৪১
ফুসসিলাত
فصلت
সূরা ফুসসিলাত (فصلت) পবিত্র কুরআনের ৪১ নম্বর অধ্যায় — মক্কা সূরা, যাতে ৫৪ টি আয়াত রয়েছে। মক্কী সূরাগুলো নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় হিজরতের আগে নাজিল হয়েছিল এবং সাধারণত ঈমান, আল্লাহর একত্ব ও পরকালের ওপর জোর দেয়।
বুকমার্ক (0)
এখনো কোনো বুকমার্ক নেই। যেকোনো আয়াতের পাশে বুকমার্ক আইকনে ক্লিক করে সংরক্ষণ করুন।
বিসমিল্লাহ
بِسْمِনামেbis'miٱللَّهِআল্লাহ (র)l-lahiٱلرَّحْمَـٰنِপরম করুণাময়l-raḥmāniٱلرَّحِيمِঅসীম দয়ালুl-raḥīmi
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
৪১:১
حمٓহা-মীমhha-meem١
হা-মীম।
৪১:২
تَنزِيلٌۭঅবতরণ করা (হয়েছে এটা)tanzīlunمِّنَ(আল্লাহর) পক্ষ হ'তেminaٱلرَّحْمَـٰنِ(যিনি) অশেষ দয়াময়l-raḥmāniٱلرَّحِيمِপরম দয়ালুl-raḥīmi٢
পরম দয়াময়, পরম দয়ালুর নিকট হতে অবতীর্ণ।
৪১:৩
كِتَـٰبٌۭএই কিতাব (এমন যে)kitābunفُصِّلَتْবিশদভাবে বিবৃতfuṣṣilatءَايَـٰتُهُۥতার আয়াতসমূহāyātuhuقُرْءَانًاকুরআনqur'ānanعَرَبِيًّۭاআরবী (ভাষার)ʿarabiyyanلِّقَوْمٍۢ(এমন) সম্প্রদায়ের জন্যেliqawminيَعْلَمُونَ(যারা) জ্ঞান রাখেyaʿlamūna٣
এক কিতাব, যার আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আরবী ভাষার কুরআন, জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের জন্য।
৪১:৪
بَشِيرًۭا(এই কিতাব) সুসংবাদদাতাbashīranوَنَذِيرًۭاও সতর্ককারীwanadhīranفَأَعْرَضَকিন্তু বিমুখ হয়েছেfa-aʿraḍaأَكْثَرُهُمْতাদের অনেকেইaktharuhumفَهُمْসুতরাং তারাfahumلَاনাlāيَسْمَعُونَশুনেyasmaʿūna٤
সুসংবাদবাহী ও সাবধানকারী। কিন্তু ওদের অধিকাংশই (এ কুরআন থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, কাজেই ওরা শুনবে না।
৪১:৫
وَقَالُوا۟এবং তারা বলেwaqālūقُلُوبُنَا"আমাদের অন্তরগুলোqulūbunāفِىٓমধ্যে (আছে)fīأَكِنَّةٍۢপর্দাসমূহেরakinnatinمِّمَّاতা থেকে যাmimmāتَدْعُونَآআমাদেরকে তোমরা ডাকছোtadʿūnāإِلَيْهِতার দিকেilayhiوَفِىٓএবং মধ্যেwafīءَاذَانِنَاআমাদের কানসমূহেরādhānināوَقْرٌۭবধিরতা (রয়েছে)waqrunوَمِنۢমধ্য হতেwaminبَيْنِنَاএবং আমাদের মাঝেbaynināوَبَيْنِكَও তোমার মাঝেwabaynikaحِجَابٌۭপর্দা (রয়েছে)ḥijābunفَٱعْمَلْতুমি তাই কাজ করোfa-iʿ'malإِنَّنَاনিশ্চয়ই আমরাinnanāعَـٰمِلُونَকাজ করে যাচ্ছি"ʿāmilūna٥
তারা বলে, তুমি আমাদেরকে যার দিকে ডাক দিচ্ছ তাত্থেকে আমাদের দিল আবরণে ঢাকা আছে, আর আমাদের কানে আছে বধিরতা, আমাদের আর তোমাদের মাঝে আছে এক পর্দা (অর্থাৎ তোমার দীন প্রচারের কারণে আমাদের ও তোমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে গেছে), কাজেই তুমি তোমার কাজ কর, আমরা আমাদের কাজ করি।
৪১:৬
قُلْ(হে নাবী) বলোqulإِنَّمَآ"মূলতঃinnamāأَنَا۠আমিanāبَشَرٌۭএকজন মানুষbasharunمِّثْلُكُمْতোমাদেরই মতোmith'lukumيُوحَىٰٓওহী করা হয়yūḥāإِلَىَّআমার প্রতিilayyaأَنَّمَآএই যেannamāإِلَـٰهُكُمْতোমাদের ইলাহilāhukumإِلَـٰهٌۭইলাহilāhunوَٰحِدٌۭএকইwāḥidunفَٱسْتَقِيمُوٓا۟সুতরাং তোমরা দৃঢ় হয়ে থাকোfa-is'taqīmūإِلَيْهِতাঁর দিকেilayhiوَٱسْتَغْفِرُوهُ ۗও তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও"wa-is'taghfirūhuوَوَيْلٌۭএবং দুর্ভোগ (রয়েছে)wawaylunلِّلْمُشْرِكِينَমুশরিকদের জন্যেlil'mush'rikīna٦
বল, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। (পার্থক্য শুধু এই যে) আমার কাছে ওয়াহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; কাজেই তোমরা তাঁরই সরল সঠিক পথে চল, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। ধ্বংস তাদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে শরীক গণ্য করে।
৪১:৭
ٱلَّذِينَযারাalladhīnaلَاনাlāيُؤْتُونَদেয়yu'tūnaٱلزَّكَوٰةَযাকাতl-zakataوَهُمএবং তারাwahumبِٱلْـَٔاخِرَةِপরকালকেbil-ākhiratiهُمْতারাhumكَـٰفِرُونَঅস্বীকারকারীkāfirūna٧
যারা যাকাত দেয় না, আর তারা আখিরাত অমান্য করে।
৪১:৮
إِنَّনিশ্চয়ইinnaٱلَّذِينَযারাalladhīnaءَامَنُوا۟ঈমান এনেছেāmanūوَعَمِلُوا۟ও কাজ করেছেwaʿamilūٱلصَّـٰلِحَـٰتِনেকl-ṣāliḥātiلَهُمْতাদের জন্যেlahumأَجْرٌপুরস্কার রয়েছেajrunغَيْرُব্যতীতghayruمَمْنُونٍۢশেষ হওয়া (অফুরন্ত)mamnūnin٨
যারা ঈমান আনে আর নেক কাজ করে, তাদের জন্য আছে এমন পুরস্কার যা কোন দিনও বন্ধ হবে না।
৪১:৯
۞ قُلْবলোqulأَئِنَّكُمْ"তোমরা নিশ্চিত কিa-innakumلَتَكْفُرُونَঅস্বীকার করছো অবশ্যইlatakfurūnaبِٱلَّذِى(তাকে) যিনিbi-alladhīخَلَقَসৃষ্টি করেছেনkhalaqaٱلْأَرْضَপৃথিবীকেl-arḍaفِىমধ্যেfīيَوْمَيْنِদু'দিনেরyawmayniوَتَجْعَلُونَঅথচ তোমরা দাঁড় করাচ্ছোwatajʿalūnaلَهُۥٓতাঁর জন্যেlahuأَندَادًۭا ۚসমকক্ষ (অন্যদেরকে)andādanذَٰلِكَতিনিইdhālikaرَبُّরবrabbuٱلْعَـٰلَمِينَবিশ্বজগতের"l-ʿālamīna٩
বল- তোমরা কি তাঁকে অস্বীকারই করছ যিনি যমীনকে সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে আর তাঁর সমকক্ষ বানাচ্ছ? তিনিই তো বিশ্বজগতের রব্ব।
৪১:১০
وَجَعَلَএবং তিনি স্হাপন করেছেনwajaʿalaفِيهَاতার মধ্যে (অর্থাৎ পৃথিবীতে)fīhāرَوَٰسِىَপর্বতমালাrawāsiyaمِنথেকেminفَوْقِهَاতার উপরfawqihāوَبَـٰرَكَএবং কল্যাণ দিয়েছেনwabārakaفِيهَاতার মধ্যেfīhāوَقَدَّرَএবং নির্ধারণ করেছেনwaqaddaraفِيهَآতার মধ্যেfīhāأَقْوَٰتَهَاতার খাদ্য (অর্থাৎ খাদ্যসম্ভার)aqwātahāفِىٓমধ্যেfīأَرْبَعَةِচারarbaʿatiأَيَّامٍۢদিনেরayyāminسَوَآءًۭসমানভাবেsawāanلِّلسَّآئِلِينَপ্রার্থীদের জন্যেlilssāilīna١٠
(যমীন সৃষ্টির পর) তার বুকে তিনি সৃদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যমীনকে বরকতমন্ডিত করেছেন আর তাতে প্রার্থীদের প্রয়োজন মুতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য সঞ্চিত করেছেন চার দিনে।
৪১:১১
ثُمَّএরপরthummaٱسْتَوَىٰٓমনোযোগ দিলেনis'tawāإِلَىদিকেilāٱلسَّمَآءِআকাশেরl-samāiوَهِىَতখন তা (ছিলো)wahiyaدُخَانٌۭধোঁয়াdukhānunفَقَالَঅতঃপর (আল্লাহ) বললেনfaqālaلَهَاতাকেlahāوَلِلْأَرْضِও পৃথিবীকেwalil'arḍiٱئْتِيَا"উভয়ে আসোi'tiyāطَوْعًاইচ্ছায়ṭawʿanأَوْবাawكَرْهًۭاঅনিচ্ছায়"karhanقَالَتَآউভয়ে বললোqālatāأَتَيْنَا"আমরা আসলামataynāطَآئِعِينَস্বেচ্ছায়"ṭāiʿīna١١
তারপর নজর দিয়েছেন আকাশের দিকে যখন তা ছিল ধোঁয়া (’র মত)। তখন তিনি আকাশ আর পৃথিবীকে বললেন- আমার অনুগত হও, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। উভয়ে বলল- আমরা স্বেচ্ছায় অনুগত হলাম।
৪১:১২
فَقَضَىٰهُنَّঅতঃপর তাদেরকে পরিণত করলেনfaqaḍāhunnaسَبْعَসাতsabʿaسَمَـٰوَاتٍۢআকাশেsamāwātinفِىমধ্যেfīيَوْمَيْنِদু'দিনেরyawmayniوَأَوْحَىٰএবং ওহী করলেনwa-awḥāفِىমধ্যেfīكُلِّপ্রত্যেকkulliسَمَآءٍআকাশেরsamāinأَمْرَهَا ۚতাঁর বিধিবিধানamrahāوَزَيَّنَّاএবং আমরা সাজালামwazayyannāٱلسَّمَآءَআকাশকেl-samāaٱلدُّنْيَاনীচেরl-dun'yāبِمَصَـٰبِيحَপ্রদীপমালা দ্বারাbimaṣābīḥaوَحِفْظًۭا ۚএবং সংরক্ষণ (করলাম)waḥif'ẓanذَٰلِكَএটাdhālikaتَقْدِيرُব্যবস্থাপনাtaqdīruٱلْعَزِيزِপরাক্রমশালীরl-ʿazīziٱلْعَلِيمِ(যিনি) সবকিছু জানেনl-ʿalīmi١٢
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন দু’দিনে আর প্রত্যেক আকাশকে তার বিধি-ব্যবস্থা ওয়াহীর মাধ্যমে প্রদান করলেন। আমি আলোকমালার সাহায্যে দুনিয়ার আকাশের শোভাবর্ধন করলাম আর সুরক্ষার (ও ব্যবস্থা করলাম)। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত (ব্যবস্থাপনা)।
৪১:১৩
فَإِنْএখন যদিfa-inأَعْرَضُوا۟তারা মুখ ফিরায়aʿraḍūفَقُلْতবে বলোfaqulأَنذَرْتُكُمْ"তোমাদেরকে আমি সতর্ক করছিandhartukumصَـٰعِقَةًۭবেহুশকারী শাস্তিরṣāʿiqatanمِّثْلَমতোmith'laصَـٰعِقَةِবেহুশকারী শাস্তি (এসেছিলো)ṣāʿiqatiعَادٍۢআ'দেরʿādinوَثَمُودَও সামূদের (উপর)"wathamūda١٣
এরপরও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বল- আমি তোমাদেরকে অকস্মাৎ শাস্তির ভয় দেখাচ্ছি- ‘আদ ও সামূদের (উপর নেমে আসা) অকস্মাৎ-শাস্তির মত।
৪১:১৪
إِذْযখনidhجَآءَتْهُمُতাদের কাছে এসেছিলোjāathumuٱلرُّسُلُরাসূলগণl-rusuluمِنۢমধ্য হতেminبَيْنِথেকেbayniأَيْدِيهِمْসামনে তাদেরaydīhimوَمِنْও থেকেwaminخَلْفِهِمْতাদের পিছনkhalfihimأَلَّا(এই বলে) যে নাallāتَعْبُدُوٓا۟তোমরা ইবাদত করোtaʿbudūإِلَّاছাড়াillāٱللَّهَ ۖআল্লাহকে"l-lahaقَالُوا۟তারা বলেছিলোqālūلَوْ"যদিlawشَآءَইচ্ছে করতেনshāaرَبُّنَاআমাদের রবrabbunāلَأَنزَلَঅবশ্যই পাঠাতেনla-anzalaمَلَـٰٓئِكَةًۭফেরেশতাদেরকেmalāikatanفَإِنَّاসুতরাং নিশ্চয়ই আমরাfa-innāبِمَآদিয়ে ঐ বিষয় যাbimāأُرْسِلْتُمতোমাদেরকে পাঠানো হয়েছেur'sil'tumبِهِۦপ্রতি তারbihiكَـٰفِرُونَতোমরা অস্বীকারকারী"kāfirūna١٤
তাদের কাছে যখন তাদের অগ্রে ও পশ্চাতে (একের পর এক) রসূলগণ এসেছিল (আর বলেছিল)- তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। (জবাবে) তারা বলেছিল- আমাদের প্রতিপালক ইচ্ছে করলে তো অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। কাজেই তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তা অমান্য করছি।
৪১:১৫
فَأَمَّاআর অবস্থা (ছিলো)fa-ammāعَادٌۭআ'দের (এমন যে)ʿādunفَٱسْتَكْبَرُوا۟পরে তারা অহংকার করলোfa-is'takbarūفِىমধ্যেfīٱلْأَرْضِপৃথিবীরl-arḍiبِغَيْرِব্যতীতbighayriٱلْحَقِّকোন অধিকারl-ḥaqiوَقَالُوا۟এবং তারা বললোwaqālūمَنْ"(আর) কেmanأَشَدُّঅধিক শক্তিশালীashadduمِنَّاআমাদের চেয়েminnāقُوَّةً ۖশক্তিতে"quwwatanأَوَلَمْদেখে নি কিawalamيَرَوْا۟তারা (ভেবে)yarawأَنَّযেannaٱللَّهَআল্লাহl-lahaٱلَّذِىযিনিalladhīخَلَقَهُمْতাদের সৃষ্টি করেছেনkhalaqahumهُوَতিনিইhuwaأَشَدُّঅধিক শক্তিশালীashadduمِنْهُمْতাদের চেয়েmin'humقُوَّةًۭ ۖশক্তিতেquwwatanوَكَانُوا۟এবং তারা ছিলোwakānūبِـَٔايَـٰتِنَاআমাদের নিদর্শনগুলোকেbiāyātināيَجْحَدُونَঅস্বীকার করতোyajḥadūna١٥
আর ‘আদ-এর অবস্থা ছিল এই যে, দুনিয়াতে তারা না-হক অহংকার করেছিল, আর বলেছিল- আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী আর কে আছে? তারা কি চিন্তা করে দেখেনি যে, আল্লাহ- যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন- শক্তিতে তাদের চেয়ে প্রবল? কিন্তু তারা আমার আয়াতগুলো অস্বীকার করতেই থাকল।
৪১:১৬
فَأَرْسَلْنَاআমরা তাই পাঠালামfa-arsalnāعَلَيْهِمْতাদের বিরুদ্ধেʿalayhimرِيحًۭاবাতাসrīḥanصَرْصَرًۭاঝড়োṣarṣaranفِىٓমধ্যেfīأَيَّامٍۢ(কয়েক) দিনেরayyāminنَّحِسَاتٍۢদুর্ভোগেরnaḥisātinلِّنُذِيقَهُمْতাদেরকে আমরা ভোগ করাই যেনlinudhīqahumعَذَابَশাস্তিʿadhābaٱلْخِزْىِলাঞ্ছনারl-khiz'yiفِىমধ্যেfīٱلْحَيَوٰةِজীবনেl-ḥayatiٱلدُّنْيَا ۖপার্থিবl-dun'yāوَلَعَذَابُএবং অবশ্যই শাস্তিwalaʿadhābuٱلْـَٔاخِرَةِপরকালেরl-ākhiratiأَخْزَىٰ ۖঅধিক অপমানকরakhzāوَهُمْএবং তাদেরwahumلَاনাlāيُنصَرُونَসাহায্য করা হবেyunṣarūna١٦
অতঃপর আমি অশুভ দিনগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে ঝাঞ্ঝা বায়ু পাঠালাম যাতে তারা দুনিয়ার জীবনে অপমানজনক শাস্তি আস্বাদন করে। আখিরাতের শাস্তি অবশ্যই অধিক লাঞ্ছনাদায়ক আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
৪১:১৭
وَأَمَّاআর অবস্থা (ছিলো)wa-ammāثَمُودُসামূদের (এমন যে)thamūduفَهَدَيْنَـٰهُمْতাদেরকে আমরা অতঃপর পথ নির্দেশ করেছিলামfahadaynāhumفَٱسْتَحَبُّوا۟তারা কিন্তু পছন্দ করেছিলোfa-is'taḥabbūٱلْعَمَىٰঅন্ধতাl-ʿamāعَلَىপরিবর্তেʿalāٱلْهُدَىٰসৎপথেরl-hudāفَأَخَذَتْهُمْতখন তাদেরকে পাকড়াও করলোfa-akhadhathumصَـٰعِقَةُবেহুশকারীṣāʿiqatuٱلْعَذَابِশাস্তিl-ʿadhābiٱلْهُونِঅপমানকরl-hūniبِمَاএ কারণে যাbimāكَانُوا۟তারাkānūيَكْسِبُونَকামাই করেছিলোyaksibūna١٧
আর সামূদের অবস্থা এই যে, আমি তাদেরকে সঠিক পথে চলার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সঠিক পথে চলার পরিবর্তে অন্ধ হয়ে থাকাকেই পছন্দ করে ছিল। তখন তাদের কৃতকর্মের কারণে অপমানজনক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল।
৪১:১৮
وَنَجَّيْنَاএবং আমরা উদ্ধার করেছিলামwanajjaynāٱلَّذِينَ(তাদেরকে) যারাalladhīnaءَامَنُوا۟ঈমান এনেছিলোāmanūوَكَانُوا۟ওwakānūيَتَّقُونَ(গুমরাহী হ'তে) ভয় করেছিলোyattaqūna١٨
আর আমি তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম যারা ঈমান এনেছিল আর (আল্লাহকে) ভয় করে চলত।
৪১:১৯
وَيَوْمَএবং (স্মরণ করো) যেদিনwayawmaيُحْشَرُসমবেত করা হবেyuḥ'sharuأَعْدَآءُশত্রুদেরaʿdāuٱللَّهِআল্লাহরl-lahiإِلَىদিকেilāٱلنَّارِজাহান্নামেরl-nāriفَهُمْঅতঃপর তাদেরকেfahumيُوزَعُونَনানা দলে ভাগ করা হবেyūzaʿūna١٩
যে দিন আল্লাহর দুশমনদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে, তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করা হবে।
৪১:২০
حَتَّىٰٓঅবশেষেḥattāإِذَاযখনidhāمَاযাmāجَآءُوهَاসেখানে তারা আসবে (সবাই)jāūhāشَهِدَসাক্ষ্য দিবেshahidaعَلَيْهِمْতাদের বিরুদ্ধেʿalayhimسَمْعُهُمْতাদের কানsamʿuhumوَأَبْصَـٰرُهُمْও তাদের চক্ষুwa-abṣāruhumوَجُلُودُهُمও তাদের ত্বকwajulūduhumبِمَاঐ বিষয়ে যাbimāكَانُوا۟তারাkānūيَعْمَلُونَকাজ করেছিলোyaʿmalūna٢٠
শেষ পর্যন্ত যখন তারা জাহান্নামের নিকটে পৌঁছবে, তখন তারা যা করত সে সম্পর্কে তাদের কান, তাদের চোখ আর তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
৪১:২১
وَقَالُوا۟এবং তারা বলবেwaqālūلِجُلُودِهِمْতাদের ত্বকগুলোকেlijulūdihimلِمَ"কেনlimaشَهِدتُّمْতোমরা সাক্ষ্য দিয়েছোshahidttumعَلَيْنَا ۖআমাদের বিরুদ্ধে"ʿalaynāقَالُوٓا۟তারা বলবেqālūأَنطَقَنَا"আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেনanṭaqanāٱللَّهُ"(সেই) আল্লাহ-ইl-lahuٱلَّذِىٓযিনিalladhīأَنطَقَবাকশক্তি দিয়েছেনanṭaqaكُلَّসবkullaشَىْءٍۢকিছুকেshayinوَهُوَএবং তিনিwahuwaخَلَقَكُمْতোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেনkhalaqakumأَوَّلَপ্রথমawwalaمَرَّةٍۢবারmarratinوَإِلَيْهِএবং তাঁরই দিকেwa-ilayhiتُرْجَعُونَতোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে"tur'jaʿūna٢١
তারা তাদের চামড়াকে বলবে- আমাদের বিরুদ্ধে কেন সাক্ষ্য দিচ্ছ? তারা উত্তর দিবে- আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকেই (আজ) কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
৪১:২২
وَمَاআর নাwamāكُنتُمْতোমরাkuntumتَسْتَتِرُونَলুকাতে (তখন জানতেন)tastatirūnaأَنযেanيَشْهَدَসাক্ষ্য দিবেyashhadaعَلَيْكُمْতোমাদের বিরুদ্ধেʿalaykumسَمْعُكُمْতোমাদের কানsamʿukumوَلَآএবং না (জানতে)walāأَبْصَـٰرُكُمْতোমাদের চোখগুলো (সাক্ষ্য দিবে)abṣārukumوَلَاআর না (জানতে)walāجُلُودُكُمْতোমাদের ত্বকগুলো (সাক্ষ্য দিবে)julūdukumوَلَـٰكِنকিন্তুwalākinظَنَنتُمْতোমরা মনে করতেẓanantumأَنَّযেannaٱللَّهَআল্লাহl-lahaلَاনাlāيَعْلَمُজানেন কিছুইyaʿlamuكَثِيرًۭاঅনেকkathīranمِّمَّاঐ বিষয়কে যাmimmāتَعْمَلُونَতোমরা কাজ করতেtaʿmalūna٢٢
(দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা কর তার অধিকাংশই আল্লাহ জানেন না।
৪১:২৩
وَذَٰلِكُمْএবং সেটা (ছিলো)wadhālikumظَنُّكُمُতোমাদের ধারণাẓannukumuٱلَّذِىযাalladhīظَنَنتُمতোমরা ধারণা করেছিলেẓanantumبِرَبِّكُمْসম্পর্কে রব তোমাদেরbirabbikumأَرْدَىٰكُمْ(এটাই) তোমাদেরকে ধ্বংস করেছেardākumفَأَصْبَحْتُمএখন তোমরা হয়েছোfa-aṣbaḥtumمِّنَঅন্তর্ভুক্তminaٱلْخَـٰسِرِينَক্ষতিগ্রস্তদেরl-khāsirīna٢٣
তোমাদের এই (ভুল) ধারণাই- যা তোমরা তোমাদের প্রতিপালক সম্পর্কে পোষণ করতে- তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে, ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হয়ে গেছ।
৪১:২৪
فَإِنসুতরাং যদিfa-inيَصْبِرُوا۟তারা ধৈর্য্য ধরে (আর নাই ধরে)yaṣbirūفَٱلنَّارُজাহান্নাম তবুওfal-nāruمَثْوًۭىআবাসmathwanلَّهُمْ ۖতাদের জন্যেlahumوَإِنএবং যদিwa-inيَسْتَعْتِبُوا۟তারা অনুগ্রহ করতে চায়ওyastaʿtibūفَمَاতবুও নাfamāهُمতারা (হবে)humمِّنَঅন্তর্ভুক্তminaٱلْمُعْتَبِينَঅনুগ্রহ প্রাপ্তদেরl-muʿ'tabīna٢٤
এখন যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে তবুও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস, আর যদি তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তবুও তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না।
৪১:২৫
۞ وَقَيَّضْنَاএবং আমরা নির্ধারণ করেছিwaqayyaḍnāلَهُمْতাদের জন্যেlahumقُرَنَآءَ(পথভ্রষ্ট) সঙ্গীদেরকেquranāaفَزَيَّنُوا۟আর তারা শোভন করে দেখায়fazayyanūلَهُمতাদেরকেlahumمَّاযা কিছু (আছে)māبَيْنَসামনেbaynaأَيْدِيهِمْতাদেরaydīhimوَمَاএবং যা কিছু আছেwamāخَلْفَهُمْতাদের পিছনেkhalfahumوَحَقَّএবং বাস্তব হলোwaḥaqqaعَلَيْهِمُতাদের উপরʿalayhimuٱلْقَوْلُসেই বাণী (যা কার্যকর হয়েছে)l-qawluفِىٓউপরfīأُمَمٍۢজাতিসমূহের (যারা)umaminقَدْনিশ্চয়ইqadخَلَتْঅতীত হয়েছেkhalatمِنপূর্বেরminقَبْلِهِمতাদেরqablihimمِّنَমধ্য হ'তেminaٱلْجِنِّজিনেরl-jiniوَٱلْإِنسِ ۖও মানুষেরwal-insiإِنَّهُمْতারা নিশ্চয়ইinnahumكَانُوا۟ছিলোkānūخَـٰسِرِينَক্ষতিগ্রস্তkhāsirīna٢٥
আমি তাদেরকে প্রাণের বন্ধু জুটিয়ে দিয়েছিলাম, যারা তাদেরকে তাদের সামনের আর পিছনের প্রত্যেকটি জিনিসকে চাকচিক্যময় করে দেখাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের উপরও তেমনি ‘আযাবের ফয়সালা কার্যকর হল, যা তাদের পূর্ববর্তী জ্বিন ও মানব দলের উপর কার্যকর হয়েছিল। বাস্তবিকই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।
৪১:২৬
وَقَالَএবং বলেwaqālaٱلَّذِينَযারাalladhīnaكَفَرُوا۟অবিশ্বাস করেছেkafarūلَا"নাlāتَسْمَعُوا۟তোমরা শুনোtasmaʿūلِهَـٰذَاএইlihādhāٱلْقُرْءَانِকুরআনl-qur'āniوَٱلْغَوْا۟এবং গোলমাল সৃষ্টি করো তোমরাwal-ghawفِيهِতার মধ্যেfīhiلَعَلَّكُمْতোমরা সম্ভবতঃlaʿallakumتَغْلِبُونَজয়ী হবে"taghlibūna٢٦
কাফিররা বলে- এ কুরআন শুনো না, আর তা পড়ার কালে শোরগোল কর যাতে তোমরা বিজয়ী হতে পার।
৪১:২৭
فَلَنُذِيقَنَّসুতরাং আমরা আস্বাদন করাবোইfalanudhīqannaٱلَّذِينَ(তাদেরকে) যারাalladhīnaكَفَرُوا۟অবিশ্বাস করেছেkafarūعَذَابًۭاশাস্তিʿadhābanشَدِيدًۭاকঠোরshadīdanوَلَنَجْزِيَنَّهُمْএবং আমরা তাদেরকে প্রতিফল দিবোইwalanajziyannahumأَسْوَأَনিকৃষ্ট কাজেরaswa-aٱلَّذِىযাalladhīكَانُوا۟তারাkānūيَعْمَلُونَকাজ করেছিলোyaʿmalūna٢٧
ফলতঃ আমি কাফিরদেরকে অবশ্য অবশ্যই কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব, আর আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে তাদের নিকৃষ্টতম কাজের অনুসারে প্রতিফল দিব।
৪১:২৮
ذَٰلِكَসেটাdhālikaجَزَآءُপ্রতিফলjazāuأَعْدَآءِশত্রুদেরaʿdāiٱللَّهِআল্লাহরl-lahiٱلنَّارُ ۖজাহান্নামl-nāruلَهُمْএদের জন্যে (রয়েছে)lahumفِيهَاতার মধ্যেfīhāدَارُআবাসdāruٱلْخُلْدِ ۖস্থায়ীl-khul'diجَزَآءًۢপ্রতিফলস্বরূপjazāanبِمَاএ কারণে যাbimāكَانُوا۟তারা ছিলোkānūبِـَٔايَـٰتِنَاআমাদের নিদর্শনগুলোকেbiāyātināيَجْحَدُونَঅস্বীকার করতোyajḥadūna٢٨
আল্লাহর দুশমনদের জন্য প্রতিফল হল এ জাহান্নাম। তাতে আছে তাদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস। (এ হল তাদের) প্রতিফল, কারণ তারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করত।
৪১:২৯
وَقَالَএবং বলবেwaqālaٱلَّذِينَযারাalladhīnaكَفَرُوا۟অস্বীকার করেছিলোkafarūرَبَّنَآ"হে আমাদের রবrabbanāأَرِنَاআমাদেরকে দেখিয়ে দিনarināٱلَّذَيْنِ(সেই দুই প্রজাতির লোকদেরকে) যারাalladhayniأَضَلَّانَاআমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেaḍallānāمِنَমধ্যে থেকেminaٱلْجِنِّজিনদেরl-jiniوَٱلْإِنسِএবং মানুষদেরwal-insiنَجْعَلْهُمَاউভয়কে আমরা পিষে ফেলবোnajʿalhumāتَحْتَতলায়taḥtaأَقْدَامِنَاআমাদের পায়েরaqdāmināلِيَكُونَاউভয়ে হয় যেনliyakūnāمِنَঅন্তর্ভুক্তminaٱلْأَسْفَلِينَঅপমানিতদের (সর্বনিম্নের)"l-asfalīna٢٩
কাফিররা বলবে- হে আমাদের প্রতিপালক! জ্বিন ও মানুষদের মধ্যেকার যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, তাদের উভয়কে পায়ের তলায় পিষ্ট করব, যাতে তারা নিকৃষ্ট অধমদের মধ্যে গণ্য হয়।
৪১:৩০
إِنَّনিশ্চয়ইinnaٱلَّذِينَযারাalladhīnaقَالُوا۟বলেqālūرَبُّنَا"আমাদের রবrabbunāٱللَّهُআল্লাহ-ই"l-lahuثُمَّঅতঃপরthummaٱسْتَقَـٰمُوا۟তারা অবিচল থাকেis'taqāmūتَتَنَزَّلُঅবতীর্ণ হয়tatanazzaluعَلَيْهِمُতাদের উপরʿalayhimuٱلْمَلَـٰٓئِكَةُফেরেশতারা (আর বলে)l-malāikatuأَلَّا"যে নাallāتَخَافُوا۟তোমরা ভয় করোtakhāfūوَلَاআর নাwalāتَحْزَنُوا۟তোমরা চিন্তা করোtaḥzanūوَأَبْشِرُوا۟এবং তোমরা সুসংবাদ শুনে খুশি হওwa-abshirūبِٱلْجَنَّةِ(সেই) জান্নাতেরbil-janatiٱلَّتِىযাallatīكُنتُمْতোমাদেরkuntumتُوعَدُونَপ্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলোtūʿadūna٣٠
যারা বলে- আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না, আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে।
৪১:৩১
نَحْنُআমরাnaḥnuأَوْلِيَآؤُكُمْতোমাদের বন্ধুawliyāukumفِىমধ্যেfīٱلْحَيَوٰةِজীবনেরl-ḥayatiٱلدُّنْيَاদুনিয়ারl-dun'yāوَفِىএবং মধ্যেwafīٱلْـَٔاخِرَةِ ۖপরকালেরl-ākhiratiوَلَكُمْএবং তোমাদের জন্যে (রয়েছে)walakumفِيهَاতার মধ্যেfīhāمَاযাmāتَشْتَهِىٓচায়tashtahīأَنفُسُكُمْতোমাদের মনanfusukumوَلَكُمْএবং তোমাদের জন্যেwalakumفِيهَاতার মধ্যে (রয়েছে)fīhāمَاযাmāتَدَّعُونَতোমরা দাবি করবেtaddaʿūna٣١
পার্থিব জীবনে আর আখিরাতে আমরাই তোমাদের সঙ্গী-সাথী। আর সেখানে (অর্থাৎ জান্নাতে) তোমাদের জন্য তোমাদের মন যা চায় তা-ই আছে; তোমরা যে জিনিসের আকাঙ্ক্ষা কর, তোমাদের জন্য সেখানে তা-ই আছে
৪১:৩২
نُزُلًۭاআপ্যায়নnuzulanمِّنْ(আল্লাহর) পক্ষ থেকেminغَفُورٍۢ(যিনি) ক্ষমাশীলghafūrinرَّحِيمٍۢপরম দয়ালু"raḥīmin٣٢
পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আল্লাহ)’র পক্ষ থেকে আপ্যায়ন হিসেবে।
৪১:৩৩
وَمَنْএবং কারwamanأَحْسَنُউত্তমaḥsanuقَوْلًۭاকথা (হতে পারে)qawlanمِّمَّنতার চেয়ে যেmimmanدَعَآডাকেdaʿāإِلَىদিকেilāٱللَّهِআল্লাহরl-lahiوَعَمِلَও কাজ করেwaʿamilaصَـٰلِحًۭاসৎṣāliḥanوَقَالَএবং বলেwaqālaإِنَّنِى"নিশ্চয়ই আমিinnanīمِنَঅন্তর্ভুক্তminaٱلْمُسْلِمِينَআত্মসমর্পণকারীদের (অর্থাৎ মুসলমানদের)"l-mus'limīna٣٣
কথায় ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম যে (মানুষকে) আল্লাহর দিকে আহবান করে, আর সৎ কাজ করে এবং বলে, ‘আমি (আল্লাহর প্রতি) অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’।
৪১:৩৪
وَلَاএবং নাwalāتَسْتَوِىসমান হয়tastawīٱلْحَسَنَةُভালোl-ḥasanatuوَلَاআর নাwalāٱلسَّيِّئَةُ ۚমন্দl-sayi-atuٱدْفَعْপ্রতিহত করোid'faʿبِٱلَّتِىসেই (জ্ঞান) দ্বারাbi-allatīهِىَযাhiyaأَحْسَنُউত্তমaḥsanuفَإِذَاফলে (দেখবে) তখনfa-idhāٱلَّذِىযেalladhīبَيْنَكَতোমার মাঝেbaynakaوَبَيْنَهُۥও তার মাঝেwabaynahuعَدَٰوَةٌۭশত্রুতা (আছে)ʿadāwatunكَأَنَّهُۥসে যেন (হয়ে যাবে)ka-annahuوَلِىٌّবন্ধুwaliyyunحَمِيمٌۭঅন্তরঙ্গḥamīmun٣٤
ভাল আর মন্দ সমান নয়। উৎকৃষ্ট দিয়ে মন্দকে দূর কর। তখন দেখবে, তোমার আর যার মধ্যে শত্রুতা আছে সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।
৪১:৩৫
وَمَاএবং নাwamāيُلَقَّىٰهَآতা (জুটে) লাভ করেyulaqqāhāإِلَّاএ ব্যতীতillāٱلَّذِينَযারাalladhīnaصَبَرُوا۟ধৈর্য্য ধরেṣabarūوَمَاএবং নাwamāيُلَقَّىٰهَآতা (জুটে) লাভ করেyulaqqāhāإِلَّاএ ব্যতীতillāذُوঅধিকারীdhūحَظٍّভাগ্যেরḥaẓẓinعَظِيمٍۢমহাʿaẓīmin٣٥
এ গুণ কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্যশীল, এ গুণ কেবল তারাই লাভ করে যারা মহা ভাগ্যবান।
৪১:৩৬
وَإِمَّاআর যদিwa-immāيَنزَغَنَّكَতোমাকে উস্কানি দেয়yanzaghannakaمِنَপক্ষ হতেminaٱلشَّيْطَـٰنِশয়তানেরl-shayṭāniنَزْغٌۭ(যে কোন) কুমন্ত্রণাnazghunفَٱسْتَعِذْতবে আশ্রয় চাওfa-is'taʿidhبِٱللَّهِ ۖআল্লাহরbil-lahiإِنَّهُۥতিনি নিশ্চয়ইinnahuهُوَতিনিইhuwaٱلسَّمِيعُসবকিছু শুনেনl-samīʿuٱلْعَلِيمُসবকিছুু জানেনl-ʿalīmu٣٦
শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।
৪১:৩৭
وَمِنْএবং মধ্যে হ'তেwaminءَايَـٰتِهِতাঁর নিদর্শনাবলীরāyātihiٱلَّيْلُ(রয়েছে) রাতal-layluوَٱلنَّهَارُও দিনwal-nahāruوَٱلشَّمْسُএবং সূর্যwal-shamsuوَٱلْقَمَرُ ۚও চাঁদwal-qamaruلَاনাlāتَسْجُدُوا۟তোমরা সিজদা করোtasjudūلِلشَّمْسِসূর্যকেlilshamsiوَلَاআর নাwalāلِلْقَمَرِচাঁদকেlil'qamariوَٱسْجُدُوا۟এবং তোমরা সিজদা করোwa-us'judūلِلَّهِআল্লাহর-ইlillahiٱلَّذِىযিনিalladhīخَلَقَهُنَّতাদেরকে সৃষ্টি করেছেনkhalaqahunnaإِنযদিinكُنتُمْতোমরা হও (বাস্তবিকই)kuntumإِيَّاهُতাঁরই শুধুiyyāhuتَعْبُدُونَতোমরা ইবাদত করোtaʿbudūna٣٧
তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল রাত, দিন, সূর্য আর চন্দ্র। সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না। সেজদা কর আল্লাহকে যিনি ওগুলোকে সৃষ্টি করেছেন যদি সত্যিকারভাবে একমাত্র তাঁরই তোমরা ইবাদাত করতে চাও।
৪১:৩৮
فَإِنِঅতঃপর যদিfa-iniٱسْتَكْبَرُوا۟তোমরা অহংকার করো (তবে কোন পরোয়া নেই)is'takbarūفَٱلَّذِينَকারণ যারা (আছে)fa-alladhīnaعِندَকাছেʿindaرَبِّكَতোমার রবেরrabbikaيُسَبِّحُونَতারা মহিমা ঘোষণা করছেyusabbiḥūnaلَهُۥতাঁরইlahuبِٱلَّيْلِরাতেbi-al-layliوَٱلنَّهَارِও দিনেwal-nahāriوَهُمْএবং তারাwahumلَاনাlāيَسْـَٔمُونَ ۩ক্লান্ত হয়yasamūna٣٨
অতঃপর তারা যদি অহংকার করে তবে (তারা জেনে নিক যে), তোমার প্রতিপালকের নিকটে যারা রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনায় লিপ্ত আছে, আর তারা কখনও ক্লান্তিবোধ করে না।[সাজদাহ]
৪১:৩৯
وَمِنْএবং মধ্য হ'তেwaminءَايَـٰتِهِۦٓতাঁর নিদর্শনাবলীরāyātihiأَنَّكَ(এগুলোও) যেannakaتَرَىতুমি দেখোtarāٱلْأَرْضَজমিকেl-arḍaخَـٰشِعَةًۭঊষর (তৃণলতাহীন)khāshiʿatanفَإِذَآঅতঃপর যখনfa-idhāأَنزَلْنَاআমরা বর্ষণ করিanzalnāعَلَيْهَاতার উপরʿalayhāٱلْمَآءَপানিl-māaٱهْتَزَّتْউথলিয়ে উঠেih'tazzatوَرَبَتْ ۚও স্ফীত হয় (আর শস্য জন্মে)warabatإِنَّনিশ্চয়ইinnaٱلَّذِىٓযিনিalladhīأَحْيَاهَاতা (অর্থাৎ যমীনকে) জীবিত করেনaḥyāhāلَمُحْىِঅবশ্যই জীবন দানকারীlamuḥ'yīٱلْمَوْتَىٰٓ ۚমৃতদেরকেl-mawtāإِنَّهُۥনিশ্চয়ই তিনিinnahuعَلَىٰউপরʿalāكُلِّসবkulliشَىْءٍۢকিছুরshayinقَدِيرٌসর্বশক্তিমানqadīrun٣٩
তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখ শুষ্ক অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা সতেজ হয় ও বেড়ে যায়। যিনি এ মৃত যমীনকে জীবিত করেন, তিনি অবশ্যই মৃতদেরকে জীবিত করবেন। তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।
৪১:৪০
إِنَّনিশ্চয়ইinnaٱلَّذِينَযারাalladhīnaيُلْحِدُونَবিকৃত অর্থ নেয়yul'ḥidūnaفِىٓমধ্যেfīءَايَـٰتِنَاআমাদের আয়াতগুলোরāyātināلَاনয়lāيَخْفَوْنَতারা অগোচরেyakhfawnaعَلَيْنَآ ۗআমাদের কাছেʿalaynāأَفَمَنতবে কি যাকেafamanيُلْقَىٰফেলা হবেyul'qāفِىমধ্যেfīٱلنَّارِআগুনেরl-nāriخَيْرٌউত্তমkhayrunأَمনাকিamمَّنযেmanيَأْتِىٓআসবেyatīءَامِنًۭاনিরাপদ অবস্থায়āminanيَوْمَদিনেyawmaٱلْقِيَـٰمَةِ ۚক্বিয়ামাতেরl-qiyāmatiٱعْمَلُوا۟তোমরা কাজ করোiʿ'malūمَاযাmāشِئْتُمْ ۖতোমরা ইচ্ছে করোshi'tumإِنَّهُۥনিশ্চয়ই তিনিinnahuبِمَاঐ বিষয়ে যাbimāتَعْمَلُونَতোমরা কাজ করছোtaʿmalūnaبَصِيرٌখুব দেখছেনbaṣīrun٤٠
যারা আমার আয়াতসমূহের অর্থকে ভিন্নপথে পরিচালিত করে, তারা আমার থেকে লুক্কায়িত নয়। যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সেই উত্তম না ঐ ব্যক্তি যে ক্বিয়ামতের দিন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে হাজির হবে? তোমাদের যা ইচ্ছে হয় করতে থাক। তোমরা যা কর তা তিনি (খুব ভালভাবেই) দেখেন।
৪১:৪১
إِنَّনিশ্চয়ইinnaٱلَّذِينَ(তারা সেই লোক) যারাalladhīnaكَفَرُوا۟মেনে নিতে অস্বীকার করেছেkafarūبِٱلذِّكْرِকুরআনকেbil-dhik'riلَمَّاযখনlammāجَآءَهُمْ ۖএসেছে তাদের কাছেjāahumوَإِنَّهُۥএবং নিশ্চয়ই তাwa-innahuلَكِتَـٰبٌঅবশ্যই কিতাবlakitābunعَزِيزٌۭশক্তিমানʿazīzun٤١
যারা তাদের কাছে উপদেশ বাণী আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে (তারা আমার থেকে লুক্কায়িত নয়)। এটা হল অবশ্যই এক মহা শক্তিশালী গ্রন্থ।
৪১:৪২
لَّاনাlāيَأْتِيهِতার কাছে আসতে পারেyatīhiٱلْبَـٰطِلُঅসত্যl-bāṭiluمِنۢথেকেminبَيْنِসামনেbayniيَدَيْهِতারyadayhiوَلَاআর নাwalāمِنْথেকেminخَلْفِهِۦ ۖতার পিছনkhalfihiتَنزِيلٌۭঅবতীর্ণ করা (এই কুরআন)tanzīlunمِّنْ(আল্লাহর) পক্ষ হ'তেminحَكِيمٍ(যিনি) প্রজ্ঞাময়ḥakīminحَمِيدٍۢসুপ্রশংসিতḥamīdin٤٢
মিথ্যা এর কাছে না এর সামনে দিয়ে আসতে পারে, না এর পিছন দিয়ে। এটা অবতীর্ণ হয়েছে মহাজ্ঞানী, সকল প্রশংসার যোগ্য (আল্লাহ)’র পক্ষ হতে।
৪১:৪৩
مَّا(হে নাবী) নাmāيُقَالُবলা হচ্ছেyuqāluلَكَতোমাকেlakaإِلَّاএ ব্যতীতillāمَاযাmāقَدْনিশ্চয়ইqadقِيلَবলা হয়েছেqīlaلِلرُّسُلِরাসূলগণকেlilrrusuliمِنপূর্বেminقَبْلِكَ ۚতোমারqablikaإِنَّনিশ্চয়ইinnaرَبَّكَতোমার রবrabbakaلَذُوঅধিকারীladhūمَغْفِرَةٍۢক্ষমার অবশ্যইmaghfiratinوَذُوআবার অধিকারীwadhūعِقَابٍশাস্তিদানেরʿiqābinأَلِيمٍۢকষ্টদায়কalīmin٤٣
তোমাকে তা-ই বলা হচ্ছে যা বলা হত তোমার পূর্ববর্তী রসূলদেরকে। তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমার অধিকারী, আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিদাতা।
৪১:৪৪
وَلَوْএবং যদিwalawجَعَلْنَـٰهُতা আমরা অবতীর্ণ করতামjaʿalnāhuقُرْءَانًا(অর্থাৎ) কুরআনqur'ānanأَعْجَمِيًّۭاঅনারবী (ভাষায়)aʿjamiyyanلَّقَالُوا۟অবশ্যই তারা বলতোlaqālūلَوْلَا"কেন নাlawlāفُصِّلَتْবিশদভাবে বিবৃত হলোfuṣṣilatءَايَـٰتُهُۥٓ ۖতার আয়াতগুলোāyātuhuءَا۬عْجَمِىٌّۭ(আশ্চর্য নয়) কি অনারবী (কুরআন)āʿ'jamiyyunوَعَرَبِىٌّۭ ۗআর আরবী (রাসূল ও তাঁর জাতি)"waʿarabiyyunقُلْবলোqulهُوَ"তা (অর্থাৎ কুরআন)huwaلِلَّذِينَ(তাদের) জন্যে যারাlilladhīnaءَامَنُوا۟ঈমান এনেছেāmanūهُدًۭىপথনির্দেশনাhudanوَشِفَآءٌۭ ۖও ব্যাধির প্রতিকার"washifāonوَٱلَّذِينَএবং যারাwa-alladhīnaلَاনাlāيُؤْمِنُونَঈমান আনেyu'minūnaفِىٓমধ্যে (আছে)fīءَاذَانِهِمْতাদের কানগুলোরādhānihimوَقْرٌۭএবং বধিরতাwaqrunوَهُوَএবং তাwahuwaعَلَيْهِمْতাদের উপর (আছে)ʿalayhimعَمًى ۚঅন্ধত্বʿamanأُو۟لَـٰٓئِكَঐ সব লোককেulāikaيُنَادَوْنَডাকা হচ্ছে তাদেরকে যেনyunādawnaمِنহ'তেminمَّكَانٍۭস্থানmakāninبَعِيدٍۢদূরবর্তী"baʿīdin٤٤
আমি যদি একে অনারব ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত- এর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল না কেন? আশ্চর্য ব্যাপার! কিতাব হল অনারব দেশীয় আর শ্রোতারা হল আরবীভাষী। বল- যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এ কুরআন সঠিক পথের দিশারী ও আরোগ্য (লাভের উপায়)। যারা ঈমান আনে না তাদের কানে আছে বধিরতা, আর এ কুরআন তাদের জন্য অন্ধত্ব। (যেন) বহু দূর থেকে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে।
৪১:৪৫
وَلَقَدْএবং নিশ্চয়ইwalaqadءَاتَيْنَاআমরা দিয়েছিলামātaynāمُوسَىমূসাকেmūsāٱلْكِتَـٰبَকিতাবl-kitābaفَٱخْتُلِفَঅতঃপর মতভেদ ঘটেছিলোfa-ukh'tulifaفِيهِ ۗতার মধ্যেfīhiوَلَوْلَاএবং না যদি (হতো)walawlāكَلِمَةٌۭএকটি কথাkalimatunسَبَقَتْপূর্ব নির্ধারিতsabaqatمِنপক্ষ হ'তেminرَّبِّكَতোমার রবেরrabbikaلَقُضِىَমীমাংসা করেই দেওয়া হতোlaquḍiyaبَيْنَهُمْ ۚতাদের মাঝেbaynahumوَإِنَّهُمْএবং তারা নিশ্চয়ইwa-innahumلَفِىঅবশ্যই মধ্যে আছেlafīشَكٍّۢসন্দেহেরshakkinمِّنْهُতা সম্বন্ধেmin'huمُرِيبٍۢবিভ্রান্তিকরmurībin٤٥
(ইতোপূর্বে) মূসাকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতে মতভেদ করা হয়েছিল। তোমার প্রতিপালক যদি পূর্বেই একটি কথা ঘোষণা করে না দিতেন, তাহলে তাদের মধ্যে (মতভেদের ব্যাপারে) ফয়সালা করেই দিতেন। তারা এ ব্যাপারে এক অস্থিরতাপূর্ণ সন্দেহে লিপ্ত।
৪১:৪৬
مَّنْযেmanعَمِلَকাজ করবেʿamilaصَـٰلِحًۭاসৎṣāliḥanفَلِنَفْسِهِۦ ۖ(সে করবে) তা নিজের জন্যেfalinafsihiوَمَنْএবং যেwamanأَسَآءَমন্দকর্ম করবেasāaفَعَلَيْهَا ۗ(পড়বে) তা তার উপরfaʿalayhāوَمَاআর ননwamāرَبُّكَতোমার রবrabbukaبِظَلَّـٰمٍۢঅত্যাচারীbiẓallāminلِّلْعَبِيدِদাসদের উপরlil'ʿabīdi٤٦
যে সৎকাজ করবে নিজের কল্যাণেই করবে. যে অসৎ কাজ করবে তার পরিণতি তাকেই ভোগ করতে হবে। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি যালিম নন।
৪১:৪৭
۞ إِلَيْهِতাঁরই কাছেilayhiيُرَدُّন্যস্ত রয়েছেyuradduعِلْمُজ্ঞানʿil'muٱلسَّاعَةِ ۚক্বিয়ামাতের (অর্থাৎ তিনিই জানেন কখন তা হবে)l-sāʿatiوَمَاএবং নাwamāتَخْرُجُবের হয়takhrujuمِنকোনোminثَمَرَٰتٍۢফলসমূহthamarātinمِّنْহ'তেminأَكْمَامِهَاতার আবরণakmāmihāوَمَاআর নাwamāتَحْمِلُগর্ভধারণ করেtaḥmiluمِنْকোনminأُنثَىٰনারীunthāوَلَاআর নাwalāتَضَعُপ্রসব করে সেtaḍaʿuإِلَّاএ ব্যতীতillāبِعِلْمِهِۦ ۚতাঁর জানা (আছে)biʿil'mihiوَيَوْمَএবং যে দিনwayawmaيُنَادِيهِمْতাদের তিনি ডেকে বলবেনyunādīhimأَيْنَ"কোথায়aynaشُرَكَآءِىআমার শরিকরাshurakāīقَالُوٓا۟তারা বলবেqālūءَاذَنَّـٰكَ"আপনাকে নিবেদন করছিādhannākaمَا(আজ) নেইmāمِنَّاআমাদের মধ্যেminnāمِنকোনোminشَهِيدٍۢসাক্ষী (শরিকের পক্ষে)"shahīdin٤٧
ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে সে সম্পর্কিত জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছেই আছে। কোন ফলই তার আবরণ থেকে বেরিয়ে আসে না, এবং কোন নারী গর্ভধারণ করে না আর সন্তান প্রসব করে না তাঁর অজ্ঞাতে। যে দিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন- আমার শরীকরা কোথায় (তোমরা যেগুলো বানিয়ে নিয়েছিলে)? তারা বলবে- আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, (আজ) আমাদের কেউ (আপনার শরীক থাকার ব্যাপারে) সাক্ষ্য দাতা হবে না।
৪১:৪৮
وَضَلَّএবং হারিয়ে যাবেwaḍallaعَنْهُمতাদের থেকেʿanhumمَّا(ঐসব ইলাহ) যাদেরকেmāكَانُوا۟তারাkānūيَدْعُونَডাকতে থাকতোyadʿūnaمِنপূর্বেminقَبْلُ ۖইতিqabluوَظَنُّوا۟এবং তারা ভাববেwaẓannūمَاনেইmāلَهُمতাদের জন্যে (আছে)lahumمِّنকোনোminمَّحِيصٍۢনিষ্কৃতিmaḥīṣin٤٨
পূর্বে তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে, আর তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের পালানোর কোন জায়গা নেই।
৪১:৪৯
لَّاনাlāيَسْـَٔمُক্লান্ত হয়yasamuٱلْإِنسَـٰنُমানুষl-insānuمِنথেকেminدُعَآءِদুআduʿāiٱلْخَيْرِধন-সম্পদের (অথবা কল্যাণের)l-khayriوَإِنআর যদিwa-inمَّسَّهُতাকে স্পর্শ করেmassahuٱلشَّرُّদুঃখদৈন্যl-sharuفَيَـُٔوسٌۭতখন হতাশ হয়fayaūsunقَنُوطٌۭনিরাশ (হয়)qanūṭun٤٩
মানুষ নিজের কল্যাণ কামনায় দু‘আ প্রার্থনা করতে ক্লান্ত হয় না, আর মন্দ যখন তাকে স্পর্শ করে, তখন সে নৈরাশ্যে ডুবে যায়।
৪১:৫০
وَلَئِنْকিন্তু অবশ্য যদিwala-inأَذَقْنَـٰهُআমরা তাকে আস্বাদন করাইadhaqnāhuرَحْمَةًۭঅনুগ্রহেরraḥmatanمِّنَّاআমাদের পক্ষ হতেminnāمِنۢমধ্য হতেminبَعْدِপরেbaʿdiضَرَّآءَবিপদাপদেরḍarrāaمَسَّتْهُ(যা) তাকে স্পর্শ করেছিলোmassathuلَيَقُولَنَّসে বলে অবশ্যইlayaqūlannaهَـٰذَا"এটাhādhāلِىআমারই (প্রাপ্য)līوَمَآএবং (বলে) নাwamāأَظُنُّমনে করি আমিaẓunnuٱلسَّاعَةَক্বিয়ামাতl-sāʿataقَآئِمَةًۭঘটবেqāimatanوَلَئِنএবং অবশ্যই যদিwala-inرُّجِعْتُপ্রত্যাবর্তিত হই আমিrujiʿ'tuإِلَىٰদিকেilāرَبِّىٓআমার রবেরrabbīإِنَّনিশ্চয়ইinnaلِىআমার জন্যেlīعِندَهُۥতাঁর কাছে (থাকবে)ʿindahuلَلْحُسْنَىٰ ۚঅবশ্যই খুব কল্যাণ"lalḥus'nāفَلَنُنَبِّئَنَّআমরা অথচ জানিয়ে দিবোইfalanunabbi-annaٱلَّذِينَযারাalladhīnaكَفَرُوا۟অস্বীকার করেছেkafarūبِمَاঐ বিষয়ে যাbimāعَمِلُوا۟তারা কাজ করেছিলোʿamilūوَلَنُذِيقَنَّهُمএবং তাদেরকে আমরা অবশ্যই আস্বাদন করাবোইwalanudhīqannahumمِّنْথেকেminعَذَابٍশাস্তিʿadhābinغَلِيظٍۢকঠিনghalīẓin٥٠
দুঃখ-বিপদ মানুষকে স্পর্শ করার পর আমি যখন তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্য অবশ্যই বলে- এটা আমার ন্যায্য পাওনা। ক্বিয়ামত যে সংঘটিত হবে আমি মোটেই তা মনে করি না। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হয়ই, তবে তাঁর কাছে আমার জন্য অবশ্যই কল্যাণ আছে। অতঃপর আমি কাফিরদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেব তারা (দুনিয়াতে) কী কাজ করেছিল। আর অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব।
৪১:৫১
وَإِذَآএবং যখনwa-idhāأَنْعَمْنَاআমরা অনুগ্রহ করিanʿamnāعَلَىউপরʿalāٱلْإِنسَـٰنِমানুষেরl-insāniأَعْرَضَসে মুখ ফিরিয়ে নেয়aʿraḍaوَنَـَٔاএবং এড়িয়ে চলেwanaāبِجَانِبِهِۦতার পাশ দিয়ে (অহংকার বশতঃ)bijānibihiوَإِذَاএবং যখনwa-idhāمَسَّهُতাকে স্পর্শ করেmassahuٱلشَّرُّদুঃখদৈন্যl-sharuفَذُوতখনfadhūدُعَآءٍপ্রার্থনারduʿāinعَرِيضٍۢদীর্ঘ (করে)ʿarīḍin٥١
আমি যখন মানুষকে নি‘মাত দেই তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর পাশ কেটে (আমার থেকে দূরে) সরে যায়। আর যখন মন্দ তাকে স্পর্শ করে, তখন সে লম্বা-চওড়া দু‘আ করতে থাকে।
৪১:৫২
قُلْ(হে নাবী) বলোqulأَرَءَيْتُمْ"তোমরা (ভেবে) দেখেছো কিara-aytumإِنযদিinكَانَহয় (এই কুরআন)kānaمِنْহতেminعِندِনিকটʿindiٱللَّهِআল্লাহরl-lahiثُمَّএরপরthummaكَفَرْتُمতোমরা অস্বীকার করছোkafartumبِهِۦতাbihiمَنْকেmanأَضَلُّঅধিক ভ্রান্ত (হতে পারে)aḍalluمِمَّنْতার চেয়েmimmanهُوَযেhuwaفِىমধ্যেfīشِقَاقٍۭবিরোধীতারshiqāqinبَعِيدٍۢঘোর (চলে গিয়েছে)"baʿīdin٥٢
বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ এ (কুরআন) যদি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসে থাকে, আর তোমরা সেটাকে অস্বীকার করতেই থাক, তাহলে সে ব্যক্তি ছাড়া অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে বিরোধিতায় বহু দূরে চলে গেছে?
৪১:৫৩
سَنُرِيهِمْতাদের আমরা শীঘ্রই দেখাবোsanurīhimءَايَـٰتِنَاআমাদের নিদর্শনāyātināفِىমধ্যেfīٱلْـَٔافَاقِদিগন্তসমূহেরl-āfāqiوَفِىٓএবং মধ্যেwafīأَنفُسِهِمْতাদের নিজেদেরanfusihimحَتَّىٰযতক্ষণ নাḥattāيَتَبَيَّنَসুস্পষ্ট হয়ে যায়yatabayyanaلَهُمْতাদের কাছেlahumأَنَّهُ(এ কথা) যে তাannahuٱلْحَقُّ ۗবাস্তবিকই সত্যl-ḥaquأَوَلَمْনয় কিawalamيَكْفِযথেষ্টyakfiبِرَبِّكَতোমার রবbirabbikaأَنَّهُۥযে তিনিannahuعَلَىٰউপরʿalāكُلِّসবkulliشَىْءٍۢকিছুরshayinشَهِيدٌসাক্ষীshahīdun٥٣
আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব দূর দিগন্তে (অর্থাৎ দূর পর্যন্ত ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হবে) আর তাদের নিজেদের মধ্যেও (অর্থাৎ কাফিররা নতজানু হয়ে ইসলাম কবূল করবে) যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সব কিছুরই সাক্ষী।
৪১:৫৪
أَلَآজেনে রাখোalāإِنَّهُمْতারা নিশ্চয়ইinnahumفِىমধ্যে (আছে)fīمِرْيَةٍۢসন্দেহেরmir'yatinمِّنবিষয়েminلِّقَآءِসাক্ষাতেরliqāiرَبِّهِمْ ۗতাদের রবেরrabbihimأَلَآজেনে রাখোalāإِنَّهُۥনিশ্চয়ই তিনিinnahuبِكُلِّসবbikulliشَىْءٍۢকিছুকেshayinمُّحِيطٌۢপরিবেষ্টনকারী (অর্থাৎ ঘিরে রেখেছেন)muḥīṭun٥٤
শুনে রাখ, এরা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহে পড়ে আছে। শুনে রাখ, তিনি সব কিছুকেই বেষ্টন করে আছেন।
—
—
—
—
লোড হচ্ছে…