৮৪ হাদিস
০১
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪২
ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ مَصْبُورَةٍ كَاذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ بِوَجْهِهِ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏
‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা শপথ করলো, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিলো।
০২
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৩
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الأَشْعَثُ فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَلَكَ بَيِّنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ لاَ ‏.‏ قَالَ لِلْيَهُودِيِّ ‏"‏ احْلِفْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفُ وَيَذْهَبُ بِمَالِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ‏{‏ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً ‏}‏ إِلَى آخِرِ الآيَةِ ‏.‏
‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ হাদীস আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমার এবং এক ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় একটি জমি ছিলো। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাক্ষী আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বললেনঃ তুমি কসম খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কসম করবে এবং আমার জমি তার হাতে চলে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের ওয়াদাসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশই নেই...।’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা আলে ইমরানঃ)
০৩
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৪
আল-আশ'আথ ইবন কায়েস (রাঃ)
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي كُرْدُوسٌ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ كِنْدَةَ وَرَجُلاً مِنْ حَضْرَمَوْتَ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَرْضٍ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُو هَذَا وَهِيَ فِي يَدِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هَلْ لَكَ بَيِّنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ وَلَكِنْ أُحَلِّفُهُ وَاللَّهِ مَا يَعْلَمُ أَنَّهَا أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُوهُ فَتَهَيَّأَ الْكِنْدِيُّ لِلْيَمِينِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ يَقْتَطِعُ أَحَدٌ مَالاً بِيَمِينٍ إِلاَّ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ أَجْذَمُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضُهُ ‏.‏
আশ‘আস ইবনু কায়িস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কিনদাহ এলাকার একজন ও হাদরামাওত এলাকার একজন- এ দু’জনে ইয়ামেনে অবস্থিত এক খন্ড জমির মালিকানা দাবি করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মোকদ্দমা পেশ করলো। হাদরামাওতের লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তির পিতা আমার জমি জবরদখল করে নিয়েছে। সে এখন তার দখলে আছে। তিনি বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তাহলে আপনি তাকে এভাবে কসম করতে বলুন, ‘‘আল্লাহর শপথ, আমার এ জমি তার পিতা জবরদখল করে নিয়েছে এ বিষয়ে সে জানে না।’’ এ কথা শুনেই কিনদার লোকটি শপথ করতে উদ্ধত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শপথের মাধ্যমে কেউ কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলে সে হাত-পা কাটা অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। এ কথা শুনে কিনদী বললো, নিঃসন্দেহে এ জমিটা তার।
০৪
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৫
আলকামাহ খ. ওয়াইল খ. হুজর আল-হাদরামি (রহ.)
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لأَبِي ‏.‏ فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ ‏"‏ أَلَكَ بَيِّنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَلَكَ يَمِينُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ فَاجِرٌ لاَ يُبَالِي مَا حَلَفَ عَلَيْهِ لَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَىْءٍ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلاَّ ذَاكَ ‏"‏ ‏.‏ فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ لَهُ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالٍ لِيَأْكُلَهُ ظَالِمًا لَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ ‏"‏ ‏.‏
আলকামাহ ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর আল-হাদরামী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদরামাওতের একজন এবং কিনদাহ এলাকার একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। কিনদী বললো, এটা আমার দখলেই আছে। আমিই তাতে চাষাবাদ করি, এতে তার কোনো স্বত্ব নেই। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদরামীকে বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমাকে কিনদীর শপথের উপর নির্ভর করতে হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো মন্দ লোক। সে মিথ্যা কসম করতে পরোয়া করবে না। তার কোনো বাছ-বিচার নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এছাড়া তোমার কোনো বিকল্প নেই। কিনদী শপথ করতে অগ্রসর হলো। সে যখন পিঠ ফিরালো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রাখো! সে যুদি জুলুম করে অন্যের সম্পদ দখলের জন্য কসম খায়, তবে সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।
০৫
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৬
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نِسْطَاسٍ، مِنْ آلِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ يَحْلِفُ أَحَدٌ عِنْدَ مِنْبَرِي هَذَا عَلَى يَمِينٍ آثِمَةٍ وَلَوْ عَلَى سِوَاكٍ أَخْضَرَ إِلاَّ تَبَوَّأَ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ ‏"‏ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ ‏"‏ ‏.‏
জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার মিম্বারের কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কসম খায়, তা একটি তাজা মিসওয়াকের জন্য হলেও- সে জাহান্নামে নিজের বাসস্থান ঠিক করে নিলো অথবা তার জন্য আগুন ওয়াজিব হয়ে গেলো।
০৬
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ وَاللاَّتِ فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ فَلْيَتَصَدَّقْ بِشَىْءٍ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ শপথ করতে গিয়ে যদি বলে, আমি লাত (নামক মূর্তির) নামে শপথ করে বলছি, তবে সে যেন অবশ্যই বলে- ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’’ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, আসো তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন কিছু সাদাকাহ করে।
০৭
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ وَلاَ بِأُمَّهَاتِكُمْ وَلاَ بِالأَنْدَادِ وَلاَ تَحْلِفُوا إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ تَحْلِفُوا بِاللَّهِ إِلاَّ وَأَنْتُمْ صَادِقُونَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতা-মাতা কিংবা দেবদেবীর নামে শপথ করবে না। তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে শপথ করবে। আর তোমরা আল্লাহর নামে কেবল সে বিষয়েই শপথ করবে যে বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী।
০৮
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৪৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَدْرَكَهُ وَهُوَ فِي رَكْبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ ‏
"‏ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَسْكُتْ ‏"‏ ‏.‏
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-কে একটি কাফেলার সাথে পেলেন। তখন তিনি তার পিতার নামে শপথ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কারো শপথ করার প্রয়োজন হলে সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে, অন্যথায় চুপ থাকে।
০৯
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫০
The tradition mentioned above has also been transmitted by Ibn 'Umar through a different chain of narrators to the same effect up to the words "by your fathers". This version adds
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ مَعْنَاهُ إِلَى ‏
"‏ بِآبَائِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ زَادَ قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَذَا ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا ‏.‏
‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পিতার নামে কসম করতে শুনলেনঃ ‘বাপ-দাদার নামে কসম খেও না, এ পর্যন্ত উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কখনো ব্যক্তিগতভাবে বা বর্ণনা প্রসঙ্গে ঐরূপ শপথ করিনি।
১০
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫১
সা'ঈদ ইবন উবায়দাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، قَالَ سَمِعَ ابْنُ عُمَرَ، رَجُلاً يَحْلِفُ لاَ وَالْكَعْبَةِ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ ‏"‏ ‏.‏
সাঈদ ইবনু আবূ উবাইদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে এভাবে শপথ করতে শুনলেনঃ ‘‘না! এ কা‘বার শপথ।’’ তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে সে শির্ক করলো।
১১
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫২
Referring to the story of a bedouin, Talhah b. 'Ubaid Allah reported the Prophet (ﷺ) as saying
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ يَعْنِي فِي، حَدِيثِ قِصَّةِ الأَعْرَابِيِّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ সুহাইল নাফি ইবনু মালিক ইবনু আবূ ‘আমির (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট জনৈক বেদুঈনের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার (বেদুঈনের) পিতার কসম! যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে সে সফলকাম হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তার পিতার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে। (হাদীসটি সম্ভবতঃ ইসলামের প্রথম যুগের- অনুঃ)।
১২
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৩
বুরাইদাহ ইবন আল-হাসিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ ثَعْلَبَةَ الطَّائِيُّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ بِالأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏
বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমানতের উপর শপথ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
১৩
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৪
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ الشَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي الصَّائِغَ - عَنْ عَطَاءٍ، فِي اللَّغْوِ فِي الْيَمِينِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ هُوَ كَلاَمُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ كَلاَّ وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ الصَّائِغُ رَجُلاً صَالِحًا قَتَلَهُ أَبُو مُسْلِمٍ بِعَرَنْدَسَ قَالَ وَكَانَ إِذَا رَفَعَ الْمَطْرَقَةَ فَسَمِعَ النِّدَاءَ سَيَّبَهَا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ مَوْقُوفًا عَلَى عَائِشَةَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَمَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ وَكُلُّهُمْ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ مَوْقُوفًا ‏.‏
‘আতা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বেহুদা কসম খাওয়া সম্পর্কে বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘কোনো ব্যক্তির নিজ ঘরে বসে কথাবার্তায় এরূফ বলা যেঃ কখনো নয়, আল্লাহর শপথ! এবং হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ
১৪
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ عَلَيْهَا صَاحِبُكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُمَا وَاحِدٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ وَعَبَّادُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার শপথ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তোমার প্রতিপক্ষ তা বিশ্বাস করবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আব্বাদ ইবনু আবূ সালিহ এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ সালিহ একই লোক।
১৫
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৬
সুওয়াইদ ইবন হানজালাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ جَدَّتِهِ، عَنْ أَبِيهَا، سُوَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ خَرَجْنَا نُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ وَمَعَنَا وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ فَأَخَذَهُ عَدُوٌّ لَهُ فَتَحَرَّجَ الْقَوْمُ أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِي فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ الْقَوْمَ تَحَرَّجُوا أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِي قَالَ ‏
"‏ صَدَقْتَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ ‏"‏ ‏.‏
সুওয়াইদ ইবনু হানযালাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করতে রওয়ানা হলাম। তখন আমাদের সাথে ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ)-ও ছিলেন। এমন সময় তার এক শত্রু তাকে ধরে ফেললো। দলের লোকেরা এ ব্যাপারে শপথ করতে সংকোচবোধে করলে আমি শপথ করে বললাম, সে আমার ভাই। ফলে শত্রু তাকে ছেড়ে দিলো। ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে ঘটনাটি জানালাম এবং বললাম, দলের লোকেরা এভাবে শপথ করাকে ভালো মনে করেনি। তাই আমি শপথ করে বলেছি, সে আমার ভাই। তিনি বললেনঃ তুমি সঠিক বলেছো। কেননা এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।
১৬
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৭
থাবিত বিন আল-দাহহাক (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، أَنَّ ثَابِتَ بْنَ الضَّحَّاكِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ الشَّجَرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ مِلَّةِ الإِسْلاَمِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُهُ ‏"‏ ‏.‏
সাবিত ইবনু দাহহাক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (হুদায়বিয়াতে) গাছের নীচে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করলে- সে যেরূপ বলতে তাই হবে। কেউ নিজেকে কোনো জিনিস দ্বারা হত্যা (আত্মহত্যা) করলে তাকে কিয়ামতের দিন ঐ জিনিস দ্বারা অবিরত শাস্তি দেয়া হবে। আর কেউ যদি এমন জিনিসের মানত করে যা মালিক সে নয়, তবে এ মানতের কোনো মূল্য নেই।
১৭
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৮
বুরাইদাহ ইবন আল-হাসিব (রাঃ)
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي ابْنَ وَاقِدٍ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ فَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الإِسْلاَمِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ، وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يَرْجِعَ إِلَى الإِسْلاَمِ سَالِمًا ‏"‏ ‏.‏
বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি শপথ করে বলেঃ আমি ইসলাম থেকে মুক্ত। সে মিথ্যা বললেও সে যেরূপ বলেছে তদ্রূপই হবে। আর সত্যবাদী হলে তার পক্ষে নিরাপদে ইসলামে ফিরে আসা সম্ভব নয়।
১৮
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৫৯
ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْعَلاَءِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، قَالَ ‏:‏ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَضَعَ تَمْرَةً عَلَى كِسْرَةٍ فَقَالَ ‏:‏ ‏
"‏ هَذِهِ إِدَامُ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏
ইউসুফ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি দেখি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটির উপর খেজুর রেখে বললেনঃ এটা হচ্ছে এটার তরকারী।
১৯
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬০
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ الأَعْوَرِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، مِثْلَهُ ‏.‏
ইউসুফ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
২০
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَثْنَى ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার পর ইনশাআল্লাহ বললো, সে ব্যতিক্রম করলো।
২১
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬২
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَمُسَدَّدٌ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ فَاسْتَثْنَى فَإِنْ شَاءَ رَجَعَ، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ غَيْرَ حِنْثٍ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ শপথ করে ইনশাআল্লাহ বললে সে ইচ্ছা করলে শপথ পূর্ণও করতে পারে আবার নাও করতে পারে, এতে কোনো দোষের কিছু নেই।
২২
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ‏:‏ أَكْثَرُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْلِفُ بِهَذِهِ الْيَمِينِ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ، وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে শপথ করতেনঃ ‘‘লা ওয়া মুকাল্লিবিল কুলূব।’’
২৩
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৪
আবুসাইদ আল-খুদরি (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ شُمَيْخٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ ‏:‏ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اجْتَهَدَ فِي الْيَمِينِ قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي الْقَاسِمِ بِيَدِهِ ‏"‏ ‏.‏
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গুরুত্ব সহকারে শপথ করতেন, তখন বলতেনঃ ‘‘লা ওয়াল্লাযী নাফসু আবিল কাসিমে বিয়াদিহ।’’
২৪
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ ‏:‏ كَانَتْ يَمِينُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَلَفَ يَقُولُ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ، وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করার সময় বলতেনঃ ‘‘লা ওয়া আসতাগফিরুল্লাহ।’’
২৫
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৬
লাকিত বিন আমির (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَيَّاشٍ السَّمَعِيُّ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ دَلْهَمِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاجِبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ الْمُنْتَفِقِ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، لَقِيطِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ دَلْهَمٌ وَحَدَّثَنِيهِ أَيْضًا الأَسْوَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطٍ، ‏:‏ أَنَّ لَقِيطَ بْنَ عَامِرٍ، خَرَجَ وَافِدًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَقِيطٌ ‏:‏ فَقَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ حَدِيثًا فِيهِ ‏:‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ لَعَمْرُ إِلَهِكَ ‏"‏ ‏.‏
আসিম ইবনু লাক্বীত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা লাক্বীত্ব ইবনু আসিম (রাঃ) একটি দলের প্রতিনিধি হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে রওয়ানা হলেন। লাক্বীত্ব (রাঃ) বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। অতঃপর তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন। যাতে রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘লা‘আমরু ইলাহিকা।’’
২৬
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৭
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ‏:‏ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، أَقْسَمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ لاَ تُقْسِمْ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কসম খেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এভাবে শপথ করো না।
২৭
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৮
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - قَالَ ابْنُ يَحْيَى كَتَبْتُهُ مِنْ كِتَابِهِ - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ‏:‏ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏:‏ إِنِّي أَرَى اللَّيْلَةَ فَذَكَرَ رُؤْيَا فَعَبَّرَهَا أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ أَصَبْتَ بَعْضًا وَأَخْطَأْتَ بَعْضًا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ ‏:‏ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ لَتُحَدِّثَنِّي مَا الَّذِي أَخْطَأْتُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ لاَ تُقْسِمْ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি। এ বলে সে স্বপ্নে যা দেখেছে তা বর্ণনা করলো। আবূ বাকর (রাঃ) এর ব্যাখ্যা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যায় কিছুটা ঠিক বলেছো এবং কিছুটা ভুল করেছো। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক; আপনি ভুল অংশটি বলে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ শপথ করো না।
২৮
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৬৯
The tradition mentioned above has also been transmitted by Ibn 'Abbas through a different chain of narrators. In this version there is no mention of the word qasam (oath). It has the words
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرِ الْقَسَمَ، زَادَ فِيهِ وَلَمْ يُخْبِرْهُ ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেন। কিন্তু এতে ‘শপথ’ শব্দটি উল্লেখ নেই। এতে রয়েছেঃ তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-কে তার ভুল দিক অবহিত করেননি।
২৯
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭০
আব্দুর রহমান বিন আবি বাকরাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، أَوْ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ ‏:‏ نَزَلَ بِنَا أَضْيَافٌ لَنَا قَالَ ‏:‏ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَتَحَدَّثُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ فَقَالَ ‏:‏ لاَ أَرْجِعَنَّ إِلَيْكَ حَتَّى تَفْرَغَ مِنْ ضِيَافَةِ هَؤُلاَءِ وَمِنْ قِرَاهُمْ فَأَتَاهُمْ بِقِرَاهُمْ فَقَالُوا ‏:‏ لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى يَأْتِيَ أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ فَجَاءَ فَقَالَ ‏:‏ مَا فَعَلَ أَضْيَافُكُمْ أَفَرَغْتُمْ مِنْ قِرَاهُمْ قَالُوا ‏:‏ لاَ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ قَدْ أَتَيْتُهُمْ بِقِرَاهُمْ فَأَبَوْا وَقَالُوا ‏:‏ وَاللَّهِ لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى يَجِيءَ، فَقَالُوا ‏:‏ صَدَقَ قَدْ أَتَانَا بِهِ فَأَبَيْنَا حَتَّى تَجِيءَ، قَالَ ‏:‏ فَمَا مَنَعَكُمْ قَالُوا ‏:‏ مَكَانُكَ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ وَاللَّهِ لاَ أَطْعَمُهُ اللَّيْلَةَ، قَالَ فَقَالُوا ‏:‏ وَنَحْنُ وَاللَّهِ لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى تَطْعَمَهُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ مَا رَأَيْتُ فِي الشَّرِّ كَاللَّيْلَةِ قَطُّ - قَالَ - قَرِّبُوا طَعَامَكُمْ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ فَقُرِّبَ طَعَامُهُمْ فَقَالَ ‏:‏ بِسْمِ اللَّهِ فَطَعِمَ وَطَعِمُوا فَأُخْبِرْتُ أَنَّهُ أَصْبَحَ فَغَدَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي صَنَعَ وَصَنَعُوا، قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ بَلْ أَنْتَ أَبَرُّهُمْ وَأَصْدَقُهُمْ ‏"‏ ‏.‏
‘আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের কাছে কিছু মেহমান আসলো। এ সময় রাতের বেলা আবূ বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি (আবূ বাকর) আমাদের বলে গেলেন যে, তুমি মেহমানদের থেকে অবসর হওয়ার পর আমি আসবো। ‘আব্দুর রাহমান মেহমানদের কাছে ফিরে এসে তাদেরকে খাবার দিলেন। মেহমানরা বললেন, আবূ বাকর ফিরে না আসা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করবো না। তিনি ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মেহমানদের কি অবস্থা, তাদের খাবার খাইয়েছো? ঘরের লোকেরা বললো, না। আমি বললাম, আমি তাদের খাবার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তারা আপনাকে ছেড়ে খেতে রাজি হননি। তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আপনি) ফিরে না আসা পর্যন্ত ‘আমরা খাবো না। মেহমানরা বললেন, ‘আব্দুর রাহমান সত্যিই বলেছেন। তিনি আমাদের জন্য খাবার এনেছিলেন, কিন্তু আপনি না আসা পর্যন্ত ‘আমরা খেতে রাজি হইনি। তিনি বললেন, কোন্ জিনিস তোমাদেরকে বাঁধা দিলো? তারা বললেন, আপনার অনুপস্থিতি। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আজ রাতে আহার করবো না। তারাও বললেন, আল্লাহর শপথ! আপনি না খেলে ‘আমরাও রাতে আহার করবো না। তিনি বললেনঃ আমি এ রাতের মতো খারাপ রাত কখনো দেখিনি। তিনি ‘আব্দুর রাহমানকে বললেন, খাবার নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাদেরকে খাদ্য দেয়া হলো। তিনি বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করলেন, তারাও খেলেন। আমি জানতে পারলাম, তিনি (আবূ বাকর) সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে রাতের ঘটনা বর্ণনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তুমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং সত্যবাদী।
৩০
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭১
A similar tradition has also been transmitted by 'Abd al-Rahman b. Abi Bakr through a different chain of narrators. This version adds on the authority of Salim
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، وَعَبْدُ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ نَحْوَهُ زَادَ عَنْ سَالِمٍ، فِي حَدِيثِهِ قَالَ ‏:‏ وَلَمْ يَبْلُغْنِي كَفَّارَةً ‏.‏
ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে সালিম (রহঃ) সূত্রের বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি বলেন, তিনি (আবূ বাকর) কাফফারাহা দিয়েছিলেন কি না আমি জানতে পারিনি।
৩১
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭২
সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যাব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، ‏:‏ أَنَّ أَخَوَيْنِ، مِنَ الأَنْصَارِ كَانَ بَيْنَهُمَا مِيرَاثٌ فَسَأَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ الْقِسْمَةَ فَقَالَ ‏:‏ إِنْ عُدْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْقِسْمَةِ فَكُلُّ مَالٍ لِي فِي رِتَاجِ الْكَعْبَةِ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ ‏:‏ إِنَّ الْكَعْبَةَ غَنِيَّةٌ عَنْ مَالِكَ، كَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَكَلِّمْ أَخَاكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ يَمِينَ عَلَيْكَ، وَلاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةِ الرَّبِّ وَفِي قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَفِيمَا لاَ تَمْلِكُ ‏"‏ ‏.‏
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আনসার সম্প্রদায়ের দু’ ভাইয়ের মধ্যে একটি (যৌথ) মীরাস ছিলো। এক ভাই অপর ভাইয়ের কাছে তা বণ্টনের দাবি করলে সে বললো, তুমি পুনরায় মীরাস বণ্টনের কথা বললে আমি আমার সমস্ত সম্পদ কা‘বা ঘরের জন্য ওয়াকফ করে দিবো। ‘উমার (রাঃ) লোকটিকে বললেন, কা‘বা ঘর তোমার সম্পত্তির মুখাপেক্ষী নয়। তোমার শপথের কাফফারাহ আদায় করো এবং তোমার ভাইয়ের সাথে (বণ্টনের) কথাবার্তা বলো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান রবের নাফরমানীতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করণে এবং যার মালিক তুমি নও তাতে তোমার কোনো শপথ ও মানত জায়িয নেই।
৩২
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৩
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রা.)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ نَذْرَ إِلاَّ فِيمَا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ، وَلاَ يَمِينَ فِي قَطِيعَةِ رَحِمٍ ‏"‏ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজেই করা যেতে পারে আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কসম খাওয়া নিষেধ।
৩৩
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৪
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রা.)
حَدَّثَنَا الْمُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ لاَ نَذْرَ وَلاَ يَمِينَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ وَلاَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِي قَطِيعَةِ رَحِمٍ، وَمَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَدَعْهَا وَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، فَإِنَّ تَرْكَهَا كَفَّارَتُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ الأَحَادِيثُ كُلُّهَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ ‏"‏ ‏.‏ إِلاَّ فِيمَا لاَ يُعْبَأُ بِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُلْتُ لأَحْمَدَ ‏:‏ رَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ ‏:‏ تَرَكَهُ بَعْدَ ذَلِكَ وَكَانَ أَهْلاً لِذَلِكَ، قَالَ أَحْمَدُ ‏:‏ أَحَادِيثُهُ مَنَاكِيرُ وَأَبُوهُ لاَ يُعْرَفُ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যে বস্তুর মালিক নয় তাতে তার কোনো মানত নেই শপথও নেই; আল্লাহর নাফরমানীর কাজে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে কোনো মানত গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো লোক কসম খাওয়ার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে সে তার শপথ বর্জন করে অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবে। পূর্বের শপথ বর্জন করাই শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ গণ্য হবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত এ বিষয়ের সহীহ হাদীসসমূহের বক্তব্য হচ্ছেঃ ‘‘তাকে তার শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ দিতে হবে’’ কিন্তু যেসব হাদীস যথার্থ নয় সেগুলো ছাড়া। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ (রহঃ)-কে বললাম, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (রাঃ) ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন আহমাদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদের হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যাত এবং তার পিতা অজ্ঞাত।
৩৪
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ‏:‏ أَنَّ رَجُلَيْنِ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الطَّالِبَ الْبَيِّنَةَ، فَلَمْ تَكُنْ لَهُ بَيِّنَةٌ فَاسْتَحْلَفَ الْمَطْلُوبَ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ بَلَى قَدْ فَعَلْتَ، وَلَكِنْ قَدْ غُفِرَ لَكَ بِإِخْلاَصِ قَوْلِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ يُرَادُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لَمْ يَأْمُرْهُ بِالْكَفَّارَةِ ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা দু’ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের বিবাদ পেশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদীর কাছে প্রমাণ চাইলেন। কিন্তু তার কাছে প্রমাণ ছিলো না। তিনি বিবাদীকে শপথ করতে বললে সে বলল, মহান আল্লাহর নামে শপথ, যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তো (মিথ্যা শপথ) করেছো। কিন্তু তোমাকে নিষ্ঠার সাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ বলার কারণে ক্ষমা করা হয়েছে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাফফারাহ প্রদানের নির্দেশ দেননি।
৩৫
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৬
আবু বুরদাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفَّرْتُ يَمِينِي ‏"‏ ‏.‏
আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কোনো কাজের শপথ করার পর তার বিপরীত দিকে কল্যাণ দেখতে পেলে ইনশাআল্লাহ আমি শপথ ভঙ্গ করে কাফফারাহ প্রদান করবো এবং অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো। অথবা তিনি বলেছেনঃ আমি অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ আদায় করবো।
৩৬
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৭
আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَمَنْصُورٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَاذَانَ - عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفِّرْ يَمِينَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ سَمِعْتُ أَحْمَدَ يُرَخِّصُ فِيهَا الْكَفَّارَةَ قَبْلَ الْحِنْثِ ‏.‏
‘আব্দুর রাহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে ‘আব্দুর রাহমান ইবনু সামুরাহ! তুমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে তুমি কল্যাণকর কাজটি করবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ) শপথ ভঙ্গের পূর্বেই কাফফারাহ আদায় জায়িয মনে করেন।
৩৭
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৮
A similar tradition has been transmitted by 'Abd al-Rahman b. Samurah through a different chain if narrators. This version has
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، نَحْوَهُ قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ، ثُمَّ ائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ أَحَادِيثُ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ رُوِيَ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ فِي بَعْضِ الرِّوَايَةِ الْحِنْثُ قَبْلَ الْكَفَّارَةِ وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَةِ الْكَفَّارَةُ قَبْلَ الْحِنْثِ ‏.‏
‘আব্দুর রাহমান (রাঃ) সূত্রে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আছেঃ ‘‘প্রথমে কাফফারাহ দিবে, তারপর কল্যাণকর কাজটি করবে।’’ আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা আল-আশ‘আরী, ‘আদী ইবনু হাতিম ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের পর কাফফারাহ আদায় করবে, আর কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারাহ আদায় করবে।
৩৮
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৭৯
সাফিয়াহ বিনতে হুয়াইয় (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ عِيَاضٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبٍ بِنْتِ ذُؤَيْبِ بْنِ قَيْسٍ الْمُزَنِيَّةِ، - وَكَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ مِنْ أَسْلَمَ ثُمَّ كَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَخٍ لِصَفِيَّةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ حَرْمَلَةَ ‏:‏ فَوَهَبَتْ لَنَا أُمُّ حَبِيبٍ صَاعًا - حَدَّثَتْنَا عَنِ ابْنِ أَخِي صَفِيَّةَ عَنْ صَفِيَّةَ أَنَّهُ صَاعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ ‏:‏ فَجَرَّبْتُهُ، أَوْ قَالَ فَحَزَرْتُهُ فَوَجَدْتُهُ مُدَّيْنِ وَنِصْفًا بِمُدِّ هِشَامٍ ‏.‏
‘আব্দুর রাহমান ইবনু হারমালাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীব আমাদেরকে একটি সা‘ দিলেন। তিনি আমাদেরকে তার দ্বিতীয় স্বামী সাফিয়্যাহর ভ্রাতুষ্পুত্রের সূত্রে বলেন, তিনি সাফিয়্যাহর সূত্রে বলেছেন, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সা‘। আনাস (ইবনু ইয়াদ) বলেন, আমি তা যাচাই করে দেখেছি, তার ওজন হিশাম ইবনু আব্দুল মালিকের যুগের আড়াই মুদ্দের সমান।
৩৯
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮০
মুহাম্মদ খ. মুহাম্মদ খ. খাত্তাব আবু উমর (রা.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلاَّدٍ أَبُو عُمَرَ، قَالَ ‏:‏ كَانَ عِنْدَنَا مَكُّوكٌ يُقَالُ لَهُ مَكُّوكُ خَالِدٍ وَكَانَ كَيْلَجَتَيْنِ بِكَيْلَجَةِ هَارُونَ، قَالَ مُحَمَّدٌ ‏:‏ صَاعُ خَالِدٍ صَاعُ هِشَامٍ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু খাল্লাদ আবূ ‘আমর (রহঃ) বলেন, ‘মাককূক খালিদ’ নামে আমাদের একটি মাক্কূক ছিলো। তা ছিলো হারূনুর রশীদের আমলের পরিমাপকের দ্বিগুণ। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, খালিদের সা‘ ছিলো হিশাম ইবনু মালিকের সা‘।
৪০
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮১
উমাইয়া ইবনুল খালিদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلاَّدٍ أَبُو عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ ‏:‏ لَمَّا وُلِّيَ خَالِدٌ الْقَسْرِيُّ أَضْعَفَ الصَّاعَ فَصَارَ الصَّاعُ سِتَّةَ عَشَرَ رَطْلاً ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلاَّدٍ قَتَلَهُ الزِّنْجُ صَبْرًا، فَقَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا وَمَدَّ أَبُو دَاوُدَ يَدَهُ وَجَعَلَ بُطُونَ كَفَّيْهِ إِلَى الأَرْضِ، قَالَ ‏:‏ وَرَأَيْتُهُ فِي النَّوْمِ فَقُلْتُ ‏:‏ مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ قَالَ ‏:‏ أَدْخَلَنِي الْجَنَّةَ ‏.‏ فَقُلْتُ ‏:‏ فَلَمْ يَضُرَّكَ الْوَقْفُ ‏.‏
উমাইয়্যাহ ইবনু খালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ আল-কাসরী গভর্ণর হয়ে সা‘-কে দ্বিগুণ করলেন। তাতে এক সা‘ ষোল রতলের সমান হয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ খাল্লাদকে নিগ্রোরা বন্দী করে হত্যা করে। তিনি তার হাতের ইশরায় বলেন, এভাবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) তার হাত প্রসারিত করেন এবং দু’ হাতের তালু মাটির দিকে উপুর করে বলেন, আমি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনার বন্দী অবস্থা আপনার অনিষ্ট করতে পারেনি।
৪১
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮২
মুআবিয়া বিন আল-হাকাম আল-সুলামী (রহ.)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْحَجَّاجِ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ قُلْتُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَارِيَةٌ لِي صَكَكْتُهَا صَكَّةً ‏.‏ فَعَظَّمَ ذَلِكَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَفَلاَ أُعْتِقُهَا قَالَ ‏:‏ ‏"‏ ائْتِنِي بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ فَجِئْتُ بِهَا قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَيْنَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ فِي السَّمَاءِ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ مَنْ أَنَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ ‏"‏ ‏.‏
মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি বাঁদী আছে। আমি তাকে জোরে থাপ্পড় মেরেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এটা কষ্টদায়ক মনে হলো। আমি বললাম, তাকে আযাদ করে দেই? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে নিয়ে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে। এরপর বললেন, আমি কে? সে বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তাকে আযাদ করে দাও, কারণ সে মু‘মিনা।
৪২
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৩
আল-শারিদ ইবনে সুওয়াইদ আল-থাকাফী (রহ.)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الشَّرِيدِ، ‏:‏ أَنَّ أُمَّهُ، أَوْصَتْهُ أَنْ يُعْتِقَ، عَنْهَا رَقَبَةً مُؤْمِنَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي أَوْصَتْ أَنْ أُعْتِقَ عَنْهَا رَقَبَةً مُؤْمِنَةً وَعِنْدِي جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ نُوبِيَّةٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَرْسَلَهُ لَمْ يَذْكُرِ الشَّرِيدَ ‏.‏
আশ-শারীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তার মা তাকে একটি মু‘মিন বাঁদী আযাদ করতে তাকে ওসিয়াত করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা তার পক্ষ থেকে একটি মু‘মিন কৃতদাসী আযাদ করতে আমাকে ওসিয়াত করেছেন। কিন্তু আমার কাছে নুবা এলাকার একটি হাবশী ক্রীতদাসী আছে। এরপর হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসের শেষাংশের অনুরূপ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খালিদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ এটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আশ-শারীদের নাম উল্লেখ করেননি।
৪৩
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ‏:‏ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ فَقَالَ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَىَّ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً ‏.‏ فَقَالَ لَهَا ‏:‏ ‏"‏ أَيْنَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ بِأُصْبُعِهَا ‏.‏ فَقَالَ لَهَا ‏:‏ ‏"‏ فَمَنْ أَنَا ‏"‏ ‏.‏ فَأَشَارَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى السَّمَاءِ، يَعْنِي أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি একটি কালো দাসী নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি মু‘মিন দাসী আযাদ করতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাসীটিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে তার হাতের আঙ্গুল আসমানের দিকে ইশারা করলো। তিনি তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কে? সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আকাশের দিকে ইশারা করে বললো, আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে মু‘মিন।
৪৪
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৫
ইক্রিমা ইবন আবুজাহল (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏"‏ وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ وَقَدْ أَسْنَدَ هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَسْنَدَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ شَرِيكٍ ‏:‏ ثُمَّ لَمْ يَغْزُهُمْ ‏.‏
ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি ইনশাআল্লাহ বললেন।[1] আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম (রহঃ) শারীক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
৪৫
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৬
ইক্রিমা (রা)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، يَرْفَعُهُ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ سَكَتَ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ ‏:‏ زَادَ فِيهِ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ شَرِيكٍ قَالَ ‏:‏ ثُمَّ لَمْ يَغْزُهُمْ ‏.‏
ইকরিমাহ (রহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ। পুনরায় তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো ইনশাআল্লাহ তা‘আলা। অতঃপর তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অচিরেই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললেনঃ ইনশাআল্লাহ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) শারীক (রহঃ) সূত্রে হাদীসের শেষাংশে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
৪৬
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৭
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ عُثْمَانُ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ ‏:‏ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنِ النَّذْرِ ثُمَّ اتَّفَقَا وَيَقُولُ ‏:‏ ‏"‏ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ النَّذْرُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করে বলেনঃ মানত (তাকদীরের) কোনো কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না, শুধু কৃপণের কিছু সম্পদ ব্যয় হয় মাত্র। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানত কোনো কিছুই প্রতিহত করতে পারে না।
৪৭
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ، أَخْبَرَكُمُ ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ يَأْتِي ابْنَ آدَمَ النَّذْرُ الْقَدَرَ بِشَىْءٍ لَمْ أَكُنْ قَدَّرْتُهُ لَهُ، وَلَكِنْ يُلْقِيهِ النَّذْرُ الْقَدَرَ قَدَّرْتُهُ يُسْتَخْرَجُ مِنَ الْبَخِيلِ يُؤْتَى عَلَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ يُؤْتَى مِنْ قَبْلُ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আল্লাহ বলেন) মানত আদম সন্তানের তাকদীরকে এমন কিছু দিতে পারে না- যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করিনি। বরং আমি তার তাকদীরে যা নির্ধারণ করেছি কেবল তাই মানত তাকে এনে দেয়। তা কৃপণের ধন থেকে কিছু পরিমাণ বের করে আনে এবং তার নিকট তা নিয়ে আসে যা আগে তার কাছে আসেনি।
৪৮
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৮৯
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَيْلِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏
"‏ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ ‏"‏ ‏.‏
‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানীর মানত করে সে যেন তা না করে।
৪৯
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৯০
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏
"‏ لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ، وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ ‏"‏ ‏.‏
‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহের কাজে মানত করা জায়িয নেই। (কেউ করলে) এর কাফফারাহ হবে শপথ ভঙ্গের কাফফারাহর সমান।
৫০
সুনান আবু দাউদ # ২২/৩২৯১
The tradition mentioned above has also been transmitted by al-Zuhri through a different chain of narrators to the same effect. Abu Dawud said
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِمَعْنَاهُ وَإِسْنَادِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ شَبُّويَةَ، يَقُولُ قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - يَعْنِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ - حَدَّثَ أَبُو سَلَمَةَ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ الزُّهْرِيَّ، لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ‏:‏ وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَيُّوبُ - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ ‏:‏ أَفْسَدُوا عَلَيْنَا هَذَا الْحَدِيثَ ‏.‏ قِيلَ لَهُ ‏:‏ وَصَحَّ إِفْسَادُهُ عِنْدَكَ وَهَلْ رَوَاهُ غَيْرُ ابْنِ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ ‏:‏ أَيُّوبُ كَانَ أَمْثَلَ مِنْهُ ‏.‏ يَعْنِي أَيُّوبَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، وَقَدْ رَوَاهُ أَيُّوبُ ‏.‏
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু শাববুয়াহ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, ইবনুল মুবারাক (রহঃ) এ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন, যুহরী এ হাদীসটি আবূ সালামাহর কাছে শুনেননি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তারা আমাদের জন্য হাদীসকে ত্রুটিযুক্তভাবে বর্ণনা করেছে। সুতরাং এ কথা কি সঠিক? আর ইবনু উয়াইস ছাড়া অপর কেউ কি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন? তিনি উত্তরে বলেন, বিশ্বস্ততায় আইয়ূব ইবনু সুলাইমান ইবনু বিলাল আবূ উয়াইসের সমপর্যায়ের। হাদীসটি আইয়ূবও বর্ণনা করেছেন।