১২১ হাদিস
০১
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫০
উম্ম হাবিবা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏
উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক বার রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে, এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর নির্মাণ করা হবে।[1] সহীহ।
০২
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫১
আব্দুল্লাহ বিন শাকীক (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ التَّطَوُّعِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا فِي بَيْتِي ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِهِمُ الْعِشَاءَ ثُمَّ يَدْخُلُ بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ فِيهِنَّ الْوِتْرُ وَكَانَ يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا وَلَيْلاً طَوِيلاً جَالِسًا فَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَاعِدٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَاعِدٌ وَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ صَلاَةَ الْفَجْرِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি আমার ঘরে যুহরের (ফারয সালাতের) পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন, অতঃপর বাইরে গিয়ে লোকরেদকে নিয়ে (ফরয) সালাত আদায় করেন। পুনরায় আমার ঘরে ফিরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি লোকদেরকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর আমার ঘরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এছাড়া তিনি রাতে বিতর সহ নয় রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তিনি রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে ক্বিরাআত পড়ার সময় ঐ অবস্থায়ই রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন আর বসাবস্থায় ক্বিরাআত পড়লে বসাবস্থায় থেকেই রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন। ফজর উদয় হলে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর বের হয়ে লোকদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
০৩
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫২
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ - وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ - فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের (ফারয সালাতের) পূর্বে দু’ রাক‘আত ও পরে দু’ রাক‘আত, মাগরিবের পর দু’ রাক‘আত সালাত তাঁর ঘরে আদায় করতেন। তিনি ‘ইশার পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আর জুমু‘আহর (ফারয সালাতের) পরে ঘরে এসে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিমে কেবল জুমু‘আহর পর দু’ রাক‘আত।
০৪
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৩
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ ‏.‏
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত ও ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত কখনো ছাড়তেন না।[1] সহীহ : বুখারী।
০৫
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৪
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ ‏.‏
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাতের চেয়ে অধিক দৃঢ় প্রত্যয় অন্য কোন নফল সালাতে রাখেননি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
০৬
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৫
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّفُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত এতো সংক্ষেপে আদায় করতেন যে, আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি এ দু’ রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করেছেন?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
০৭
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ‏{‏ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ‏}‏ وَ ‏{‏ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ‏}‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাতে) ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
০৮
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৭
বিলাল ইবনু রাবাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي أَبُو زِيَادَةَ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ الْكِنْدِيُّ عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الْغَدَاةِ فَشَغَلَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - بِلاَلاً بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى فَضَحَهُ الصُّبْحُ فَأَصْبَحَ جِدًّا قَالَ فَقَامَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ وَتَابَعَ أَذَانَهُ فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا خَرَجَ صَلَّى بِالنَّاسِ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ شَغَلَتْهُ بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدًّا وَأَنَّهُ أَبْطَأَ عَلَيْهِ بِالْخُرُوجِ فَقَالَ ‏"‏ إِنِّي كُنْتُ رَكَعْتُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَصْبَحْتَ جِدًّا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لَوْ أَصْبَحْتُ أَكْثَرَ مِمَّا أَصْبَحْتُ لَرَكَعْتُهُمَا وَأَحْسَنْتُهُمَا وَأَجْمَلْتُهُمَا ‏"‏ ‏.‏
বিলাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের সালাতের সংবাদ দিতে আসলে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বিলালকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে তাকে তাতেই ব্যস্ত রাখলেন, এমতাবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারবার সংবাদ দেয়া সত্ত্বেও তিনি বাইরে আসলেন না। অতঃপর কিছক্ষণ পর বাইরে এসে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাঁকে জানালেন যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তাকে কোন এক কাজে ব্যস্ত রেখেছিলেন এবং তিনি-ও বাইরে আসতে যথেষ্ট দেরী করেছেন, এমতাবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। অতঃপর (বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ফজরের দু্’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করেছি। বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও আজ খুব ভোর করে ফেলেছেন। তিনি বললেনঃ আমি এর চেয়ে অধিক ভোর করলেও ঐ দু’ রাক‘আত আদায় করবো এবং তা উত্তম সুন্দরভাবে আদায় করবো।[1] সহীহ।
০৯
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَدَنِيَّ - عَنِ ابْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيْلاَنَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ تَدَعُوهُمَا وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ফজরের দু’ রাক‘আত কখনো ত্যাগ করো না, যদিও তোমাদেরকে ঘোড়া পদদলিত করে।[1] দুর্বল।
১০
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৫৯
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ كَثِيرًا، مِمَّا كَانَ يَقْرَأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ بِـ ‏{‏ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا ‏}‏ هَذِهِ الآيَةَ قَالَ هَذِهِ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَفِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ بِـ ‏{‏ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ‏}‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ফজরের দু’ রাক‘আতে ‘‘আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইনা’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৩৬) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন। তিনি বলেন, তবে এ আয়াতটি প্রথম রাক‘আতে পাঠ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঠ করতেনঃ ‘‘আমান্না বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিআন্না মুসলিমূন’’ (সূরাহ আলে-‘ইমরান : ৫২)।[1] সহীহ : মুসলিমে এ কথা বাদে : অধিকাংশ সময়।
১১
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ‏{‏ قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا ‏}‏ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَفِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى بِهَذِهِ الآيَةِ ‏{‏ رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ‏}‏ أَوْ ‏{‏ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ ‏}‏ شَكَّ الدَّرَاوَرْدِيُّ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের দু’ রাক‘আতের প্রথম রাক‘আতে ‘‘কুল আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ‘আলাইনা’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান : ৮৪) তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন এ আয়াতঃ ‘‘রব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবা‘নার রসূলা ফাক্‌তুবনা মা‘আশ্ শাহিদীন’’ (সূরাহ আলে-‘ইমরান : ৫৩) অথবা ‘‘ইন্না আরসালনাকা বিলহাক্কি বাশীরাও ওয়া নাযীরা, ওয়ালা তুসআলু ‘আন আসহাবিল জাহীম’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১১৯)।[1] হাসান : বায়হাক্বী এটি বর্ণনা করেছেন তার এ কথাটি বাদে : অথবা ‘‘ইন্না আরসালনাকা বিলহাক্কি বাশীরাও ওয়া নাযীরা, ওয়ালা তুসআলু ‘আন আসহাবিল জাহীম’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ :)
১২
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو كَامِلٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى يَمِينِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَمَا يُجْزِئُ أَحَدَنَا مَمْشَاهُ إِلَى الْمَسْجِدِ حَتَّى يَضْطَجِعَ عَلَى يَمِينِهِ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَلَى نَفْسِهِ ‏.‏ قَالَ فَقِيلَ لاِبْنِ عُمَرَ هَلْ تُنْكِرُ شَيْئًا مِمَّا يَقُولُ قَالَ لاَ وَلَكِنَّهُ اجْتَرَأَ وَجَبُنَّا ‏.‏ قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ فَمَا ذَنْبِي إِنْ كُنْتُ حَفِظْتُ وَنَسُوا ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ফজরের পুর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায়ের পর যেন ডান কাতে শুয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাকে বললো, আমাদের কেউ যতক্ষণ ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম গ্রহণের সময়টুকুতে মসজিদে রওয়ানা হলে তাকি যথেষ্ট হবে না? ‘উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, তিনি উত্তরে বলেন, ‘না’। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমারের কাছে এ হাদীস পৌছলে তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নিজের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছেন। তখন কেউ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে জিজ্ঞেস করলো, তিনি যা বলেছেন আপনি তার কিছু অস্বীকার করেন? তিনি বলেন, না, তবে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, আর আমরা ভীরুতা ও নমনীয়তা প্রকাশ করছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু ‘উমারের উক্তিতে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, তারা ভুলে গেলে এবং আমি স্মরণে রাখলে আমার দোষ কোথায়?[1] সহীহ।
১৩
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬২
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَضَى صَلاَتَهُ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ نَظَرَ فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي وَإِنْ كُنْتُ نَائِمَةً أَيْقَظَنِي وَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الصُّبْحِ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ ‏.‏
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শেষ রাতের সালাত শেষ করার পর আমাকে জাগ্রত দেখলে আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন। যদি আমি ঘুমিয়ে থাকতাম তাহলে তিনি আমাকে জাগিয়ে দিয়ে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন। অতঃপর মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকতেন। মুয়াযযিন এসে ফজরের সালাতের সংবাদ দিলে তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাতের জন্য বের হতেন।[1] সহীহ : কিন্তু হাদীসের ‘মুয়াযযিন আসার পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকা’ কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ শেষ রাতের সালাত শেষ করার পরে।
১৪
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৩
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ - ابْنِ أَبِي عَتَّابٍ، أَوْ غَيْرِهِ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَإِنْ كُنْتُ نَائِمَةً اضْطَجَعَ وَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي ‏.‏
আবূ সালামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায়ের পর আমি ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও বিশ্রাম নিতেন। আর আমি জাগ্রত থাকলে তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
১৫
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৪
আবুবকরাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي مَكِينٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ، - رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ - عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِصَلاَةِ الصُّبْحِ فَكَانَ لاَ يَمُرُّ بِرَجُلٍ إِلاَّ نَادَاهُ بِالصَّلاَةِ أَوْ حَرَّكَهُ بِرِجْلِهِ ‏.‏ قَالَ زِيَادٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْفُضَيْلِ ‏.‏
মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাতের জন্য বের হলাম। তিনি কারোর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাতের জন্য আহবান করতেন অথবা তাঁর পা দিয়ে তাকে নাড়া দিতেন।[1] দুর্বল।
১৬
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৫
আব্দুল্লাহ বিন সারজাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏
"‏ يَا فُلاَنُ أَيَّتُهُمَا صَلاَتُكَ الَّتِي صَلَّيْتَ وَحْدَكَ أَوِ الَّتِي صَلَّيْتَ مَعَنَا ‏"‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি আগমন করলো। সে প্রথমে দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায় করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতে শরীক হলো। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে অমুক! তোমার একাকী আদায়কৃত ঐ দু’ রাক‘আত সালাত কিসের অথবা তুমি আমাদের সঙ্গে যা আদায় করেছো?[1] সহীহ : মুসলিম।
১৭
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে উক্ত ফারয সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাত আদায় করা যাবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।
১৮
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৭
কায়স ইবন আমর (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ ‏.‏ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
ক্বায়িস ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত আদায় করতে দেখে বললেনঃ ফজরের সালাত তো দু’ রাক‘আত। সে বললো, আমি তো ফজরের পূর্বের সেই দু’ রাক‘আত আদায় করিনি, সেটাই এখন আদায় করে নিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন।[1] সহীহ।
১৯
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৮
This tradition has also been transmitted by 'Ata b. Abi Rabah on the authority of Sa'd b. Sa'id through a different chain of narrators. Abu Dawud said
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، قَالَ قَالَ سُفْيَانُ كَانَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى عَبْدُ رَبِّهِ وَيَحْيَى ابْنَا سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ مُرْسَلاً أَنَّ جَدَّهُمْ زَيْدًا صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ ‏.‏
সুফয়ান (রহঃ) বলেন, ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) এ হাদীস সা‘দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সা‘দ এর দুই পুত্র ‘আবদ রাব্বিহী ও ইয়াহইয়া এ হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাদা যায়িদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং ঘটনাটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট।[1] সহীহ: পূর্বেরটির কারণে। এবং তার উক্তিঃ (তাদের দাদা যায়িদ) কথাটি ভুল। সঠিক হচ্ছেঃ (তাদের দাদা ক্বায়িস)।
২০
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৬৯
উম্ম হাবিবা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرُمَ عَلَى النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ ‏.‏
আনবাসাহ ইবনু আবূ সুফয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত এবং পরে চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হবে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আল-‘আলা ইবনুল হারিস ও সুলায়মান ইবনু মূসা (রহঃ) মাকহুল (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
২১
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭০
আবুআইয়ুব (রাঃ)
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ مِنْجَابٍ، عَنْ قَرْثَعٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ تُفْتَحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَلَغَنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ قَالَ لَوْ حَدَّثْتُ عَنْ عُبَيْدَةَ بِشَىْءٍ لَحَدَّثْتُ عَنْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ عُبَيْدَةُ ضَعِيفٌ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ابْنُ مِنْجَابٍ هُوَ سَهْمٌ ‏.‏
আবূ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যুহরের পূর্বে এক সালামে চার রাক‘আত সালাত রয়েছে, এগুলোর জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়।[1] হাসান।
২২
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন, যে ‘আসরের পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে।[1] হাসান।
২৩
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭২
আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] হাসান, তবে (চার রাক‘আত) শব্দযোগে।
২৪
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৩
কুরাইব, ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর অনুগামী
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا ‏.‏ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ ‏.‏ فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ ‏.‏ قَالَتْ فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏
"‏ يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস, ‘আবদুর রহমান ইবনু আযহার ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সকলেই তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে প্রেরণ করেন। (তারা তাকে বললেন), আমাদের পক্ষ হতে ‘আয়িশাহকে সালাম জানাবে, তাঁকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি, আপনি ঐ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পড়তে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী কুরাইব বলেন), অতঃপর আমি তাঁর কাছে যাই এবং তারা আমাকে যে সংবাদসহ পাঠিয়েছেন, তা পৌঁছাই। তিনি বললেন, এ বিষয়ে উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করো। তারপর আমি তাদের নিকট ফিরে এসে তার বক্তব্য তাদেরকে জানাই। তারা আমাকে পুনরায় উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট ‘আয়িশাহর অনুরূপ সংবাদসহ পাঠালেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, তা আমিও শুনেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি তাকে এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে দেখেছি। তবে তিনি এ দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন ‘আসরের (ফারয) সালাতের পরে। অতঃপর তিনি যখন আমার কাছে আসেন, তখন আনসারের বনি হারাম গোত্রীয় কতিপয় মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিল। তিনি সে সময় তা আদায় করেছেন। আমি আমার এক দাসীকে তাঁর কাছে এ বলে প্রেরণ করি যে, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সালামাহ (রাঃ) এ দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে আপনাকে নিষেধ করতে শুনেছেন। অথচ এখন তিনি দেখছেন যে, আপনি তা নিজেই আদায় করছেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলে তাঁর থেকে সরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, দাসী তাই করলো। তিনি তাকে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করায় সে সরে দাঁড়িলো। অতঃপর তিনি সালাত শেষে বললেনঃ হে আবূ উমাইয়্যার কন্যা! তুমি আমাকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো। ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রীয় কতিপয় লোক আমার নিকট আসার কারণে আমি যুহরের পরের দু’ রাক‘আত আদায় করতে পারিনি। এটা সেই দু’ রাক‘আত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
২৫
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৪
আলী ইবনে আবুতালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য সূর্য উঁচুতে থাকাবস্থায় আদায় করা যায়।[1] সহীহ।
২৬
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৫
আলী ইবনে আবুতালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي إِثْرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلاَّ الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর ও ‘আসর ব্যতীত প্রত্যেক ফারয সালাতের পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] দুর্বল।
২৭
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় আল্লাহর প্রিয় লোক আমার কাছে সাক্ষ্য দেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন। মূলতঃ আমার নিকট ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাদের মধ্যকার অধিক আল্লাহর প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং ‘আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো সালাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
২৮
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৭
আমর ইবনে আনবাসাহ আল-সুলামী (রহ.)
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ اللَّيْلِ أَسْمَعُ قَالَ ‏
"‏ جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَتَرْتَفِعَ قِيْسَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَتُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى يَعْدِلَ الرُّمْحُ ظِلَّهُ ثُمَّ أَقْصِرْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ وَتُفْتَحُ أَبْوَابُهَا فَإِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَيُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ ‏"‏ ‏.‏ وَقَصَّ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ الْعَبَّاسُ هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلاَّمٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِلاَّ أَنْ أُخْطِئَ شَيْئًا لاَ أُرِيدُهُ فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ‏.‏
‘আমর ইবনু আনবাসাহ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! রাতের কোন অংশ অধিক শ্রবণীয় (অর্থাৎ আল্লাহ দু‘আ বেশি কবুল করেন)? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশ, এ সময় যতটুকু ইচ্ছা সালাত আদায় করবে। কেননা এ সময়ে মালায়িকাহ (ফিরিশতাগণ) এসে ফজরের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না তা এক কিংবা দুই তীর পরিমাণ উপরে উঠে। কারণ সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে। আর কাফিররা এ সময় তার পূজা করে থাকে। এরপর তীরের ছায়া ঠিক থাকা (দ্বি প্রহরের পূর্ব) পর্যন্ত যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, এ সময়ের সালাত সম্পর্কে ফিরিশতাগণ সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় এবং তার সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়। যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়বে তখন যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, কেননা ‘আসরের সালাত পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যকার সালাত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে অস্ত যায় এবং এ সময় কাফিররা তার উপাসনা করে থাকে। অতঃপর বর্ণনাকারী এ বিষয়ে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] আল-‘আব্বাস (রহঃ) বলেন, আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে আবূ সাল্লাম (রহঃ) আমার কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আমি অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল করেছি, সেজন্যে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। সহীহ : মুসলিম, এ বাক্য বাদে (جوف الليل)।
২৯
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا قُدَامَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ يَسَارٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّي، بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّي هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ ‏
"‏ لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা আমাকে সুবহি সাদিকের পর সালাত আদায় করতে দেখে বললেন, হে ইয়াসার! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। ঠিক ঐ সময় আমরা এ সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তোমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় যে, সুবহি সাদিকের পর (ফজরের) দু’ রাক‘আত সুন্নাত ব্যতীত তোমরা অন্য কোন সালাত আদায় করবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।
৩০
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৭৯
আল-আসওয়াদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ مَا مِنْ يَوْمٍ يَأْتِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ ‏.‏
আল-আসওয়াদ ও মাসরূক্ব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিনই আমার কাছে আসতেন, তখন তিনি ‘আসরের পর দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৩১
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮০
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ ذَكْوَانَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْعَصْرِ وَيَنْهَى عَنْهَا وَيُوَاصِلُ وَيَنْهَى عَنِ الْوِصَالِ ‏.‏
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর মুক্তদাস যাকওয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ‘আসরের পরে সালাত আদায় করতেন, তবে লোকদেরকে নিষেধ করতেন এবং তিনি বিরতিহীনভাবে (বহুদিন) সওম পালন করতেন, কিন্তু অন্যদেরকে বিরতিহীনভাবে সওম পালনে নিষেধ করতেন।[1] দুর্বল।
৩২
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮১
আব্দুল্লাহ আল-মুযানী (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْحُسَيْنِ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ لِمَنْ شَاءَ ‏"‏ ‏.‏ خَشْيَةَ أَنْ يَتَّخِذَهَا النَّاسُ سُنَّةً ‏.‏
‘আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করো। তিনি দু’ বার এরূপ বললেন। অতঃপর বললেন, যার ইচ্ছা হয়। এ আশংকায় যে, লোকেরা হয়ত এটাকে সুন্নাত (বা স্থায়ী নিয়ম) বানিয়ে নিবে।[1] সহীহ : বুখারী।
৩৩
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ أَرَآكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ رَآنَا فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا ‏.‏
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। মুখতার ইবনু ফুলফুল (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদের সালাত আদায় করতে দেখেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে দেখেছেন। তবে তিনি আমাদেরকে এ বিষয়ে কোন আদেশ বা নিষেধ করেননি।[1] সহীহ : মুসলিম, অনুরূপ বুখারী।
৩৪
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৩
আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ لِمَنْ شَاءَ ‏"‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, যার ইচ্ছে হয় পড়তে পারে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৩৫
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৪
তাউস (রাঃ)
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي شُعَيْبٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ، قَبْلَ الْمَغْرِبِ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا ‏.‏ وَرَخَّصَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ هُوَ شُعَيْبٌ يَعْنِي وَهِمَ شُعْبَةُ فِي اسْمِهِ ‏.‏
তাঊস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমি কাউকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায়ের অনুমতি আছে।[1] দুর্বল।
৩৬
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৫
আবু যার আল-গিফারী (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنِ ابْنِ آدَمَ صَدَقَةٌ تَسْلِيمُهُ عَلَى مَنْ لَقِيَ صَدَقَةٌ وَأَمْرُهُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيُهُ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَإِمَاطَتُهُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ وَبُضْعَةُ أَهْلِهِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَانِ مِنَ الضُّحَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ الأَمْرَ وَالنَّهْىَ زَادَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ كَذَا وَكَذَا وَزَادَ ابْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدُنَا يَقْضِي شَهْوَتَهُ وَتَكُونُ لَهُ صَدَقَةٌ قَالَ ‏"‏ أَرَأَيْتَ لَوْ وَضَعَهَا فِي غَيْرِ حِلِّهَا أَلَمْ يَكُنْ يَأْثَمُ ‏"‏ ‏.‏
আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদম সন্তানের শরীরের প্রতিটি অস্থি প্রতিদিন নিজের উপর সাদাকা ওয়াজিব করে। কারোর সাক্ষাতে তাকে সালাম দেয়া একটি সাদাকা। সৎ কাজের আদেশ একটি সাদাকা, অন্যায় হতে নিষেধ করা একটি সাদাকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে ফেলা একটি সাদাকা। পরিবার-পরিজনের দায়-দায়িত্ব বহন করা একটি সাদাকা। আর চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত এসব কিছুর পরিপূরক হয়ে যাবে।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ‘আববাদের বর্ণনাটি পরিপূর্ণ ও ক্রটিমুক্ত। অপর বর্ণনকারী মুসাদ্দাদ তার বর্ণনায় ‘‘সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় হতে নিষেধ’’ বাক্যটি উল্লেখ করেননি। তিনি তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, ‘‘এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অমুক অমুক কাজ।’’ ইবনু মানী‘ তার হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন যে, লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূুল! আমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে যৌন-তৃপ্তি মিটাবে এটাও কি তার জন্য সাদাকা? তিনি বললেনঃ তোমার কি ধারণা, যদি সে তা অবৈধ স্থানে ব্যবহার করতো তবে কি সে গুনাহগার হতো না? সহীহ : মুসলিম।
৩৭
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৬
আবু আল-আসওয়াদ আল-দাইলানি (রাঃ)
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ أَبِي ذَرٍّ قَالَ ‏"‏ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ فَلَهُ بِكُلِّ صَلاَةٍ صَدَقَةٌ وَصِيَامٍ صَدَقَةٌ وَحَجٍّ صَدَقَةٌ وَتَسْبِيحٍ صَدَقَةٌ وَتَكْبِيرٍ صَدَقَةٌ وَتَحْمِيدٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَعَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذِهِ الأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يُجْزِئُ أَحَدَكُمْ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَا الضُّحَى ‏"‏ ‏.‏
আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট অবস্থানকালে তিনি বলেছেন, প্রতিদিন তোমাদের প্রত্যেকের দেহের প্রতিটি অস্থি একটি সাদাকা ওয়াজিব করে। প্রত্যেক সালাত, প্রত্যেক সওম, প্রত্যেক হজ, প্রত্যেক তাসবীহ, প্রত্যেক তাকবীর এবং প্রত্যেক তাহমীদ তার জন্য সাদাকা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উত্তম কাজগুলোকে গণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেনঃ চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তা ঐগুলোর পরিপূরক হবে (অনুরূপ সওয়াব পাবে)।[1] সহীহ : মুসলিম।
৩৮
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৭
মুআয বিন আনাস আল-জুহানী (রা.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حِينَ يَنْصَرِفُ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى يُسَبِّحَ رَكْعَتَىِ الضُّحَى لاَ يَقُولُ إِلاَّ خَيْرًا غُفِرَ لَهُ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ ‏"‏ ‏.‏
সাহল ইবনু মু‘আয ইবনু আনাস আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় শেষে চাশতের সালাত আদায় পর্যন্ত তার জায়গাতে বসে থাকলে এবং এ সময়ে উত্তম কথা ছাড়া অন্য কিছু না বললে তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়। যদিও গুনাহের পরিমাণ সমুদ্রের ফেনারাশির চেয়ে অধিক হয়।[1] দুর্বল।
৩৯
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৮
আবুউমামাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ صَلاَةٌ فِي أَثَرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক সালাতের পরে আরেক সালাত যার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো গুনাহ হয়নি, তা ইল্লীয়্যুনে (উচ্চ মর্যাদায়) লিপিবদ্ধ করা হয়।[1] হাসান।
৪০
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৮৯
নু'আইম ইবন হাম্মার (রাঃ)
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ أَبِي شَجَرَةَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ لاَ تُعْجِزْنِي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فِي أَوَّلِ نَهَارِكَ أَكْفِكَ آخِرَهُ ‏"‏ ‏.‏
নু‘আইম ইবনু হাম্মার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তান! তোমার দিনের পূর্বাহ্নের মধ্যে চার রাক‘আত সালাত হতে আমাকে ত্যাগ করো না, তাহলে আমি আখিরাতে তোমার জন্য যথেষ্ট হবো।[1] সহীহ।
৪১
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯০
উম্ম হানি ইবনে আবুতালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى فَذَكَرَ مِثْلَهُ ‏.‏ قَالَ ابْنُ السَّرْحِ إِنَّ أُمَّ هَانِئٍ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ سُبْحَةَ الضُّحَى بِمَعْنَاهُ ‏.‏
আবূ ত্বালিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের দিন আট রাক‘আত চাশতের সালাত আদায় করেছেন। তিনি প্রতি দু’ রাক‘আতে সালাম ফিরিয়েছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আহমাদ ইবনু সলিহ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের দিন চাশতের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনুস সারহ বলেন, উম্মু হানী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, কিন্তু এ হাদীসে চাশতের সালাতের উল্লেখ নেই। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন।[1] দুর্বল।
৪২
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯১
ইবন আবি লায়লা (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الضُّحَى غَيْرَ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا وَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فَلَمْ يَرَهُ أَحَدٌ صَلاَّهُنَّ بَعْدُ ‏.‏
ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ আমাদেরকে অবহিত করেননি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন। অবশ্য তিনি বর্ণনা করেছেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে গোসল করে আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এরপর কেউই তাঁকে উক্ত সালাত আদায় করতে দেখেনি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৪৩
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯২
আব্দুল্লাহ বিন শাকীক (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى فَقَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ ‏.‏ قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَ السُّورَتَيْنِ قَالَتْ مِنَ الْمُفَصَّلِ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (একই রাক‘আতে) একাধিক সূরাহ একত্রে পাঠ করতেন? তিনি বললেন, (হ্যাঁ) তিনি মুফাসসাল হতে পাঠ করতেন। (অর্থাৎ সূরাহ হুজরাত হতে নাস পর্যন্ত কুরআনের শেষ দিকের সূরাহগুলো মিলিয়ে পড়তেন)।[1] সহীহ : মুসলিমে এর প্রথমাংশ।
৪৪
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৩
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ ‏.‏
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চাশতের সালাত আদায় করেননি। তবে আমি তা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কাজকে যদিও প্রিয় মনে করতেন, কিন্তু তা এ আশংকায় বর্জন করতেন যে, লোকেরা তার উপর আমল করলে হয়ত তাদের উপর তা ফারয করে দেয়া হবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৪৫
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৪
সিমাক (RA)
حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا فَكَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَامَ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
সিমাক (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্যে থাকতেন? তিনি বললেন, হাঁ, অধিক সময় তার সাহচর্যে ছিলাম। তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত ঐ স্থানেই বসে থাকতেন সেখানে তিনি ফজরের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর সূর্যোদয় হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে যেতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
৪৬
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের এবং দিনের (নফল) সালাত দু’ রাক‘আত করে আদায় করতে হয়।[1] সহীহ।
৪৭
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৬
আল-মুত্তালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ الصَّلاَةُ مَثْنَى مَثْنَى أَنْ تَشَهَّدَ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَأَنْ تَبَاءَسَ وَتَمَسْكَنَ وَتُقْنِعَ بِيَدَيْكَ وَتَقُولَ اللَّهُمَّ اللَّهُمَّ فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهِيَ خِدَاجٌ ‏"‏ ‏.‏ سُئِلَ أَبُو دَاوُدَ عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ مَثْنَى قَالَ إِنْ شِئْتَ مَثْنَى وَإِنْ شِئْتَ أَرْبَعًا ‏.‏
আল-মুত্তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালাত দু’ রাক‘আত দু’ রাক‘আত করে আদায় করতে হয়। প্রত্যেক দু’ রাক‘আতে তোমার তাশাহহুদ পড়তে হবে। অতঃপর তুমি তোমার বিপদাপদ ও দারিদ্রের কথা দু’ হাত উঠিয়ে দু‘আ করবে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি এরূপ করে না তার আচরণ হবে ক্রটিপূর্ণ।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ)-কে রাতে দু’ রাক‘আত করে সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে দু’ রাক‘আত আদায় করতে পারো, আবার ইচ্ছে হলে চার রাক‘আত করেও আদায় করতে পারো। দুর্বল।
৪৮
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৭
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ‏
"‏ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّاهُ أَلاَ أُعْطِيكَ أَلاَ أَمْنَحُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَفْعَلُ بِكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ سِرَّهُ وَعَلاَنِيَتَهُ عَشْرَ خِصَالٍ أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ وَأَنْتَ قَائِمٌ قُلْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ تَفْعَلُ ذَلِكَ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আব্বাস! হে আমার চাচা! আমি কি আপনাকে দান করবো না? আমি কি আপনাকে উপহার দিবো না? আমি কি আপনার দশটি মহৎ কাজ করে দিবো না? আপনি যখন সে কাজগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তখন আল্লাহ আপনার প্রথম ও শেষ, অতীত ও বর্তমান, ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃত, ছোট ও বড় এবং প্রকাশ্য ও গোপন সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। ঐ দশটি মহৎ কাজ হচ্ছেঃ আপনি চার রাক‘আতের ক্বিরাআত হতে অবসর হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বলবেন, ‘‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’’ পনের বার, অতঃপর রুকূ‘ করুন এবং রুকূ‘ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার, আবার রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার, অতঃপর সিজদায় যান এবং সিজদা্ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার, অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার। আবার সিজদা্ করুন, সেখানে তা পাঠ করুন দশবার। অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা তুলে তা পাঠ করুন দশবার, এ নিয়মে প্রত্যেক রাক‘আতে তাসবীহর সংখ্যা হবে ৭৫ বার এবং তা করতে থাকুন পূর্ণ চার রাক‘আতে। (এতে পুরো সালাতে তাসবীহর সংখ্যা হবে তিন শত বার)। আপনার পক্ষে সম্ভব হলে উক্ত সালাত দৈনিক একবার আদায় করুন। অন্যথায় সপ্তাহে একবার, তাও সম্ভব না হলে মাসে একবার, এটাও সম্ভব না হলে বছরে একবার, যদি তাও না হয় তবে সারা জীবনে অন্তত একবার আদায় করুন।[1] সহীহ।
৪৯
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৮
আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُرَوْنَ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ائْتِنِي غَدًا أَحْبُوكَ وَأُثِيبُكَ وَأُعْطِيكَ ‏"‏ ‏.‏ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُعْطِينِي عَطِيَّةً قَالَ ‏"‏ إِذَا زَالَ النَّهَارُ فَقُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ ‏"‏ تَرْفَعُ رَأْسَكَ - يَعْنِي مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ - فَاسْتَوِ جَالِسًا وَلاَ تَقُمْ حَتَّى تُسَبِّحَ عَشْرًا وَتَحْمَدَ عَشْرًا وَتُكَبِّرَ عَشْرًا وَتُهَلِّلَ عَشْرًا ثُمَّ تَصْنَعُ ذَلِكَ فِي الأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَعْظَمَ أَهْلِ الأَرْضِ ذَنْبًا غُفِرَ لَكَ بِذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أُصَلِّيَهَا تِلْكَ السَّاعَةَ قَالَ ‏"‏ صَلِّهَا مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ خَالُ هِلاَلٍ الرَّائِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَجَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ النُّكْرِيِّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلُهُ وَقَالَ فِي حَدِيثِ رَوْحٍ فَقَالَ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
আবুল জাওযা’ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাদের ধারণা, তিনি হচ্ছেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)। তিনি বলেছেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি আগামীকাল ভোরে আমার কাছে আসবে, আমি তোমাকে কিছু দান করবো, আমি তোমাকে দিবো, আমি তোমাকে উপঢৌকন প্রদান করবো। আমি ধারণা করলাম, তিনি আমাকে কোন জিনিস দিবেন। (অতঃপর পরদিন তাঁর নিকটে আসলে) তিনি বললেনঃ ‘‘দুপুরে সূর্য হেলে পড়লে তুমি দাঁড়িয়ে চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে’’। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বললেনঃ অতঃপর দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বে দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আলহামদুলিল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবার এবং দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে। এভাবে তুমি চার রাক‘আত আদায় করবে। তিনি বললেনঃ তুমি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহগার হয়ে থাকলেও এ বিনিময়ে তোমাকে ক্ষমা করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি ঐ সময়ে এ সালাত আদায় করতে না পারলে? তিনি বললেনঃ রাত ও দিনের যে কোন সময়ে সুযোগ পেলেই তা আদায় করে নিবে।[1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমরের (রাঃ) মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অন্য সানাদে এটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
৫০
সুনান আবু দাউদ # ৫/১২৯৯
উরওয়াহ বিন রুওয়াইম (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ، رُوَيْمٍ حَدَّثَنِي الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِجَعْفَرٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَذَكَرَ نَحْوَهُمْ قَالَ فِي السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الرَّكْعَةِ الأُولَى كَمَا قَالَ فِي حَدِيثِ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ ‏.‏
‘উরওয়াহ ইবনু রুওয়াইম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী (রাঃ) আমাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফারকে উপরোক্ত হাদীসটি বলেছেন। অতঃপর উপরোক্ত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি প্রথম রাক‘আতের দ্বিতীয় সিজদায় তাই বলেছেন, যেরূপ মাহদী ইবনু মাইমূনের হাদীসে রয়েছে।[1] সহীহ।