১৮৪ হাদিস
০১
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৩৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْمَوْصِلِيُّ، عَنِ الْمُعَافَى، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ الْمَكِّيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمُعَاذٍ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ ‏
"‏ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَإِذَا جِئْتَهُمْ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ - يَعْنِي أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ - فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ فَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু'আয (রাঃ)-কে ইয়ামনে পাঠিয়েছিলেন তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে, তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছো যারা গ্ৰন্থধারী, যখন তুমি তাদের কাছে পৌছবে তখন তাদের তুমি এ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান করবে যে, “আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” যদি তারা তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর দিবা-রাত্রি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা অর্থাৎ তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের মধ্যকার বিত্তবানদের থেকে নেয়া হবে এবং বিত্তহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এই দাওয়াতের সাড়া দেয়। তবে তুমি নিজকে অত্যাচারিত্যের ফরিয়াদ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
০২
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৩৬
বাহজ বিন হাকিম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ بَهْزَ بْنَ حَكِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا أَتَيْتُكَ حَتَّى حَلَفْتُ أَكْثَرَ مِنْ عَدَدِهِنَّ - لأَصَابِعِ يَدَيْهِ - أَنْ لاَ آتِيَكَ وَلاَ آتِيَ دِينَكَ وَإِنِّي كُنْتُ امْرَأً لاَ أَعْقِلُ شَيْئًا إِلاَّ مَا عَلَّمَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ بِوَحْىِ اللَّهِ بِمَا بَعَثَكَ رَبُّكَ إِلَيْنَا قَالَ ‏"‏ بِالإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ وَمَا آيَاتُ الإِسْلاَمِ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَقُولَ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ إِلَى اللَّهِ وَتَخَلَّيْتُ وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয (রহঃ)-এর দাদা থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি আপনার কাছে আসিনি স্বীয় হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিসমূহের সংখ্যারও অধিক এ শপথ না করা পর্যন্ত যে, আমি আপনার কাছেও আসিব না আর আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। আর এখন আমি এমন হয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা এবং তদীয় রাসূল আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমি আর কিছুই জানি না। আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি আল্লাহ তা’আলার ওহী সম্পর্কে যা দিয়ে আপনার রব আপনাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। (তখন) তিনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইসলামের চিহ্ন কি কি? তিনি বললেন, তোমার এ কথা বলা যে, আমি স্বীয় চেহারাকে (নিজকে) আল্লাহ তা'আলার অনুগত বানিয়ে নিলাম, অন্য সব কিছু থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করে।
০৩
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৩৭
আবদ আল-রহমান বিন ঘানম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ مُسَاوِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ أَخِيهِ، زَيْدِ بْنِ سَلاَّمٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، أَنَّ أَبَا مَالِكٍ الأَشْعَرِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلأُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَالصَّلاَةُ نُورٌ وَالزَّكَاةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏
ঈসা ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আবু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচিত বলেছেনঃ উত্তমভাবে ওষু করা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদুলিল্লাহ মীযানকে পরিপূর্ণ করে ফেলবে, তাসবীহ এবং তাকবীর আসমান এবং যমীনসমূহকে পরিপূর্ণ করে ফেললে। সালাত হল আলো আর যাকাত হল দলীল, ধৈর্য (সাওমা) হল নূর এবং কুরআন হল তোমার পক্ষের অথবা বিপক্ষের প্রমাণ।
০৪
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৩৮
সুহাইব আর-রুমী (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي صُهَيْبٌ، أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَمِنْ أَبِي سَعِيدٍ يَقُولاَنِ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَكَبَّ فَأَكَبَّ كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا يَبْكِي لاَ نَدْرِي عَلَى مَاذَا حَلَفَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فِي وَجْهِهِ الْبُشْرَى فَكَانَتْ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَيَصُومُ رَمَضَانَ وَيُخْرِجُ الزَّكَاةَ وَيَجْتَنِبُ الْكَبَائِرَ السَّبْعَ إِلاَّ فُتِّحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَقِيلَ لَهُ ادْخُلْ بِسَلاَمٍ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সম্বোধন করে তিনবার বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তিনবার বলার পর তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। আমাদের প্রত্যেকেই উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে ক্ৰন্দন করতে লাগল। আমরা বুঝতেই পারলাম না যে, তিনি কোন কথার উপর শপথ করলেন। অতঃপর তিনি স্বীয় মস্তক উত্তোলন করলেন। তাঁর চেহারাতে তখন আনন্দের বিচ্ছুরণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে সব রকমের নিয়ামত অপেক্ষা অধিক প্রিয় ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ যে বান্দা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমযান মাসে সাওম পালন করে, যাকাত প্ৰদান করে এবং সাতটি কবিরা গুনাহ পরিত্যাগ করে থাকে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে যে, তুমি প্রশান্ত চিত্তে জান্নাতে প্রবেশ কর।
০৫
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৩৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ شَىْءٍ مِنَ الأَشْيَاءِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ لَكَ وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ عَلَى مَنْ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلِّهَا أَحَدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ ‏.‏
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় সম্পদ হতে এক জোড়া বস্তুও দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহবান করা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা, এ তোমার জন্য উত্তম। জগন্নাতের অনেক দরজা আছে। যে সালাত আদায়কারী হবে তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্ৰদানকারী হবে তাকে যাকাতের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী হবে তাকে রাইয়্যান নামক দরজা হতে আহবান করা হবে। আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারো কি এমন আমল থাকবে যাকে প্রত্যেক দরজা দিয়ে আহবান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে? কাউকে কি প্রত্যেক দরজা দিয়েই আহবানকরা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এবং আমি আশা করি যে, তুমি তাদের মধ্য থেকেই হবে অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ)।
০৬
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪০
আবু যার আল-গিফারী (রাঃ)
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَلَمَّا رَآنِي مُقْبِلاً قَالَ ‏"‏ هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ مَا لِي لَعَلِّي أُنْزِلَ فِيَّ شَىْءٌ قُلْتُ مَنْ هُمْ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قَالَ ‏"‏ الأَكْثَرُونَ أَمْوَالاً إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا حَتَّى بَيْنَ يَدَيْهِ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ يَمُوتُ رَجُلٌ فَيَدَعُ إِبِلاً أَوْ بَقَرًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ أُولاَهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ ‏"‏ ‏.‏
হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম; তখন তিনি কা'বার ছায়ায় বসা ছিলেন। তিনি আমাকে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, কা'বার রাবের শপথ, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি মনে মনে বললাম, আমার সর্বনাশ, মনে হয় আমার সম্পর্কে কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল ধনাঢ্য ব্যক্তিরা, কিন্তু যারা এত, এত, এত পরিমাণ দান খয়রাত করে এমনকি তাদের সামনে, ডানে এবং বামে (কল্যাণের বিভিন্ন খাতে) দান কয়রাত করে। অতঃপর তিনি বললেন যে, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন রয়েছে, যে ব্যক্তি উট, গরুর যাকাত প্ৰদান না করে মারা যায় কিয়ামতের দিন সেগুলোকে পূর্বাপেক্ষা বিরাট এবং বলিষ্ঠাকারে তার সামনে আনা হবে; সেগুলো তাকে ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন দ্বিতীয়টা ফিরে যাবে প্রথমটা ফিরে আসবে। এরূপ চলতে থাকবে লোকজনের মাঝে বিচার কার্য নিম্পন্ন না পর্যন্ত ।
০৭
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪১
আব্দুল্লাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَامِعِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا مِنْ رَجُلٍ لَهُ مَالٌ لاَ يُؤَدِّي حَقَّ مَالِهِ إِلاَّ جُعِلَ لَهُ طَوْقًا فِي عُنُقِهِ شُجَاعٌ أَقْرَعُ وَهُوَ يَفِرُّ مِنْهُ وَهُوَ يَتْبَعُهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَرَأَ مِصْدَاقَهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏}‏ الآيَةَ ‏.‏
মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তির ধন-সম্পদ রয়েছে অথচ সে তার যাকাত প্রদান করছে না সেগুলো দিয়ে তার গলায় দুর্দান্ত অতি বিষাক্ত সৰ্প রূপে বেড়ি দেওয়া হবে, সেই ব্যক্তি সৰ্প থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে। অতঃপর তিনি কুরআন থেকে তার প্রমাণ পেশ করলেনঃ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمْ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গল, ইহা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে বরং ইহা তাদের জন্য অমঙ্গল। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন উহাই তাদের গলায় বেড়ি হবে। (সূরা আলে ইমরানঃ)
০৮
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الْغُدَانِيِّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ أَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ إِبِلٌ لاَ يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا نَجْدَتُهَا وَرِسْلُهَا قَالَ ‏"‏ فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا إِذَا جَاءَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ بَقَرٌ لاَ يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَغَذَّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ وَآشَرَهُ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا وَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ لاَ يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَكْثَرِهِ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ ثُمَّ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا وَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلاَ عَضْبَاءُ إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ ‏"‏ ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তির উট রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন যে, উটের সবল এবং দুর্বল হওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ সেগুলোর (মালিকের) সুদিন কিংবা দুর্দিনে থাকা। কেননা সেগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ উটগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। সেই উটগুলো তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী উটটি ফিরে যাবে পূববর্তী উটটি ফিরে আসবে। এই শাস্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন (শাস্তিপ্রাপ্ত লোকটির জন্য) পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে, এই শান্তি লোকদের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির গরু রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সেই গরুগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ গরুগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তাকে প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূর্ববতীর্ণ জন্তুগুলো ফিরে আসবে, এমন একদিন এই শাস্তি দেওয়া হবে যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে। এই শাস্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন হওয়া না পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিবেঃ) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির ছাগল রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর যাকাত প্ৰদান করে না সবল বা দুর্বল অবস্থায়, সেই ছাগল গুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এলং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। অতঃপর সেই ব্যক্তিকে ঐ ছাগলগুলোর সামনে একটি প্রশান্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তখন প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে এবং প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। কিয়ামতের দিন কোন জন্তু কেঁকড়ানো শিং বিশিষ্ট বা ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট হবে না। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূৰ্ববতী জন্তুগুলো ফিরে আসবে। এই শান্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সম পরিমাণ হবে। এই শান্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে স্বীয় গন্তব্য স্থান দেখে নেবে।
০৯
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ ‏.‏ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন আর আরবের যারা কাফির হওয়ার ছিল তারা কাফির হয়ে গেল (যাকাত দিতে অস্বীকার করল) তখন উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিভাবে জিহাদ করবেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত লোকজন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না পড়বে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তবে যে ব্যক্তি 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে তার জানমাল আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। অবশ্য তার প্রাপ্য বহাল থাকবে (অপরাধের শাস্তি তাকে পেতে হবে।) তার বাকী হিসাব আল্লাহর উপর সোপর্দ। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও জিহাদ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল সম্পদের পাওনা। আল্লাহর শপথ, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রদান করত, তাহলে সেই রশি প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। উমর (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর শপথ, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তের সাথে এই কারণে ঐক্যমত পোষণ করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
১০
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৪
বাহজ বিন হাকিম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ لاَ يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ أَبَى فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةٌ مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا لاَ يَحِلُّ لآلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا شَىْءٌ ‏"‏ ‏.‏
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ)-এর দাদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক বিচরণকারী উটের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটি দিতে হবে (যখন উটের সংখ্যা এক শত বিশের অধিক হবে।) এই হিসাব থেকে কোন প্রকার উট বাদ যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়্যতে তা প্ৰদান করবে তাকে তার সওয়াব প্ৰদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি তা প্রদানে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসূল করে নেব এবং তার আরো অর্ধেক উট উসূল করে নেব। এটা আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াজিব সমূহের এক ওয়াজিব। যাকাতের কোন বস্তু মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধরদের জন্য বৈধ নয়।
১১
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৫
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، ح وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، وَشُعْبَةَ، وَمَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকে (ত্রিশ মণ) এর কম মালে যাকাত ওয়াজিব হয় না। পাঁচ উটের কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না এবং পাঁচ ওকিয়া (দুই শত দিৱাহাম)-এর কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না।
১২
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৬
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটির কম উটে যাকাত নেই, পাঁচ ওকিয়ার কম দ্রব্যেও যাকাত নেই। আর পাঁচ ওসাকের কম দ্রব্যেও কোন যাকাত নেই।
১৩
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৭
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُظَفَّرُ بْنُ مُدْرِكٍ أَبُو كَامِلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَخَذْتُ هَذَا الْكِتَابَ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ كَتَبَ لَهُمْ إِنَّ هَذِهِ فَرَائِضُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِ وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَ ذَلِكَ فَلاَ يُعْطِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ فِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ بِنْتُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ بِنْتُ لَبُونٍ وَعِنْدَهُ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعٌ مِنَ الإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ فَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةٌ وَاحِدَةٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبُعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةَ دِرْهَمٍ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাদেরকে লিখলেন যে, আল্লাহ তা’আলার নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর এ ফরয যাকাত ধাৰ্য করেছেন। অতএব, যে মুসলিমকে নিয়ম মাফিক যাকাত আদায় করতে বলা হবে সে আদায় করে দেবে, আর যে ব্যক্তিকে এর চেয়ে বেশী আদায় করতে বলা হবে সে তা আদায় করবে না। পঁচিশটির কম উট হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকৱী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত দুই বছরী উট দিতে হবে। দুই বছরী উট না থাকলে একটি তিন বছৱী পুরুষ উট দিবে। ছয়ত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযুক্ত চার বছরী উট, একষট্রি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি পাঁচ বছৱী উট, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুইটি তিন বছরী উট, একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযুক্ত দুইটি চার বছৱী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটি উটের বেশী হবে তখন প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে। যখন যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের বিভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কাহারের উপর একটি পাঁচ বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোন পাঁচ বছরী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ থেকে চার বছরী উটি আদায় করে সম্ভব হলে আরো দু'টি ছাগল বা বিশটি দিরহাম আদায় করবে। যার উপর একটি চার বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উটই আছে তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুইটি ছাগল যাই সম্ভব হয় ফিরিয়ে দেবে। যার উপর চার বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তার সাথে আদায় করে নেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছে থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তা নেবে। আর যার উপর দুই বছরী উট ওয়াজিব হয়ে যায় অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসুল করে নেবে এবং তার সাথে অন্য কোন কিছু নেবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে চায় তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসাবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দুটি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ খুঁত বিশিষ্ট এবং পুরুষ ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, উসুলকারী যদি ইচ্ছা করে তবে আদায় করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শরিকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। খাটি রৌপ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিয়ে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
১৪
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، مِمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، مِمَّا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ بِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ تَأْتِي الإِبِلُ عَلَى رَبِّهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا هِيَ لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَأْتِي الْغَنَمُ عَلَى رَبِّهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا - قَالَ - وَمِنْ حَقِّهَا أَنْ تُحْلَبَ عَلَى الْمَاءِ أَلاَ لاَ يَأْتِيَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِبَعِيرٍ يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ لَهُ رُغَاءٌ فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ ‏.‏ فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ ‏.‏ أَلاَ لاَ يَأْتِيَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِشَاةٍ يَحْمِلُهَا عَلَى رَقَبَتِهِ لَهَا يُعَارٌ فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ ‏.‏ فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ - قَالَ - وَيَكُونُ كَنْزُ أَحَدِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ وَيَطْلُبُهُ أَنَا كَنْزُكَ فَلاَ يَزَالُ حَتَّى يُلْقِمَهُ أُصْبُعَهُ ‏"‏ ‏.‏
ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের মালিক যাকাত আদায় না করলে উট তার কাছে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে। তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। আর ছাগলের মালিকও যাকাত আদায় না করলে ছাগল তার সামনে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে; তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন যে, জীব জন্তুর অধিকার হল পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।* সাবধান, কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধ দেশে কোন উটি নিয়ে উপস্থিত না হয় যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মদ! আমি বলবঃ আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই আল্লাহর হুকুম পৌছিয়ে দিয়েছিলাম। সাবধান, তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধাদেশে কোন ছাগল নিয়ে উপস্থিত না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মাদ! তখন আমি বলবঃ আমি তো আগেই (আল্লাহর হুকুম) পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমাদের কারো কারো সম্পদ যে সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় করা হয় না কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সৰ্পের আকার ধারণ করবে। আর ঐ ব্যক্তি তা থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সাপে তার পিছু নিতে থাকবে এবং বলতে থাকবেঃ আমি তো তোমার সম্পদ। এইরূপ পিছু নিতে নিতে অবশেষে ঐ সৰ্প তার অঙ্গুলী (এবং পৰ্যায়ক্রমে সমস্ত দেহ) গিলে ফেলবে।
১৫
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৪৯
বাহজ বিন হাকিম (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ بَهْزَ بْنَ حَكِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ لاَ تُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا لَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا لاَ يَحِلُّ لآلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا شَىْءٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ঐ প্রত্যেক বিচরণকারী উটের যাকাত হল প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী। উটের হিসাব থেকে কোন উটকে বাদ দেওয়া হবে না। য়ে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়াতে তা দান করবে তার জন্য তার সওয়াব বুয়েছে আর যে ব্যক্তি তা আদায় করতে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসুল করে নেব, সাথে সাথে আরো অর্ধেক উন্ট নিয়ে নেব। এটা আমার আল্লাহর হকসমূহ থেকে একটি হক। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের জন্য এর কোন অংশ বৈধ হবে না।
১৬
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫০
মু'আয (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، - وَهُوَ ابْنُ مُهَلْهَلٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ كُلِّ حَالِمٍ دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مَعَافِرَ وَمِنَ الْبَقَرِ مِنْ ثَلاَثِينَ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) ... মু'আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তাদের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার করে আদায় করেন। অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন। আর গরুর যাকাত হিসেবে প্রত্যেক ত্ৰিশে একটি দুই বছর বয়সী বৃষ বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন।
১৭
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫১
মু'আয (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى، - وَهُوَ ابْنُ عُبَيْدٍ - قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، وَالأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ قَالَ مُعَاذٌ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ بَقَرَةً ثَنِيَّةً وَمِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعًا وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مَعَافِرَ ‏.‏
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি তিন বছর বয়সী গাভী এবং প্রত্যেক ত্রিশটি থেকে একটি দুই বছর বয়সী গরু। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী কাপড় আদায় করি।
১৮
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫২
মু'আয (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، قَالَ لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ أَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ مِنَ الْبَقَرِ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مَعَافِرَ ‏.‏
আহমদ ইবন হারবা (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে পাঠান। তখন তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি প্রত্যেক ত্রিশটি গরুতে একটি দুই বছর বয়সী গরু বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশটি গরুতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন।
১৯
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৩
মুয়ায তো ইয়েমেন (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَعَثَنِي إِلَى الْيَمَنِ أَنْ لاَ آخُذَ مِنَ الْبَقَرِ شَيْئًا حَتَّى تَبْلُغَ ثَلاَثِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ ثَلاَثِينَ فَفِيهَا عِجْلٌ تَابِعٌ جَذَعٌ أَوْ جَذَعَةٌ حَتَّى تَبْلُغَ أَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا بَقَرَةٌ مُسِنَّةٌ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবনুন মানসুর তুসী (রহঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠানাের সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি গরুর সংখ্যা ত্রিশ না হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কোন যাকাত আদায় না করি। যখন ত্রিশ হয়ে যাবে তখন একটি দুই বছর বয়সী পুরুষ অথবা স্ত্রী বাছুর (এঁড়ে বা বকনা) দিতে হবে। এ হুকুম চল্লিশ পর্যন্ত (ত্ৰিশের বেশী কিন্তু চল্লিশের কম)। চল্লিশ হয়ে গেলে তাতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী ওয়াজিব হবে।
২০
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৪
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ ابْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلاَ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ وُقِفَ لَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَطَؤُهُ ذَاتُ الأَظْلاَفِ بِأَظْلاَفِهَا وَتَنْطَحُهُ ذَاتُ الْقُرُونِ بِقُرُونِهَا لَيْسَ فِيهَا يَوْمَئِذٍ جَمَّاءُ وَلاَ مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَاذَا حَقُّهَا قَالَ ‏"‏ إِطْرَاقُ فَحْلِهَا وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ صَاحِبِ مَالٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهُ إِلاَّ يُخَيَّلُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعٌ أَقْرَعُ يَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يَتْبَعُهُ يَقُولُ لَهُ هَذَا كَنْزُكَ الَّذِي كُنْتَ تَبْخَلُ بِهِ فَإِذَا رَأَى أَنَّهُ لاَ بُدَّ لَهُ مِنْهُ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي فِيهِ فَجَعَلَ يَقْضَمُهَا كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ ‏"‏ ‏.‏
ওয়াসিল ইবন আব্দুল আ'লা (রাঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উট, গরু এবং ছাগলের প্রাপ্য আদায় না করবে তাকে কিয়ামতের দিন একটি সমতল ভূমিতে উখিত করা হবে। তাকে ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তুরা ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তুরা শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সে দিন কোন জন্তু শিং বিহীন বা ভগ্ন শিং বিশিষ্ট থাকবে না। আমরা প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জন্তুর প্রাপ্য কি? তিনি বললেন, ষাঁড় গরু ধার দেওয়া, ডোল (বালতি) ধার দেওয়া এবং পশুর উপর আল্লাহর রাস্তায় ভার বহন করা। (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য পশু ধার দেওয়া) আর যে ধন্যবান ব্যক্তি ধন সম্পদের যাকাত আদায় না করবে কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ধন সম্পদ তার সামনে বিষাক্ত সৰ্পকারে উপস্থিত হবে, ঐ ধনবান ব্যক্তি তার থেকে পলায়ন করবে কিন্তু ঐ সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে এবং বলবে যে, এতো তোমার ধন সম্পদ যা থেকে তুমি ব্যয় করতে না। যখন সে ব্যক্তি দেখবে যে, ঐ সৰ্পের কাছে যেতেই হবে তখন সে স্বীয় হস্ত ঐ সৰ্পের মুখে প্রবেশ করিয়ে দেবে। আর সর্প তা চিবুতে থাকবে যে রূপ যাঁড় চিবুতে থাকে।
২১
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ النَّسَائِيُّ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُرَيْحُ بْنُ النُّعْمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، رضى الله عنه كَتَبَ لَهُ أَنَّ هَذِهِ فَرَائِضُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلاَ يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ فِي خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونِ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسَةٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلاَّ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَعِنْدَهُ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعَةٌ مِنَ الإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ وَلاَ تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةٌ وَاحِدَةٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبُعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهِ شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا ‏.‏
উবায়দুল্লাহ ইবন ফাদালাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাকে লিখেছিলেনঃ এ হলো ফরয যাকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে মুসলিমদের উপর ধার্য করেছেন। তাই যে কোন মুসলিমের কাছে তা নিয়ম মাফিক চাওয়া হবে সে তা দিয়ে দেবে। আর যার কাছে অধিক দাবী করা হবে সে তা আদায় করবে না। উট পঁচিশের কম হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকরী। পঁচিশ হয়ে গেলে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত একটি দুই বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব। দুই বছর বয়সী উটনী না পেলে তিন বছর বয়সী উট দিতে হবে। ছয়ত্রিশ হয়ে গেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব। ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত উট চার বছর বয়সী আরোহণের উপযুক্ত একটি উটনী ওয়াজিব। একষট্টি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত উটে একটি পাঁচ বছর বয়সী উটনী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত হলে তাতে দুটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ পর্যন্ত হলে তাতে আরোহণের উপযুক্ত চার বছর বয়সী দুটি উটনী ওয়াজিব হবে। একশত বিশের অধিক হয়ে গেলে প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছর বয়সী উটনী দিতে হবে। যদি ফরয যাকাত আদায়কালীন উটের বয়সের তারতম্য হয়ে যায় যেমন কারো উপর একটি পাঁচ বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়ে পেল অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উট নেই বরং চার বছর বয়সী উট রয়েছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই আদায় করা হবে এবং তার সাথে যদি সম্ভব হয় দুইটি ছাগল অথবা বিশটি দিরহাম দিয়ে দিবে। আর কারের উপর একটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উটনী নেই এবং দুই বছর বয়সী উটনী আছে, তাহলে তার কাছ থেকে তাই আদায় করা হবে এবং তার সাথে যাকাত প্ৰদানকারী যাকাত উসুলকারীকে যদি সম্ভব হয় দুটি ছাগল অথবা বিশটি দিব্রহহাম দিয়ে দিবে। আর কারো উপর একটি চার বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী উট রয়েছে তা হলে তার থেকে তাই আদায় করে নেওয়া হবে এবং যাকাত প্রদানকারী যদি সম্ভব হয়, তাহলে তার সাথে দুটি ছাগল কিংবা বিশটি দিরহাম দিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে শুধু চার বছর বয়সী উটনী রয়েছে তাহলে তার থেকে তাই গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুটি ছাগল দেবে। আর কারো উপর দু' বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী উট রয়েছে তাহলে তার থেকে তাই গ্রহণ করা হবে এবং তার সাথে আর কিছু দিতে হবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট রয়েছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। অবশ্য তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। ছাগলের যাকাত চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত একটি ছাগল। যদি একশত বিশটির উপর একটি ছাগলও বেশী হয় তবে দু'টি ছাগল ওয়াজিব হবে। যদি তার থেকে একটি বেশী হয়ে যায় তাহলে তিনশত পর্যন্ত তিনটি ছাগল দিতে হবে। যদি তার থেকে একটিও বেশী হয়ে যায় তবে প্রতি একশতে একটি করে ছাগল ওয়াজিব হবে। আর যাকাত আদায়কালে অত্যধিক বৃদ্ধ এবং ত্রুটিযুক্ত ও পাঠা ছাগল গ্রহণ করা হবে না। অবশ্য যাকাত উসুলকারী যদি ভাল মনে করে তবে তা গ্ৰহণ করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু একত্রিত করা যাবে না। আর একত্রিত পশুও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। শরীকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটির থেকে একটিও কম হয় তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর রৌপ্যের যাকাত হল চল্লিশ ভাগের এক ভাগ (প্রতি শতে আড়াই ভাগ)। যদি কারো কাছে একশত নব্বইটি দিরহাম থাকে তাহলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
২২
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৬
আবু যার আল-গিফারী (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلاَ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا كُلَّمَا نَفَذَتْ أُخْرَاهَا أَعَادَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গরু এবং ছাগলের অধিকারী হয়েও যাকাত আদায় না করবে, কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত পশু পূর্বাপেক্ষা বৃহৎ এবং মােটা আকারে তার কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত এবং স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। যখনই পরেরটা ফিরে যাবে পূর্বেরটা ফিরে আসবে। এ রকমই চলতে থাকবে লোকজনের বিচার কার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত।
২৩
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৭
সুওয়াইদ বিন গাফালাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ أَتَانَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏"‏ إِنَّ فِي عَهْدِي أَنْ لاَ نَأْخُذَ رَاضِعَ لَبَنٍ وَلاَ نَجْمَعَ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ نُفَرِّقَ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَاهُ رَجُلٌ بِنَاقَةٍ كَوْمَاءَ فَقَالَ ‏"‏ خُذْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَى
হান্নাদ ইবন সারিয়্যী (রহঃ) ... সুওয়াইদ ইবন গাফালাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত উসূলকারী আসলে আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ "আমার অঙ্গীকারের মধ্যে আছে (আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ) আমি যেন দুগ্ধবতী জন্তু না নেই এবং বিচ্ছিন্ন জন্তুসমূহ একত্রিত না করি, একত্ৰিত জন্তুসমূহকে বিচ্ছিন্ন না করি। (রাবী বলেন) ইতিমধ্যে তাঁর কাছে এক ব্যক্তি উচু কুঞ্জ বিশিষ্ট একটি উটি নিয়ে এসে বলল যে, এটা আপনি গ্ৰহণ করুন, কিন্তু তিনি গ্ৰহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।
২৪
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৮
ওয়াইল বিন হুজর (রাঃ)
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ يَزِيدَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الزَّرْقَاءِ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَاعِيًا فَأَتَى رَجُلاً فَأَتَاهُ فَصِيلاً مَخْلُولاً فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بَعَثْنَا مُصَدِّقَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنَّ فُلاَنًا أَعْطَاهُ فَصِيلاً مَخْلُولاً اللَّهُمَّ لاَ تُبَارِكْ فِيهِ وَلاَ فِي إِبِلِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَبَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ فَجَاءَ بِنَاقَةٍ حَسْنَاءَ فَقَالَ أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اللَّهُمَّ بَارِكْ فِيهِ وَفِي إِبِلِهِ ‏"‏ ‏.‏
হারূন ইবন যায়ীদ (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবন হুজুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন যাকাত উসূলকারীকে পাঠালেন। তিনি এক ব্যক্তির কাছে গেলে সে তাকে একটি উটের দুর্বল বাচ্চা দিল। (বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসলে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল এর পক্ষ থেকে যাকাত উসুলকারীকে পাঠালাম, অথচ অমুক ব্যক্তি তাকে একটি উটের দুর্বল বাচ্চা দিয়ে দিল। হে আল্লাহ; তুমি তাকে এবং তার উটে কোন বরকত দিও না। এ সংবাদ তার কাছে পৌছলে সে একটি উত্তম উটনী নিয়ে আসল এবং বললঃ আমি আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল এর কাছে তওবা করছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তুমি তাকে এবং উটের বরকত দান কর।
২৫
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৫৯
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَاهُ أَبِي بِصَدَقَتِهِ فَقَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى ‏"‏ ‏.‏
আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন সমাজের কেউ যাকাত নিয়ে আসত তখন তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ, অমুকের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করা। (রাবী বলেন), আমার পিতা তাঁর কাছে যাকাত নিয়ে আসলে তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! তুমি আবু আওফার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করা।
২৬
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬০
আবদ আল-রহমান বিন হিলাল (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلاَلٍ، قَالَ قَالَ جَرِيرٌ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ يَأْتِينَا نَاسٌ مِنْ مُصَدِّقِيكَ يَظْلِمُونَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَإِنْ ظَلَمَ قَالَ ‏"‏ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالُوا وَإِنْ ظَلَمَ قَالَ ‏"‏ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ جَرِيرٌ فَمَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ مُنْذُ سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ رَاضٍ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কয়েকজন বেদুঈন এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কাছে আপনার পক্ষ থেকে কোন কোন যাকাত উসূলকারী আসে, যারা সীমালংঘন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজ যাকাত উসুলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। তারা বলল যাকাত উসুলকারী সীমালংঘন করলেও? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজ যাকাত উসূলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। তারা আবারও বলল, যাকাত উসুলকারী সীমালংঘন করলেও? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজ যাকাত উসূলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। জারীর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে থেকে এমন কথা শোনার পর হতে কোন যাকাত উসুলকারী আমার কাছ থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায়নি।
২৭
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬১
আল-শাব্বি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - هُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ - قَالَ أَنْبَأَنَا دَاوُدُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ قَالَ جَرِيرٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِذَا أَتَاكُمُ الْمُصَدِّقُ فَلْيَصْدُرْ وَهُوَ عَنْكُمْ رَاضٍ ‏"‏ ‏.‏
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কাছে যাকাত উসুলকারী আসবে তখন তোমরা তার সাথে এমন ব্যবহার করবে, যাতে সে তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায়।
২৮
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬২
মুসলিম বিন থাফিহান (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ ثَفِنَةَ، قَالَ اسْتَعْمَلَ ابْنُ عَلْقَمَةَ أَبِي عَلَى عِرَافَةِ قَوْمِهِ وَأَمَرَهُ أَنْ يُصَدِّقَهُمْ، فَبَعَثَنِي أَبِي إِلَى طَائِفَةٍ مِنْهُمْ لآتِيَهُ بِصَدَقَتِهِمْ فَخَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى شَيْخٍ كَبِيرٍ يُقَالُ لَهُ سَعْرٌ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي بَعَثَنِي إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ ‏.‏ قَالَ ابْنَ أَخِي وَأَىُّ نَحْوٍ تَأْخُذُونَ قُلْتُ نَخْتَارُ حَتَّى إِنَّا لَنَشْبُرُ ضُرُوعَ الْغَنَمِ ‏.‏ قَالَ ابْنَ أَخِي فَإِنِّي أُحَدِّثُكَ أَنِّي كُنْتُ فِي شِعْبٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَنَمٍ لِي فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ عَلَى بَعِيرٍ فَقَالاَ إِنَّا رَسُولاَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ وَمَا عَلَىَّ فِيهَا قَالاَ شَاةٌ ‏.‏ فَأَعْمِدُ إِلَى شَاةٍ قَدْ عَرَفْتُ مَكَانَهَا مُمْتَلِئَةً مَحْضًا وَشَحْمًا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالَ هَذِهِ الشَّافِعُ ‏.‏ وَالشَّافِعُ الْحَائِلُ وَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَأْخُذَ شَافِعًا قَالَ فَأَعْمِدُ إِلَى عَنَاقٍ مُعْتَاطٍ - وَالْمُعْتَاطُ الَّتِي لَمْ تَلِدْ وَلَدًا وَقَدْ حَانَ وِلاَدُهَا - فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالاَ نَاوِلْنَاهَا فَرَفَعْتُهَا إِلَيْهِمَا فَجَعَلاَهَا مَعَهُمَا عَلَى بَعِيرِهِمَا ثُمَّ انْطَلَقَا ‏.‏
মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... মুসলিম ইবন সাফীনা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন আলকামা (রহঃ) আমার পিতাকে তাঁর গােত্রের অবস্থা দেখাশুনার জন্য নিযুক্ত করলেন এবং তাঁকে তাদের থেকে যাকাত উসূল করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমার পিতা আমাকে একটি দলের নিকট পাঠালেন, যাতে আমি তাদের থেকে যাকাত উসূল করে তাঁর কাছে নিয়ে আসি। আমি বের হয়ে গেলাম এবং সা'র নামক একজন বৃদ্ধ লােকের কাছে আসলাম। আমি তাকে বললাম যে, আমার পিতা আপনার ছাগলের যাকাত উসূল করার জন্য আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র, তােমরা কিরূপ ছাগল নিয়ে থাক? আমি বললাম যে, আমরা পছন্দ করে উসূল করে থাকি, এমনকি আমরা বকরীর দুধের স্তনও পরীক্ষা করে নেই। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুস্পুত্র! আমি তােমার কাছে বর্ণনা করছি, (শুন) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যখন এই সমস্ত উপত্যকা সমূহের কোন এক উপত্যকায় আমার ছাগল নিয়ে থাকতাম, তখন উটের উপর আরােহণ করে দুইজন লােক আমার কাছে এসে বললেন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি। আপনার কাছে এসেছি আপনার ছাগলের যাকাত উসূল করার জন্য। তিনি বলেন, আমি বললাম যে, আমার এই সমস্ত ছাগলের জন্য কিরূপ যাকাত ওয়াজিব হবে? তারা বললেন, একটা বকরী (ওয়াজিব হবে)। তখন আমি এমন একটি বকরী দেওয়ার ইচ্ছা করলাম যার সম্পর্কে আমার জানা ছিল যে, সেটা অত্যধিক দুগ্ধবতী এবং বলিষ্ঠদেহী। আমি সেটাই তাদেরকে বের করে দিলাম। তারা বললেন যে, এটাতাে গর্ভবতী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গর্ভবতী বকরী নিতে নিষেধ করেছেন । তখন আমি তাদেরকে এমন একটি উত্তম বকরী দিতে মনস্থ করলাম, যা এখনাে গর্ভবতী হয়নি তবে অচিরেই গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি তা তাদের সামনে বের করে দিলে তারা বললেন, আমরা এটা গ্রহণ করলাম । আমি তাই তাদেরকে দিয়ে দিলাম। তারা সেটাকে নিজেদের সাথে স্বীয় উটের উপর উঠিয়ে নিলেন এবং প্রস্থান করলেন।
২৯
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৩
মুসলিম বিন থাফিনাহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمُ بْنُ ثَفِنَةَ، أَنَّ ابْنَ عَلْقَمَةَ، اسْتَعْمَلَ أَبَاهُ عَلَى صَدَقَةِ قَوْمِهِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ ‏.‏
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন মুসলিম ইবন ছাফিনা (রহঃ) বলেন যে, আলকামা (রহঃ) তাঁর পিতাকে (মুসলিম এর পিতা ছাফিনাকে) স্বীয় গোত্রের যাকাত উসূল করার জন্য নিযুক্ত করে ছিলেন। রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন (কিন্তু এখানে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে)।
৩০
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৪
আবু হুরারিয়াহ (রাঃ)
أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، مِمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، مِمَّا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ قَالَ وَقَالَ عُمَرُ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَدَقَةٍ فَقِيلَ مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهِيَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ وَمِثْلُهَا مَعَهَا ‏"‏ ‏.‏
ইমরান ইবন বাককার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উমর (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায় করতে আদেশ করলে তাঁকে বলা হল যে, ইবন জামীল, খালীদ ইবন ওয়ালীদ এবং আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত অস্বীকার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবন জামীল যাকাত না দিয়ে আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করছে। সে একজন দরিদ্র লোক ছিল তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সম্পদশালী করেছেন। আর খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)-এর উপর তোমরা অবিচার করছি। কেননা সে তার ধর্ম এবং অন্যান্য সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্‌ফ করে দিয়েছে। আর আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তলিব (রাঃ), রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা, তার উপরে তো যাকাত প্রযোজ্য হবেই, বরং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরো কিছু তাঁকে দান করতে হবে। (যেহেতু তিনি সম্মানিত ব্যক্তি।)
৩১
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَدَقَةٍ مِثْلَهُ سَوَاءً ‏.‏
আহমদ ইবন হাফস্ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত প্ৰদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী এ বর্ণনাকে হুবহু পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।
৩২
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৬
আব্দুল্লাহ বিন হিলাল আল-সাকাফী (রহ.)
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلاَلٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كِدْتُ أُقْتَلُ بَعْدَكَ فِي عَنَاقٍ أَوْ شَاةٍ مِنَ الصَّدَقَةِ ‏.‏ فَقَالَ ‏
"‏ لَوْلاَ أَنَّهَا تُعْطَى فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ مَا أَخَذْتُهَا ‏"‏ ‏.‏
আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ও মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন হিলাল সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আপনার তিরোধানের পরে শীঘ্রই আমাকে যাকাতের উট এবং বকরীর জন্য হত্যা করা হবে, (যাকাতের ব্যাপারে আপনার জীবদ্দশায়ই যখন এত কড়াকড়ি, না জানি আপনার তিরোধানের পর কত কড়াকড়ি করা হয়) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সেগুলো গরীব মুহাজিরদের মাঝে দান করে দেওয়া না হত, তাহলে সেগুলো আমি গ্রহণই করতাম না।
৩৩
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৭
আবু হুরারিয়াহ (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، وَسُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فَرَسِهِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৩৪
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ الْوَضَّاحِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - وَهُوَ ابْنُ أُمَيَّةَ - عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ زَكَاةَ عَلَى الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فَرَسِهِ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৩৫
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৬৯
It was narrated from Abu Hurairah and attributed to the Prophet
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فِي فَرَسِهِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না।
৩৬
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ خُثَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمَرْءِ فِي فَرَسِهِ وَلاَ فِي مَمْلُوكِهِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৩৭
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فِي فَرَسِهِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন সালমা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৩৮
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خُثَيْمِ بْنِ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ صَدَقَةٌ فِي غُلاَمِهِ وَلاَ فِي فَرَسِهِ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৩৯
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৩
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، عَنْ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। পাঁচটি উটের কম উটে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচ ওসকের কম মালেও কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না।
৪০
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৪
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ الْمَازِنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকের কম স্তরে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না; পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচটি উটের কম উটেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৪১
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৫
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، وَعَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ لاَ صَدَقَةَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسَاقٍ مِنَ التَّمْرِ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, পাঁচ ওসকের কম খেজুরে কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না, পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচটি উটের কম উটেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৪২
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৬
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، - وَكَانَا ثِقَةً - عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَسَنٍ، وَعَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، - وَكَانَا ثِقَةً - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন মানসূর তুসী (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, পাঁচ, ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না; পাঁচটি উটের কম উটে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচ ওসকের কম খাদ্য বস্তুতেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৪৩
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৭
আলী, আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ مِنْ كُلِّ مِائَتَيْنِ خَمْسَةً ‏"‏ ‏.‏
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরোহণের ঘোড়া এবং ক্রীতদাসের যাকাত থেকে তোমাদেরকে অব্যাহতি দিলাম। এখন তোমরা স্বীয় মালের প্রত্যেক দুইশত দিরহামে পাঁচ দিরহাম হারে যাকাত আদায় কর।
৪৪
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৮
আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ مِائَتَيْنِ زَكَاةٌ ‏"‏ ‏.‏
হুসাইন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরোহণের ঘোড়া এবং খেদমতের ক্রীতদাসের যাকাত থেকে তোমাদেরকে অব্যাহতি দিলাম। আর দুশত দিরহামের কম দিরহামেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৪৫
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৭৯
আমর বিন শু'আইব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِنْتٌ لَهَا فِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيِظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ ‏"‏ أَتُؤَدِّينَ زَكَاةَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুয়াইব এর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়ামানী মহিলা এবং তার কন্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসল, তার কন্যার হাতে দু'টি পুরু স্বর্ণের কাঁকন ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত আদায় করেছ? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে এ দু'টি কাঁকনের পরিবর্তে আগুনের দুটি কাঁকন পরান? রাবী বলেন, তখন সে দুটি কাঁকনই খুলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিয়ে দিল এবং বলল যে, এ দুটিই আল্লাহ্ এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য।
৪৬
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৮০
আমর বিন শু'আইব (রাঃ)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ حُسَيْنًا، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ وَمَعَهَا بِنْتٌ لَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ نَحْوَهُ مُرْسَلٌ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ خَالِدٌ أَثْبَتُ مِنَ الْمُعْتَمِرِ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক মহিলা স্বীয় কন্যা সমেত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আসল, তখন তার কন্যার হাতে দু'টি কাঁকন ছিল। অতঃপর রাবী পূৰ্ব বর্ণনার ন্যায় বর্ণনা করেছেন।
৪৭
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৮১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِنَّ الَّذِي لاَ يُؤَدِّي زَكَاةَ مَالِهِ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ - قَالَ - فَيَلْتَزِمُهُ أَوْ يُطَوِّقُهُ - قَالَ - يَقُولُ أَنَا كَنْزُكَ أَنَا كَنْزُكَ ‏"‏ ‏.‏
ফযল ইবন সাহল (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি স্বীয় মালের যাকাত আদায় করে না কিয়ামতের দিন তার মাল তার কাছে এক বিষধর সৰ্পকারে পেশ করা হবে, যার চক্ষুর উপর দুটি কাল দাগ থাকবে। রাবী বলেন, সে সৰ্প তাকে পেঁচিয়ে ধরবে অথবা গলায় জড়িয়ে ধরবে। রাবী বলেন, সে সৰ্প বলতে থাকবে যে, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি, আমি তোমার ধন-সম্পাত্তি।
৪৮
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৮২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى الأَشْيَبُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ آتَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَالاً فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ ‏{‏ وَلاَ يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ‏}‏ الآيَةَ ‏.‏
ফযল ইবন সাহল (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা যাকে ধন-সম্পত্তি দান করলেন অথচ সে উহার যাকাত আদায় করল না কিয়ামতের দিন সে ধন-সম্পত্তিগুলো বিষধর সৰ্পের আকার ধারণ করবে যার চক্ষুর উপর দু'টি কাল দাগ থাকবে। কিয়ামতের দিন সে সৰ্প তার চোয়ালদ্বয়ে আঁকড়িয়ে ধরবে এবং বলবে, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলওয়াত করলেনঃ وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ ۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। (সূরা আলে ইমরানঃ)
৪৯
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৮৩
It was narrated the Abu Sa'eed Al-Khudri said
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسَاقٍ مِنْ حَبٍّ أَوْ تَمْرٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনছ পাঁচ ওসকের কম শস্যে এবং খেজুরে যাকাত ওয়াজিব হবে না।
৫০
সুনান আন-নাসাঈ # ২৩/২৪৮৪
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لاَ يَحِلُّ فِي الْبُرِّ وَالتَّمْرِ زَكَاةٌ حَتَّى تَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوْسُقٍ وَلاَ يَحِلُّ فِي الْوَرِقِ زَكَاةٌ حَتَّى تَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوَاقٍ وَلاَ يَحِلُّ فِي إِبِلٍ زَكَاةٌ حَتَّى تَبْلُغَ خَمْسَ ذَوْدٍ ‏"‏ ‏.‏
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, পাঁচ ওসক না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচ ওকিয়া না হওয়া পর্যন্ত রৌপ্যে যাকাত ওয়াজিব হবে না। পাঁচটি উট না হওয়া পর্যন্ত উটেও যাকাত ওয়াজিব হবে না।