ بَلَغْنَا مَا تَرَوْنَ فَمَنْ عَرَضَ لَهُ قَضَاءٌ بَعْدَ الْيَوْمِ فَلْيَقْضِ فِيهِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ جَاءَ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ فَإِنْ جَاءَ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَمْ يَقْضِ بِهِ نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ وَلاَ يَقُولُ أَحَدُكُمْ إِنِّي أَخَافُ وَإِنِّي أَخَافُ فَإِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মায়মূন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমরা কোন ফয়সালা বা মীমাংসা করতাম না; আর আমরা তার উপযুক্তও ছিলাম না, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের ভাগ্যে রেখেছেন এবং আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছলাম, যা তোমরা দেখছে। অতএব এরপর যদি কারও কোন ফয়সালা বা মীমাংসা করতে হয়, তবে সে যেন আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তার মীমাংসা করে; যদি তার নিকট এমন ব্যাপার উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবে নেই; তবে সে যেন এর মীমাংসা ঐরূপ করে, যেমন তার নবী মীমাংসা করেছেন। আর যদি তার নিকট এমন বিষয় উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই এবং তাঁর নবী এর মীমাংসা করেন নি; তবে সেভাবে সে মীমাংসা করবে যেভাবে নেককারগণ মীমাংসা করেছেন। আর তোমাদের কেউ যেন একথা না বলে যে, আমি ভয় করি, আমি ভয় করি। কেননা হালাল স্পষ্ট, আর হারামও স্পষ্ট, আর এদুয়ের মধ্যে রয়েছে। সন্দেহজনক বিষয়সমূহ। অতএব তুমি সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ কর, আর যাতে সন্দেহ নেই, তা কর।
২১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৩৯৯
শুরাইহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ شُرَيْحٍ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى عُمَرَ يَسْأَلُهُ فَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنِ اقْضِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلاَ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلاَ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَقْضِ بِهِ الصَّالِحُونَ فَإِنْ شِئْتَ فَتَقَدَّمْ وَإِنْ شِئْتَ فَتَأَخَّرْ وَلاَ أَرَى التَّأَخُّرَ إِلاَّ خَيْرًا لَكَ وَالسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ‏.‏
মুহাম্মদ ইব্ন বাশার (রহঃ) ... শুরায়হ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন লিখলেন। জবাবে তিনি তাঁকে লিখেন, তুমি মীমাংসা কর, যা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, তা দ্বারা; যদি আল্লাহর কিতাবে তা না থাকে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত দ্বারা; আর যদি ঐ বিষয়টি আল্লাহর কিতাব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতে পাওয়া না যায়, তবে নেক্কারগণ যে মীমাংসা করেছেন, তা দ্বারা মীমাংসা কর। আর যদি তা আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতে না থাকে এবং নেক্কার লোকেরাও এমন কোন মীমাংসা না দিয়ে থাকেন, তবে তোমার ইচ্ছা হলে সামনে অগ্রসর হবে, আর ইচ্ছা হলে স্থগিত রাখবে। আমার মতে, তোমার স্থগিত রাখাই উত্তম। তোমাদের প্রতি সালাম।
২২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتْ مُلُوكٌ بَعْدَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ بَدَّلُوا التَّوْرَاةَ وَالإِنْجِيلَ وَكَانَ فِيهِمْ مُؤْمِنُونَ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ قِيلَ لِمُلُوكِهِمْ مَا نَجِدُ شَتْمًا أَشَدَّ مِنْ شَتْمٍ يَشْتِمُونَّا هَؤُلاَءِ إِنَّهُمْ يَقْرَءُونَ ‏{‏وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ‏}‏ وَهَؤُلاَءِ الآيَاتِ مَعَ مَا يَعِيبُونَّا بِهِ فِي أَعْمَالِنَا فِي قِرَاءَتِهِمْ فَادْعُهُمْ فَلْيَقْرَءُوا كَمَا نَقْرَأُ وَلْيُؤْمِنُوا كَمَا آمَنَّا‏.‏ فَدَعَاهُمْ فَجَمَعَهُمْ وَعَرَضَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلَ أَوْ يَتْرُكُوا قِرَاءَةَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ إِلاَّ مَا بَدَّلُوا مِنْهَا فَقَالُوا مَا تُرِيدُونَ إِلَى ذَلِكَ دَعُونَا‏.‏ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمُ ابْنُوا لَنَا أُسْطُوَانَةً ثُمَّ ارْفَعُونَا إِلَيْهَا ثُمَّ اعْطُونَا شَيْئًا نَرْفَعُ بِهِ طَعَامَنَا وَشَرَابَنَا فَلاَ نَرِدُ عَلَيْكُمْ‏.‏ وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ دَعُونَا نَسِيحُ فِي الأَرْضِ وَنَهِيمُ وَنَشْرَبُ كَمَا يَشْرَبُ الْوَحْشُ فَإِنْ قَدَرْتُمْ عَلَيْنَا فِي أَرْضِكُمْ فَاقْتُلُونَا‏.‏ وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمُ ابْنُوا لَنَا دُورًا فِي الْفَيَافِي وَنَحْتَفِرُ الآبَارَ وَنَحْتَرِثُ الْبُقُولَ فَلاَ نَرِدُ عَلَيْكُمْ وَلاَ نَمُرُّ بِكُمْ وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنَ الْقَبَائِلِ إِلاَّ وَلَهُ حَمِيمٌ فِيهِمْ‏.‏ قَالَ فَفَعَلُوا ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلاَّ ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا‏}‏ وَالآخَرُونَ قَالُوا نَتَعَبَّدُ كَمَا تَعَبَّدَ فُلاَنٌ وَنَسِيحُ كَمَا سَاحَ فُلاَنٌ وَنَتَّخِذُ دُورًا كَمَا اتَّخَذَ فُلاَنٌ‏.‏ وَهُمْ عَلَى شِرْكِهِمْ لاَ عِلْمَ لَهُمْ بِإِيمَانِ الَّذِينَ اقْتَدَوْا بِهِ فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلاَّ قَلِيلٌ انْحَطَّ رَجُلٌ مِنْ صَوْمَعَتِهِ وَجَاءَ سَائِحٌ مِنْ سِيَاحَتِهِ وَصَاحِبُ الدَّيْرِ مِنْ دَيْرِهِ فَآمَنُوا بِهِ وَصَدَّقُوهُ فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ‏{‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ‏}‏ أَجْرَيْنِ بِإِيمَانِهِمْ بِعِيسَى وَبِالتَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَبِإِيمَانِهِمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَتَصْدِيقِهِمْ قَالَ ‏{‏يَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ‏}‏ الْقُرْآنَ وَاتِّبَاعَهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏{‏لِئَلاَّ يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ‏}‏ يَتَشَبَّهُونَ بِكُمْ ‏{‏أَنْ لاَ يَقْدِرُونَ عَلَى شَىْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ‏}‏ الآيَةَ‏.‏
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ)-এর পর এমন কয়েকজন বাদশাহ ছিলেন, যারা তাওরাত এবং ইঞ্জিলে পরিবর্তন সাধন করেন। তাদের মধ্যে এমন কিছু ঈমানদার লোকও ছিলেন, যারা তাওরাত পাঠ করতেন। তখন তাদের বাদশাহদেরকে বলা হলো—এ সকল লোক আমাদেরকে যে গালি দিচ্ছে, এর চেয়ে কঠিন গালি আর কি হতে পারে? তারা পাঠ করেঃ “যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা মীমাংসা করে না, তারা কাফির। তাদের পড়ার মধ্যে থাকে এই আয়াত এবং ঐ সকল আয়াত, যাতে আমাদের কর্মকাণ্ডের দোষ প্রকাশ পায়। তাদেরকে আহবান করুন, তারা যেন আমরা যেরূপ পাঠ করি, সেরূপ পাঠ করে, আর আমরা যেরূপ ঈমান এনেছি, সেরূপ ঈমান আনে। বাদশাহ তাদের সকলকে ডেকে একত্র করলেন এবং তাদের সামনে পেশ করলেন যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে, যদিনা তারা তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ ত্যাগ করে, তবে ঐ সকল আয়াত ব্যতীত, যা পরিবর্তন হয়েছে। তারা বললোঃ এর দ্বারা তোমাদের উদ্দেশ্য কী? আমাদেরকে আমাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দাও। তাদের একদল বললোঃ আমাদের জন্য একটি স্তম্ভ তৈরি কর, এরপর আমাদেরকে তাতে চড়িয়ে দাও এবং আমাদেরকে এমন কিছু দান কর, যা দ্বারা আমরা আমাদের খাদ্য ও পানীয় উঠিয়ে নিতে পারি, তা হলে আমরা আর তোমাদের নিকট আসবো না। তাদের আর একদল বললোঃ আমাদেরকে ছেড়ে দাও, আমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবে এবং বন্য পশুর ন্যায় আহার ও পান করবো। আর এরপর যদি তোমাদের দেশে আমাদেরকে পাও, তবে আমাদেরকে হত্যা করো। তাদের আর একদল বললোঃ মরুভূমিতে আমাদের জন্য গির্জা তৈরি করে দাও। আমরা কূপ খনন করবো এবং তরি-তরকারি ফলাব, আমরা তোমাদের কাছেও আসবাে না এবং তোমাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাব না। আর এমন কোন গোত্র ছিল না, যাতে তাদের আত্মীয়-স্বজন না ছিল। পরে তারা এরূপই করলো। তখন আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত নাযিল করেনঃ “তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সন্যাসবাদ প্রবর্তন করেছিল। আমি তাদেরকে এর বিধান দেইনি, অথচ তারা তাও যথাযথভাবে পালন করেনি” (হাদীদঃ ২৭)। অন্যান্য লোকেরা বলতে লাগলোঃ আমরাও ইবাদত-বন্দেগী করব, যেমন অমুক করে থাকে, আমরাও ভ্রমণ করব, যেমন অমুক ভ্রমণ করে থাকে এবং আমরাও গির্জা তৈরি করব, যেমন অমুক লোকেরা করে থাকে। অথচ তারা শিরকে পতিত ছিল, তারা যাদের অনুকরণ করছিল, তাদের ঈমান সম্বন্ধেও অবহিত ছিল না। যখন আল্লাহ্ তা'আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করলেন, তখন তাদের মধ্যে কিছু লোক অবশিষ্ট ছিল। তাদের মধ্যে যে ইবাদতখানায় ছিল, সে ইবাদতখানা হতে নেমে আসলো, ভ্রমণকারী তার ভ্রমণ হতে ফিরে আসলো, গির্জাবাসী তার গিজা হতে নেমে আসলো। তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনলো এবং তাকে বিশ্বাস করলো। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন কর, তা হলে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতে দ্বিগুণ দান করবেন (হাদীদঃ ২৮)। এক তো ঈসা (আঃ)-এর উপর ঈমান আনয়ন ও তাওরাত-ইঞ্জিলে বিশ্বাস স্থাপনের কারণে। আর দ্বিতীয়ত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ঈমান আনা এবং তাঁকে সত্যবাদী জানার কারণে। আল্লাহ্ বলেন, “তিনি তোমাদেরকে দেবেন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে [অর্থাৎ কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ] যেন আহলে কিতাব জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোন অধিকার নেই। (হাদীদঃ ২৮), অর্থাৎ যেই কিতাবীগণ তোমাদের অনুকরণ করে, অথচ ঈমান আনে না, তারা ।
২৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০১
উম্মু সালামা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ وَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَلْحَنُ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَلاَ يَأْخُذْهُ فَإِنَّمَا أَقْطَعُهُ بِهِ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নিকট মোকদ্দমা দায়ের করে থাক। আমিতো মানুষই। হয়তো তোমাদের কেউ তার প্রতিপক্ষ অপেক্ষা তার দাবি উত্থাপনে বেশি পারদর্শী। কাজেই যদি আমি কাউকে তার ভাইয়ের কোন হক দিয়ে ফেলি, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা এমতাবস্থায় আমি তাকে আগুনের এক অংশই দান করি।
২৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ رَاشِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، مِمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، مِمَّا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَقَالَ ‏
"‏ بَيْنَمَا امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا جَاءَ الذِّئْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ هَذِهِ لِصَاحِبَتِهَا إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ ‏.‏ وَقَالَتِ الأُخْرَى إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ ‏.‏ فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى فَخَرَجَتَا إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَتَاهُ فَقَالَ ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا ‏.‏ فَقَالَتِ الصُّغْرَى لاَ تَفْعَلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ هُوَ ابْنُهَا ‏.‏ فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاللَّهِ مَا سَمِعْتُ بِالسِّكِّينِ قَطُّ إِلاَّ يَوْمَئِذٍ مَا كُنَّا نَقُولُ إِلاَّ الْمُدْيَةَ ‏.‏
ইমরান ইবন বাককার ইবন রাশিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই নারী এক স্থানে তাদের নিজ নিজ সন্তান নিয়ে ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের একজনের সন্তান নিয়ে গেল। তাদের একজন তার সঙ্গিণীকে বললোঃ তোমার ছেলে নিয়ে গেছে। অন্যজন বললোঃ তোমার সন্তান নিয়েছে। তারা উভয়ে এ ব্যাপারে দাউদ (আঃ)-এর নিকট মীমাংসা প্রার্থনা করলো। দাউদ (আঃ) তাদের মধ্যে বয়সে যে বড় ছিল, তাকে সন্তান দিয়ে দিলেন। এরপর তারা উভয়ে সুলায়মান ইবন দাউদ (আঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করলে, তিনি বললেনঃ আমার নিকট একখানা ছুরি নিয়ে এস, আমি এই বাচ্চাকে তাদের উভয়ের মধ্যে দুই টুকরা করে দিচ্ছি। একথা শুনে যে নারী বয়সে ছোট ছিল, সে বললোঃ এমন কাজ করবেন না; আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন, এ বাচ্চা তারই। তখন তিনি ঐ বাচ্চা ছোট নারীকে দিলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি এই দিনের পূর্বে ছুরিকে (سكين) বলতে শুনিনি, আমরা একে মুদয়া (مدية) বলতাম।
২৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏
"‏ خَرَجَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا صَبِيَّانِ لَهُمَا فَعَدَا الذِّئْبُ عَلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ وَلَدَهَا فَأَصْبَحَتَا تَخْتَصِمَانِ فِي الصَّبِيِّ الْبَاقِي إِلَى دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى مِنْهُمَا فَمَرَّتَا عَلَى سُلَيْمَانَ فَقَالَ كَيْفَ أَمْرُكُمَا فَقَصَّتَا عَلَيْهِ فَقَالَ ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّ الْغُلاَمَ بَيْنَهُمَا ‏.‏ فَقَالَتِ الصُّغْرَى أَتَشُقُّهُ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَتْ لاَ تَفْعَلْ حَظِّي مِنْهُ لَهَا ‏.‏ قَالَ ‏.‏ هُوَ ابْنُكِ ‏.‏ فَقَضَى بِهِ لَهَا ‏"‏ ‏.‏
রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুইজন নারী বের হলো, আর তাদের সাথে ছিল তাদের দুই সন্তান। এক নারীকে নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে তার সন্তান নিয়ে গেল। অবশিষ্ট সন্তানের ব্যাপারে উভয় নারী দাউদ (আঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের সন্তান বলে দাবি করলো। তিনি তাদের মধ্যে যে নারী বয়সে বড় ছিল, তার পক্ষে রায় দিলেন। অবশেষে তারা যখন সুলায়মান (আ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের ব্যাপারে কি আদেশ দেয়া হয়েছে? তারা তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি বললেনঃ একখানা ছুরি নিয়ে এস, আমি এই শিশুটিকে দু'ভাগ করে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিব। তখন ছোট নারী বললোঃ আপনি কি তাকে দ্বিখণ্ডিত করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ আপনি এরূপ করবেন না, আমার অংশ আমি তাকে দিয়ে দিলাম। তখন তিনি বললেনঃ এই শিশুটি তোমার; তিনি তার পক্ষেই রায় দিলেন।
২৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ خَرَجَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا وَلَدَاهُمَا فَأَخَذَ الذِّئْبُ أَحَدَهُمَا فَاخْتَصَمَتَا فِي الْوَلَدِ إِلَى دَاوُدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى مِنْهُمَا فَمَرَّتَا عَلَى سُلَيْمَانَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ كَيْفَ قَضَى بَيْنَكُمَا قَالَتْ قَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى ‏.‏ قَالَ سُلَيْمَانُ أَقْطَعُهُ بِنِصْفَيْنِ لِهَذِهِ نِصْفٌ وَلِهَذِهِ نِصْفٌ ‏.‏ قَالَتِ الْكُبْرَى نَعَمِ اقْطَعُوهُ ‏.‏ فَقَالَتِ الصُّغْرَى لاَ تَقْطَعْهُ هُوَ وَلَدُهَا ‏.‏ فَقَضَى بِهِ لِلَّتِي أَبَتْ أَنْ يَقْطَعَهُ ‏"‏ ‏.‏
মুগীরা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই নারী বের হলো, আর তাদের সাথে ছিল তাদের দুই সন্তান। এক নেকড়ে বাঘ তাদের থেকে এক সন্তানকে নিয়ে গেল। তারা এই শিশুর ব্যাপারে ঝগড়া করে দাউদ (আঃ)-এর নিকট বিচারপ্রার্থী হল। তিনি ঐ নারীদ্বয়ের মধ্যে যে বড় ছিল, তার পক্ষে রায় দিলেন। তারপর তারা সুলায়মান (আঃ)-এর নিকট দিয়ে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের ব্যাপারে কি রায় দিয়েছেন? তারা বললোঃ তিনি বড় নারীর পক্ষে রায় দিয়েছেন। সুলায়মান (আঃ) বললেনঃ আমি তাকে কেটে সমান দুই অংশ করবো, এক অংশ এই নারীর এবং অপর অংশ ঐ নারীর। তখন বড় নারী বললোঃ জ্বি-হ্যাঁ, আপনি তা-ই করুন, তাকে খণ্ডিত করুন। কিন্তু ছােট নারী বললোঃ তাকে কাটবেন না, সে ঐ নারীরই সন্তান। তখন তিনি যে নারী কাটতে অস্বীকার করলো, তার পক্ষেই রায় দিলেন।
২৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৫
সালিম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، ح وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ إِلَى بَنِي جَذِيمَةَ فَدَعَاهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ فَلَمْ يُحْسِنُوا أَنْ يَقُولُوا أَسْلَمْنَا فَجَعَلُوا يَقُولُونَ صَبَأْنَا وَجَعَلَ خَالِدٌ قَتْلاً وَأَسْرًا - قَالَ - فَدَفَعَ إِلَى كُلِّ رَجُلٍ أَسِيرَهُ حَتَّى إِذَا أَصْبَحَ يَوْمُنَا أَمَرَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ أَنْ يَقْتُلَ كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا أَسِيرَهُ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لاَ أَقْتُلُ أَسِيرِي وَلاَ يَقْتُلُ أَحَدٌ - وَقَالَ بِشْرٌ - مِنْ أَصْحَابِي أَسِيرَهُ - قَالَ - فَقَدِمْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذُكِرَ لَهُ صُنْعُ خَالِدٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَرَفَعَ يَدَيْهِ ‏"‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زَكَرِيَّا فِي حَدِيثِهِ فَذُكِرَ وَفِي حَدِيثِ بِشْرٍ فَقَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ ‏"‏ ‏.‏ مَرَّتَيْنِ ‏.‏
যাকারিয়া ইবন ইয়াহ্ইয়া ও আহমদ ইবন আলী ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ)-কে জাযীমা গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করেন; কিন্তু তারা ভালভাবে বললো না যে, আমরা ইসলাম গ্রহণ করলাম। বরং তারা বললোঃ আমরা স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করলাম। খালিদ (রাঃ) তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে আরম্ভ করলেন এবং প্রত্যেকের কাছে এক-একজন বন্দী অর্পণ করলেন। ভোরে খালিদ (রাঃ) প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্ব-স্ব বন্দীকে হত্যা করার আদেশ দেন। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি আমার কয়েদীকে হত্যা করবো না, আর কেউই নিজ বন্দীকে হত্যা করবে না। অথবা তিনি বলেছেনঃ আমার বন্ধুদের কেউই তার কয়েদীকে হত্যা করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁর নিকট খালিদ (রাঃ) এর কার্যকলাপ বর্ণনা করলাম। তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলনপূর্বক বললেনঃ হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে, আমি আপনার নিকট সে ব্যাপারে পবিত্র। তিনি এ কথা দু’বার বলেন।
২৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৬
আব্দুর রহমান বিন আবি বাকরাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ كَتَبَ أَبِي وَكَتَبْتُ لَهُ إِلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ وَهُوَ قَاضِي سِجِسْتَانَ أَنْ لاَ، تَحْكُمَ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَأَنْتَ غَضْبَانُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ لاَ يَحْكُمْ أَحَدٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন আবূ বাকরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দ্বারা সিজিস্তানের বিচারপতি উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ বাকরাকে লিখে পাঠান যে, তুমি রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যাক্তির মধ্যে মীমাংসা না করে।
২৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৭
আল-যুবাইর বিন আল-আওয়াম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، أَنَّهُ خَاصَمَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ كَانَا يَسْقِيَانِ بِهِ كِلاَهُمَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرَّ عَلَيْهِ ‏.‏ فَأَبَى عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ ‏"‏ ‏.‏ فَاسْتَوْفَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ حَقَّهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ ذَلِكَ أَشَارَ عَلَى الزُّبَيْرِ بِرَأْىٍ فِيهِ السَّعَةُ لَهُ وَلِلأَنْصَارِيِّ فَلَمَّا أَحْفَظَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَنْصَارِيُّ اسْتَوْفَى لِلزُّبَيْرِ حَقَّهُ فِي صَرِيحِ الْحُكْمِ ‏.‏ قَالَ الزُّبَيْرُ لاَ أَحْسَبُ هَذِهِ الآيَةَ أُنْزِلَتْ إِلاَّ فِي ذَلِكَ ‏{‏ فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ‏}‏ وَأَحَدُهُمَا يَزِيدُ عَلَى صَاحِبِهِ فِي الْقِصَّةِ ‏.‏
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি এমন একজন আনসারী ব্যক্তির সাথে হাররা নামক স্থানের পানি প্রবাহ নিয়ে ঝগড়া করেন, যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। তাঁরা উভয়ে এই পানি দ্বারা খেজুর বাগানে পানি দিতেন। ঐ আনসারী ব্যক্তি বললেনঃ পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা এর উপর দিয়ে বয়ে যায়। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি নিজের যমীনে পানি দিয়ে তা স্বীয় প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। একথায় আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যুবায়র আপনার ফুফাত ভাই বলে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রং পরিবর্তিত হলো। তিনি বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি বাগানে পানি দাও এবং পরে পানি বন্ধ করে দাও, যতক্ষণ না পানি গাছের চতুর্দিকের আইলে পৌঁছে যায়। এবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়রকে তাঁর পূর্ণ অধিকার দান করলেন। এর পূর্বে তিনি যুবায়র (রাঃ)-কে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তাতে যুবায়র (রাঃ) এবং আনসারী উভয়ের জন সুবিধা ছিল, কিন্তু যখন আনসারী তাঁকে রাগান্বিত করলেন, তখন তিনি যুবায়র (রাঃ)-এর অংশ তাঁকে পূর্ণরূপে দান করলেন। যুবায়র (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় (فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ) [সূরা নিসাঃ ৬৫] আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়।
৩০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৮
আব্দুল্লাহ বিন কা'ব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ عَلَيْهِ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا فَكَشَفَ سِتْرَ حُجْرَتِهِ فَنَادَى ‏"‏ يَا كَعْبُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ضَعْ مِنْ دَيْنِكَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ وَأَوْمَأَ إِلَى الشَّطْرِ قَالَ قَدْ فَعَلْتُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُمْ فَاقْضِهِ ‏"‏ ‏.‏
আবূ দাউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন কা'ব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, কা'ব (রাঃ) ইবন আবু হাদরাদ হতে তাঁর প্রাপ্য করযের ব্যাপারে তাগাদা দিলেন। এতে তাদের উভয়ের শব্দ উচ্চ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার তাঁর বাসস্থান হতে তা শ্রবণ করলেন। তিনি তাদের প্রতি অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘরের পর্দা উঠালেন এবং উচ্চস্বরে বললেনঃ হে কা'ব! কা'ব (রাঃ) বললেনঃ আমি উপস্থিত আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি কা'ব (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার করয হতে কমাও এবং তিনি অর্ধেকের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। কা'ব (রাঃ) বললেনঃ আমি তা করলাম। এরপর তিনি ইবন আবু হাদরাদকে বললেনঃ ওঠো, তা আদায় কর।
৩১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪০৯
আব্বাদ বিন শুরাহবিল (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُبَشِّرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَزِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ عَنْ عَبَّادِ بْنِ شَرَاحِيلَ، قَالَ قَدِمْتُ مَعَ عُمُومَتِي الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ حَائِطًا مِنْ حِيطَانِهَا فَفَرَكْتُ مِنْ سُنْبُلِهِ فَجَاءَ صَاحِبُ الْحَائِطِ فَأَخَذَ كِسَائِي وَضَرَبَنِي فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْتَعْدِي عَلَيْهِ فَأَرْسَلَ إِلَى الرَّجُلِ فَجَاءُوا بِهِ فَقَالَ ‏"‏ مَا حَمَلَكَ عَلَى هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ دَخَلَ حَائِطِي فَأَخَذَ مِنْ سُنْبُلِهِ فَفَرَكَهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا عَلَّمْتَهُ إِذْ كَانَ جَاهِلاً وَلاَ أَطْعَمْتَهُ إِذْ كَانَ جَائِعًا ارْدُدْ عَلَيْهِ كِسَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏ وَأَمَرَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَسْقٍ أَوْ نِصْفِ وَسْقٍ ‏.‏
হুসায়ন ইবন মানসূর ইবন জাফর (রহঃ) ... আব্বাদ ইবন শারাহীল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচাদের সাথে মদীনায় আগমন করলাম এবং তথাকার বাগানের মধ্যে এক বাগানে প্রবেশ করলাম, আর একটি ফলের গুচ্ছ নিয়ে তা মুচড়ে ফেললাম। তখন ঐ বাগানের মালিক এসে আমার কম্বল কেড়ে নিল এবং আমাকে মারধর করলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ফরিয়াদ করলাম। তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালে তারা তাকে নিয়ে আসলো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কেন এরূপ করলে? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে আমার বাগানে প্রবেশ করে ফলের গুচ্ছ নিয়ে তা মুচড়ে ফেলেছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে অজ্ঞ ছিল, তুমি তাকে শিক্ষা দিলে না কেন? সে ক্ষুধার্ত ছিল, তখন তুমি তাকে খাওয়ালে না কেন? যাও, তুমি তার কম্বল ফিরিয়ে দাও। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক ওসক অথবা আধা ওসক দেওয়ার আদেশ দেন।
৩২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১০
আবু হুরায়রা ও যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি (রা.)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ وَقَالَ الآخَرُ وَهُوَ أَفْقَهُهُمَا ‏.‏ أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي فِي أَنْ أَتَكَلَّمَ ‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ إِلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏ وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا وَأَمَرَ أُنَيْسًا أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ ‏"‏ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা এবং যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাদের এক ঝগড়া নিয়ে উপস্থিত হলো। তাদের একজন বললোঃ আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের দ্বারা মীমাংসা করুন! অন্যজন, যে ছিল তাদের মধ্যে অধিক জ্ঞানী, সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে নিজের বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দিন। সে বললোঃ আমার ছেলে এই লোকের চাকর ছিল এবং সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। লোকেরা আমাকে বললোঃ তোমার ছেলেকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে। আমি একশত ছাগল এবং আমার এক দাসীর বিনিময়ে আমার ছেলেকে ছাড়িয়েছি। এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তারা বললোঃ আমার ছেলের শাস্তি একশত বেত্রাঘাত এবং এক বৎসর নির্বাসন, আর তার স্ত্রীকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হবে। তখন রাসূলুল্লাহ আল বললেনঃ যার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার শপথ করে বলছিঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করবো। তোমার ছাগসমূহ এবং দাসী তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে। তারপর তিনি তার ছেলেকে একশত বেত্রাঘাত করলেন এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দিলেন। এরপর তিনি উনায়স (রাঃ)-কে অন্য ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যেতে বললেন এবং আদেশ করলেন, যদি সে ব্যভিচার করেছে বলে স্বীকার করে, তবে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে। পরে ঐ নারী স্বীকার করলে তিনি তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করলেন।
৩৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১১
আবু হুরায়রা, যায়েদ বিন খালিদ ও শিবল (রা.)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، وَشِبْلٍ، قَالُوا كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلاَّ مَا قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ فَقَامَ خَصْمُهُ - وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ - فَقَالَ صَدَقَ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ - وَكَأَنَّهُ أُخْبِرَ أَنَّ عَلَى ابْنِهِ الرَّجْمَ فَافْتَدَى مِنْهُ - ثُمَّ سَأَلْتُ رِجَالاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَمَّا الْمِائَةُ شَاةٍ وَالْخَادِمُ فَرَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ اغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা, যায়দ ইবন খালিদ এবং শিল (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী মীমাংসা করুন। পরে তার বিপক্ষ যে অধিক বুদ্ধিমান ছিল, সে বললোঃ ঠিকই আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবানুযায়ী মীমাংসা করুন। তখন তিনি বললেনঃ বল! সে বললোঃ আমার পুত্র এই ব্যক্তির চাকর ছিল, এবং সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। আমি আমার একশত ছাগল এবং খাদিম দ্বারা তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছি। তাকে কেউ খবর দিয়েছিল যে, তার পুত্রের শাস্তি এই যে, তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হবে। তাই সে এর বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। এরপর আমি কয়েকজন আলিমের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তারা বললোঃ আমার পুত্রের উপর একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন বর্তাবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবানুযায়ী মীমাংসা করবো। একশত ছাগল ও খাদিম তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে এবং তোমার ছেলের উপর একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন বর্তাবে। এরপর তিনি বলেনঃ হে উনায়স! তুমি ঐ দ্বিতীয় ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাবে, যদি সে স্বীকার করে, তবে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে। তিনি তার নিকট গমন করলে সে তা স্বীকার করলো, ফলে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করলেন।
৩৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১২
আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَرْمَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ زَنَتْ فَقَالَ ‏
"‏ مِمَّنْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ مِنَ الْمُقْعَدِ الَّذِي فِي حَائِطِ سَعْدٍ ‏.‏ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُتِيَ بِهِ مَحْمُولاً فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَاعْتَرَفَ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِثْكَالٍ فَضَرَبَهُ وَرَحِمَهُ لِزَمَانَتِهِ وَخَفَّفَ عَنْهُ ‏.‏
হাসান ইবন আহমাদ কারমানী (রহঃ) ... আবূ উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক নারীকে আনা হলো, যে ব্যভিচার করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ কার সাথে? মহিলাটি বললোঃ ঐ পঙ্গু লোকটির সাথে! যে সাদ (রাঃ)-এর বাগানে অবস্থান করে। তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন। তাকে তুলে আনা হলো। তারপর তাকে তাঁর সামনে রাখা হলো। সে তা স্বীকার করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকা খেজুরের একখানা ডাল আনিয়ে তা দ্বারা তাকে কয়েক ঘা লাগান, আর তিনি তাকে তার পঙ্গুত্বের জন্য সহজ শাস্তি দেন।
৩৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৩
সাহল বিন সা'দ আল-সাইদি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ وَقَعَ بَيْنَ حَيَّيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ كَلاَمٌ حَتَّى تَرَامَوْا بِالْحِجَارَةِ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ وَانْتُظِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاحْتُبِسَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ النَّاسُ صَفَّحُوا - وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ - فَلَمَّا سَمِعَ تَصْفِيحَهُمُ الْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يَتَأَخَّرَ فَأَشَارَ إِلَيْهِ أَنِ اثْبُتْ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه يَعْنِي يَدَيْهِ ثُمَّ نَكَصَ الْقَهْقَرَى وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ ‏"‏ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَا كَانَ اللَّهُ لِيَرَى ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ بَيْنَ يَدَىْ نَبِيِّهِ ‏.‏ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكُمْ إِذَا نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي صَلاَتِكُمْ صَفَّحْتُمْ إِنَّ ذَلِكَ لِلنِّسَاءِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) বলেন, আনসারদের দুই গোত্রের মধ্যে বচসা হলে তারা একে অন্যের প্রতি প্রস্তর নিক্ষেপ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করানোর জন্য তথায় গমন করেন। এমন সময় নামাযের সময় হলে বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপেক্ষায় রইলেন। কিন্তু তিনি তথায় আটকে গেলেন। শেষে বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন এবং ইমামতির জন্য আবু বকর (রাঃ) সামনে গেলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। আবু বকর (রাঃ) নামাযে ইমামতি করছিলেন। লোক তাঁকে দেখে হাতে তালি দিয়ে শব্দ করলো। আবু বকর (রাঃ) নামাযে কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। কিন্তু তিনি যখন সকলের হাতের শব্দ শুনলেন, তখন লক্ষ্য করে দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। কাজেই তিনি পেছনে সরে আসতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে স্থির থাকতে ইঙ্গিত করলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর শোকর আদায় করলেন এবং তিনি উল্টো পায়ে পেছনে সরে আসলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমনে এগিয়ে গিয়ে সালাতে ইমামতি করলেন। তিনি নামায শেষে আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন : আপনি স্বীয় স্থানে অবস্থান করলেন না কেন? অবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ এটা কিরূপে সম্ভব যে, আল্লাহ্ তা'আলা আবু কুহাফার পুত্রকে স্বীয় নবীর সামনে দেখবেন। এরপর তিনি জনসাধারণের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমাদের অবস্থা কী? তোমরা যখন নামাযে কোন ঘটনা ঘটে, তখন তোমরা নারীদের ন্যায় কেন হাতে তালি দাও? এতো নারীদের জন্য। যখন নামাযে কারো কোন ঘটনা ঘটে, তখন সে যেন বলে, সুবহানাল্লাহ।
৩৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৪
কা'ব বিন মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ كَانَ لَهُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَدْرَدٍ الأَسْلَمِيِّ - يَعْنِي دَيْنًا - فَلَقِيَهُ فَلَزِمَهُ فَتَكَلَّمَا حَتَّى ارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ فَمَرَّ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏
"‏ يَا كَعْبُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَشَارَ بِيَدِهِ كَأَنَّهُ يَقُولُ النِّصْفَ فَأَخَذَ نِصْفًا مِمَّا عَلَيْهِ وَتَرَكَ نِصْفًا ‏.‏
রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... কা'ব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ্ ইবন হাদরাদ আসলামী (রাঃ)-এর নিকট কিছু পাওনা ছিল। একদা তিনি তার সাথে সাক্ষাত করে সে ব্যাপারে তাগাদা দিলেন। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হল। এক পর্যায়ে তাদের শব্দ উচ্চ হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ হে কা'ব এবং তিনি হাতে ইঙ্গিত করলেন, যেন তিনি বললেনঃ অর্ধেক। সুতরাং তিনি পাওনার অর্ধেক গ্রহণ করলেন, আর বাকী অর্ধেক ছেড়ে দিলেন।
৩৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৫
ওয়াইল (রা)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفٍ، قَالَ حَدَّثَنِي حَمْزَةُ أَبُو عُمَرَ الْعَائِذِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، عَنْ وَائِلٍ، قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَاءَ بِالْقَاتِلِ يَقُودُهُ وَلِيُّ الْمَقْتُولِ فِي نِسْعَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِوَلِيِّ الْمَقْتُولِ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَقْتُلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا ذَهَبَ فَوَلَّى مِنْ عِنْدِهِ دَعَاهُ فَقَالَ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ قَالَ ‏"‏ فَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَقْتُلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا ذَهَبَ فَوَلَّى مِنْ عِنْدِهِ دَعَاهُ فَقَالَ ‏"‏ أَتَعْفُو ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَأْخُذُ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَقْتُلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اذْهَبْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ ‏"‏ أَمَا إِنَّكَ إِنْ عَفَوْتَ عَنْهُ يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِ صَاحِبِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَعَفَا عَنْهُ وَتَرَكَهُ فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ওয়ায়ল (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন এক নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হত্যাকারীকে রশিতে বেঁধে টেনে নিয়ে আসলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নিহত ব্যক্তির অভিভাবককে বললেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি রক্তপণ গ্রহণ করবে? সে বললোঃ না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি খুনের বদলায় তাকে খুন করবে? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তাকে নিয়ে যাও। যখন সে তাকে নিয়ে চললো এবং তাঁর নিকট হতে বিদায় নিল, তিনি তাকে আবার ডাকলেন এবং বললেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি কি দিয়াত গ্রহণ করবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তবে কি তুমি তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি তাকে নিয়ে যাও। যখন সে তাকে নিয়ে চললো এবং তাঁর নিকট হতে বিদায় নিল, তিনি তাকে আবার ডাকলেন এবং বললেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তবে কি তুমি তার বিনিময়ে দিয়াত গ্রহণ করবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তবে কি তুমি তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তাকে নিয়ে যাও। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি তাকে ক্ষমা করতে, তবে সে তার এবং তোমার নিহত সাথীর পাপের বােঝা বহন করতো। তখন ঐ ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করল এবং তাকে ছেড়ে দিল। আমি দেখলাম, ঐ ব্যক্তি তার রশি টেনে চলছে।
৩৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৬
উরওয়াহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرَّ ‏.‏ فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الزُّبَيْرُ إِنِّي أَحْسَبُ أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ ‏{‏ فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ ‏}‏ الآيَةَ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি হাররা নামক স্থানের পানি প্রবাহ নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে মোকদ্দমা দায়ের করলো যে, পানি তারা খেজুর গাছে সিঞ্চন করতো। আনসারী বললো, পানি ছেড়ে দিন, যাতে প্রবাহিত হয়, কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে ঝগড়া করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি তোমার বাগানে সেচ দিয়ে দাও, তোমার পড়শীর দিকে ছেড়ে দাও। এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! বাস্তবপক্ষে যুবায়র তো আপনার ফুফুর ছেলে, তাই! এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি গাছে পানি দিয়ে তা বন্ধ করে রাখ, যেন তা বাগানের দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে। যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমার মনে হয়, (فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ) আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে।
৩৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৭
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ زَوْجَ، بَرِيرَةَ كَانَ عَبْدًا يُقَالُ لَهُ مُغِيثٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ يَطُوفُ خَلْفَهَا يَبْكِي وَدُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى لِحْيَتِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْعَبَّاسِ ‏"‏ يَا عَبَّاسُ أَلاَ تَعْجَبُ مِنْ حُبِّ مُغِيثٍ بَرِيرَةَ وَمِنْ بُغْضِ بَرِيرَةَ مُغِيثًا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ رَاجَعْتِيهِ فَإِنَّهُ أَبُو وَلَدِكِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْمُرُنِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّمَا أَنَا شَفِيعٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَلاَ حَاجَةَ لِي فِيهِ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বারীরা (রাঃ)-এর স্বামী ছিলেন একজন দাস, তাঁর নাম ছিল মুগীস। তিনি বলেন, আমি যেন এখনও দেখছি, তিনি বারীরার পিছে পিছে ঘুরছেন এবং এমনভাবে কাঁদছেন যে, তাঁর অশ্রু তাঁর দাড়ি বেয়ে পড়ছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ হে আব্বাস! আপনি কি বারীরার জন্য মুগীসের ভালবাসায় আর মুগীসের প্রতি বারীরার অনীহাতে আশ্চর্যবােধ করছেন না? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা (রাঃ)-কে বললেনঃ যদি তুমি মুগীসের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে, তা হলে ভাল হতো। কারণ সে তোমার সন্তানের পিতা। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাকে আদেশ করছেন? তিনি বললেনঃ না, আমি তোমরা তোমার নিকট সুপারিশ করছি। তখন সে বললোঃ তা হলে এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই।
৪০
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৮
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَاضِرُ بْنُ الْمُوَرِّعِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ وَكَانَ مُحْتَاجًا وَكَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَبَاعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَأَعْطَاهُ فَقَالَ ‏
"‏ اقْضِ دَيْنَكَ وَأَنْفِقْ عَلَى عِيَالِكَ ‏"‏ ‏.‏
আবদুল আ'লা ইবন ওয়াসিল ইবন আবদুল আলা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, এক আনসারী ঘোষণা করেছিল তার মৃত্যুর পর তার দাস মুক্ত। সে ব্যক্তি ছিল অভাবগ্রস্ত এবং ঋণগ্রস্ত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দাসকে আটশত দিরহামে বিক্রি করে ঐ টাকা তাকে দিয়ে বললেনঃ তুমি এর দ্বারা তোমার ঋণ পরিশোধ কর এবং তোমার পোষ্যদের জন্য ব্যয় কর।
৪১
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪১৯
আবু 'উমামাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ وَإِنْ كَانَ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكٍ ‏"‏ ‏.‏
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দেন এবং তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। তখন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি ঐ মাল অতি নগণ্য হয়? তিনি বললেনঃ যদিও তা পিলু গাছের একটি ডাল হয়।
৪২
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২০
আয়েশা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ هِنْدٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَلاَ يُنْفِقُ عَلَىَّ وَوَلَدِي مَا يَكْفِينِي أَفَآخُذُ مِنْ مَالِهِ وَلاَ يَشْعُرُ قَالَ ‏
"‏ خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ ‏"‏ ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা হিন্দা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। সে না আমার খরচ দেয়, না আমার সন্তানদের। আমি কি তাঁর মাল হতে তার অনুমতি ব্যতীত নিতে পারি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার এবং তোমার সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্গতভাবে নিতে পার।
৪৩
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২১
It was narrated that 'Abdullah bin Abi Bakrah, who was a governor in Sijistan, said
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُبَشِّرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، - وَكَانَ عَامِلاً عَلَى سِجِسْتَانَ - قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ أَبُو بَكْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ لاَ يَقْضِيَنَّ أَحَدٌ فِي قَضَاءٍ بِقَضَاءَيْنِ وَلاَ يَقْضِي أَحَدٌ بَيْنَ خَصْمَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ ‏"‏ ‏.‏
হুসায়ন ইবন মানসূর ইবন জাফার (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ যেন দুই মোকদ্দমার মীমাংসা এক ফয়সালায় না করে। আর কোন ব্যক্তি যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা না করে।
৪৪
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২২
উম্মু সালামা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ وَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَلْحَنُ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَإِنَّمَا أَقْضِي بَيْنَكُمَا عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নিকট বিচার নিয়ে এসে থাক, আমিও তো একজন মানুষ। তোমাদের মধ্যে হয়তো কেউ বর্ণনাভঙ্গিতে অন্য হতে পটু। আমি যা শুনি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করি। যদি আমি কাউকে তার ভাই-এর কোন অধিকার অন্যায়ভাবে দিয়ে দেই; তবে আমি যেন তাকে আগুনের এক অংশই দেই।
৪৫
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২৩
আয়েশা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ ‏"‏ ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট অত্যধিক ঘৃণিত ব্যক্তি সেই, যে ঘোর ঝগড়াটে।
৪৬
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২৪
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ رَجُلَيْنِ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي دَابَّةٍ لَيْسَ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا بَيِّنَةٌ فَقَضَى بِهَا بَيْنَهُمَا نِصْفَيْنِ ‏.‏
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে একটি জন্তুর ব্যাপারে মোকদ্দমা পেশ করলো, কিন্তু তাদের কারো কোন প্রমাণ ছিল না। তিনি রায় দিলেন, সেটি তারা উভয়ে আধাআধি পাবে।
৪৭
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২৫
নাফি' বিন উমর (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ كَانَتْ جَارِيَتَانِ تَخْرُزَانِ بِالطَّائِفِ فَخَرَجَتْ إِحْدَاهُمَا وَيَدُهَا تَدْمَى فَزَعَمَتْ أَنَّ صَاحِبَتَهَا أَصَابَتْهَا وَأَنْكَرَتِ الأُخْرَى فَكَتَبْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فِي ذَلِكَ فَكَتَبَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ وَلَوْ أَنَّ النَّاسَ أُعْطُوا بِدَعْوَاهُمْ لاَدَّعَى نَاسٌ أَمْوَالَ نَاسٍ وَدِمَاءَهُمْ فَادْعُهَا وَاتْلُ عَلَيْهَا هَذِهِ الآيَةَ ‏{‏ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لاَ خَلاَقَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ ‏}‏ حَتَّى خَتَمَ الآيَةَ فَدَعَوْتُهَا فَتَلَوْتُ عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ بِذَلِكَ فَسَرَّهُ ‏.‏
আলী ইবন সাঈদ ইবন মাসরূক (রহঃ) ... ইবন আবু মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তায়েফে দুটি বালিকা জুতা সেলাই করতো। তাদের একজন এমন অবস্থায় বের হলো যে, তার হাত হতে রক্ত পড়ছিল। সে বললোঃ তার বান্ধবী তাকে আঘাত করেছে। কিন্তু অন্য বালিকা তা অস্বীকার করলো। আমি এ ব্যাপারে ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে লিখলাম। তিনি উত্তরে লিখলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন যে, বিবাদী শপথ করবে। কেননা যদি সকলেই তাদের দাবি অনুযায়ী পেয়ে যেত, তাহলে লোক অন্যান্য লোকের জানমাল দাবি করে বসতোমরা। এ ব্যাপারে তার নিকট এ আয়াত তিলাওয়াত করুন : অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং শপথের বিনিময়ে তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশই থাকবে না।” (সূরা আলে ইমরানঃ ৭৭) তিনি পূর্ণ আয়াত শেষ করলেন। তখন আমি ঐ বালিকাকে ডেকে তার নিকট এই আয়াত তিলাওয়াত করলে, সে তার অপরাধ স্বীকার করলো। ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছলে তিনি খুশি হলেন।
৪৮
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২৬
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ مُعَاوِيَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَى حَلْقَةٍ - يَعْنِي مِنْ أَصْحَابِهِ - فَقَالَ ‏"‏ مَا أَجْلَسَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا جَلَسْنَا نَدْعُو اللَّهَ وَنَحْمَدُهُ عَلَى مَا هَدَانَا لِدِينِهِ وَمَنَّ عَلَيْنَا بِكَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ آللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا آللَّهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهَمَةً لَكُمْ وَإِنَّمَا أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلاَئِكَةَ ‏"‏ ‏.‏
সাওয়ার ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাঃ) বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাঁর সাহাবীদের এক মজলিসে পৌছলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের এখানে কিসে বসিয়েছে? তারা বললেনঃ আমরা আল্লাহর স্মরণে এবং তিনি যে আমাদেরকে হিদায়ত দান করেছেন এবং আপনাকে প্রেরণ করে আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর যে ইহসান করেছেন তার শোকক আদায় করার জন্য বসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ সত্যই কি তোমরা এজন্য এখানে বসেছাে? তারা বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমরা এজন্যই এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করে তোমাদের থেকে শপথ নিইনি, বরং এজন্য যে, জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে সংবাদ দিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব করছেন।
৪৯
সুনান আন-নাসাঈ # ৪৯/৫৪২৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ رَأَى عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ رَجُلاً يَسْرِقُ فَقَالَ لَهُ أَسَرَقْتَ قَالَ لاَ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ ‏.‏ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَكَذَّبْتُ بَصَرِي ‏"‏ ‏.‏
আহমদ ইবন হাফস (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) এক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখে তাকে বললেনঃ তুমি চুরি করছো? তখন সে বললোঃ আল্লাহ্ তা'আলার শপথ করে বলছিঃ আমি চুরি করিনি, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। ঈসা (আঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর উপর ঈমান রাখি এবং আমার চক্ষুকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করছি।